সত্য কোনো স্থূল বস্তু নয় যা বহির্জগতের ধুলোময় পথে খুঁজে পাওয়া যায়।

সত্য কোনো স্থূল বস্তু নয় যা বহির্জগতের ধুলোময় পথে খুঁজে পাওয়া যায়।

সত্য কোনো স্থূল বস্তু নয় যা বহির্জগতের ধুলোময় পথে খুঁজে পাওয়া যায়; এটি একটি সূক্ষ্ম অবস্থা, একটি অস্তিত্বের স্তর, যা নিজের সত্তাকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্জিত হয়ে ওঠে। এটি কোনো দূরবর্তী আকাঙ্ক্ষার লক্ষ্য নয়, বরং একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া—যেখানে সত্যের স্রোতস্বিনীতে মিলিত হয়ে আমরা নিজেদের অস্তিত্বের মূল সত্তাকে জাগ্রত করি, যা মায়ার আবরণের অধীনে লুকিয়ে ছিল। যদি সত্যের রূপ ধারণ করতে চাও, তাহলে সত্যের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে একাত্ম হও: সত্যের বাক্য উচ্চারণ করো, যা হৃদয়ের গভীরতম কোণ থেকে উদ্ভাসিত হয়ে মিথ্যার অন্ধকার আবরণকে ছিন্নভিন্ন করে, এবং আত্মার স্বরূপকে প্রকাশ করে; সত্যের খাদ্য গ্রহণ করো, যা প্রকৃতির নির্মল উপহার—মাটির গর্ভে জন্ম নেওয়া শসা বা টমেটোর মতো ফল-সবজি, যা জীবনের প্রাণশক্তির মূল স্রোতে প্রবাহিত হয়ে শরীরের প্রতিটি কোষকে সত্যের স্পর্শে জাগ্রত করে, না হয় কৃত্রিমতার বিষাক্ততায় দূষিত করে; সত্যের দৃষ্টি অর্জন করো, যা বাস্তবতার অসীম গভীরতায় প্রবেশ করে, যেখানে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একটি অনন্ত সত্যের প্রতিফলন, না হয় কৃত্রিমতার মায়াজালে আটকে থেকে আত্মার আলোকে অন্ধকারে পরিণত করে; সত্যের শব্দ শোনো, যা জ্ঞানের প্রাচীন, অমর স্রোতস্বিনী থেকে উদ্ভাসিত হয়ে মনের গভীরতম স্তরে অনুরণিত হয়, না হয় কল্পনার আজগুবি কাহিনির অস্থায়ী আকর্ষণে বিভ্রান্ত হয়ে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হবে। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সত্যমানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করো—যারা অসত্যের ছায়াময় জগৎ ছাড়িয়ে আলোর চিরন্তন পথে অগ্রসর হচ্ছে, তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজের অস্তিত্বের মূলকে শক্তিশালী করো। এই যোগাযোগ কেবল বাহ্যিক নয়; এটি আত্মার গভীরতম স্তরে একটি সূক্ষ্ম সংযোগ স্থাপন করে, যেখানে সত্যের অমৃত-সমতুল্য প্রবাহিত হয়ে নিজেকে পুনরুদ্ধার করে, এবং জীবনের প্রতিটি কণাকে সত্যের সাথে একীভূত করে তোলে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তুমি এই সত্যের পথে পা রাখতে অনিচ্ছুক, কারণ তোমার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তোমাকে বন্দী করে রেখেছে। তুমি সত্যের খাদ্য গ্রহণ করতে চাও না; মাটির কোলে জন্ম নেওয়া শসা বা টমেটোর সরল, নির্মল স্বাদ তোমার অপছন্দ, কারণ এতে প্রকৃতির নির্মম, অদম্য সত্যতা লুকিয়ে আছে—যা তোমার সুবিধাবাদী, কৃত্রিম জীবনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে তোমার অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকে জাগ্রত করে। পরিবর্তে, তুমি কারখানার কৃত্রিম সৃষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ো—আইসক্রিমের মিষ্টি, ভুল মায়া বা বার্গারের তৈলাক্ত, অস্বাস্থ্যকর আকর্ষণ, যা ক্ষণিকের ভোগে মনকে প্রলুব্ধ করে কিন্তু আত্মার গভীরতম স্তরে একটি শূন্যতা এবং বিষাক্ততা সৃষ্টি করে, যা তোমাকে আরও দূরে সরিয়ে নেয় সত্যের পথ থেকে।

সত্য দেখতে তোমার ভালো লাগে না; তুমি সারাদিন ইউটিউব বা ফেসবুকের চকচকে, কৃত্রিম জগতে আটকে থাকো, যেখানে অসম্পূর্ণ ছবি এবং মিথ্যা কাহিনি তোমার দৃষ্টিকে বন্দী করে, বাস্তবের কঠোর, অনির্বাচিত আয়না থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং তোমার আত্মাকে একটি অস্তিত্বহীন ছায়ায় পরিণত করে। সত্য শুনতে তোমার গভীর অস্বস্তি হয়; প্রাচীন দিনের গভীর, অমর জ্ঞানগুলো তোমার কাছে আজগুবি এবং অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়, কারণ এগুলো তোমার বর্তমানের সীমাবদ্ধ, আত্মকেন্দ্রিক জগতকে চ্যালেঞ্জ করে এবং তোমার অভ্যন্তরীণ ভয়কে প্রকাশ করে। অথচ, এই সবকিছুর মধ্যেও তুমি সত্য চাও—একটি গভীর অসঙ্গতি যা তোমার অস্তিত্বের মূলে লুকিয়ে থাকা দ্বন্দ্বকে প্রকাশ করে, যেন তোমার আত্মা নিজের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সত্যের আহ্বান শুনছে কিন্তু মন এটিকে অস্বীকার করছে।

কেন এই সত্যের আকাঙ্ক্ষা তোমার আত্মার গভীরতম স্তরে জাগ্রত হয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তোমার নিজের অস্তিত্বের সবচেয়ে গভীর কোণে, যেখানে সত্য এবং অসত্যের সংঘাত চলছে চিরকাল। তুমি সত্য চাও কারণ তুমি নিজে সত্য নও—তোমার জীবন মিথ্যা, আপেক্ষিকতা এবং আত্মপ্রতারণার ঘন আবরণে আচ্ছন্ন, যা তোমার সত্তাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। সত্য তোমার কাছে নেই, কারণ তুমি এটি নিজের মধ্যে গড়ে তোলার সচেতন চেষ্টা করনি; পরিবর্তে, তুমি বাইরের অস্থায়ী খোঁজায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছ, যা তোমাকে একটি চিরন্তন অভাবের চক্রে আটকে রেখেছে। তুমি সুখ চাও কারণ নিজেকে নিয়ে তুমি গভীরভাবে অসুখী—একটি অস্তিত্বগত শূন্যতা যা ভোগ্যবস্তুর অবিরাম অন্বেষণে পূরণ করার চেষ্টায় আরও গভীর এবং অন্ধকার হয়ে ওঠে, কারণ সত্যিকারের সুখ আত্মার গভীরতম স্তরে লুকিয়ে আছে, না হয় বাহ্যিকের মায়ায়।

তুমি বিশ্বাস খোঁজো কারণ নিজেকে তুমি গভীরভাবে বিশ্বাস করো না; তোমার নিজের কাছে তুমি অবিশ্বাস্য, অস্থির এবং অসম্পূর্ণ, তাই তুমি বাইরের আদর্শের কাছে নির্ভরশীলতা খুঁজো—যা শেষ পর্যন্ত তোমার আত্মাকে আরও দুর্বল এবং নির্ভরশীল করে তোলে, একটি চক্র যা তোমার স্বাধীনতাকে কেড়ে নেয়। ভয় তোমার অস্তিত্বের অন্ধকার ছায়া, যা তোমার প্রতিটি মুহূর্তকে তাড়া করে বেড়ায় এবং তোমার সত্তার মূলকে কাঁপিয়ে দেয়, তাই তুমি অভয়ের আশ্রয় খোঁজো; কিন্তু এই খোঁজা কেবল বাহ্যিক নয়, এটি তোমার অভ্যন্তরীণ ভয়কে অস্বীকার করার এবং এর সাথে মোকাবিলা করার এক গভীর প্রক্রিয়া, যা সত্যের পথে অগ্রসর হওয়ার চাবিকাঠি। তুমি নিজেকে সম্মান করো না, কারণ তোমার আত্মার গভীরে একটি অসম্মানের অনুভূতি বাসা বেঁধেছে, তাই তুমি বিশ্বাস করো না যে তুমি অন্যদের কাছ থেকে সম্মানের যোগ্য; এই অভাব তোমার সম্পর্কগুলোকে বিষাক্ত এবং অসম্পূর্ণ করে তোলে, যেখানে প্রত্যাশা এবং হতাশা একসঙ্গে মিলিত হয়ে একটি গভীর যন্ত্রণার জাল গড়ে তোলে।

এই অভাবগুলো তোমাকে ব্যস্ত করে তোলে বাহ্যিক অনুষ্ঠান এবং ক্রিয়াকলাপে—পদ্মাসনের ভঙ্গিতে বসে প্রাণায়ামের শ্বাস নেওয়া, যা শরীরের গভীরতম স্তরে শক্তি জাগ্রত করার চেষ্টা করে কিন্তু আত্মার শূন্যতাকে অগ্রাহ্য করে; কাফেলা যাত্রায় অংশগ্রহণ, যা সম্প্রদায়ের সাথে যোগাযোগের ছদ্মবেশে নিজের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা লুকায়; বা মাজারে গিলাফ ছড়ানো, যা আধ্যাত্মিকতার নামে বাইরের শক্তির উপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়—কিন্তু এগুলো কেবলমাত্র পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যম, কারণ তুমি সত্য জীবনযাপনের গভীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছ, যা তোমার অস্তিত্বের মূলে একটি গভীর অসম্পূর্ণতা সৃষ্টি করে। এই ক্রিয়াকলাপগুলো তোমার অভ্যন্তরীণ শূন্যতাকে আড়াল করে, কিন্তু সত্যের স্পর্শ ছাড়া এগুলো শুধুমাত্র ছায়াময় এবং অস্থায়ী, যা তোমাকে আরও গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন করে।

তুমি প্রেম চাও কারণ তোমার আত্মার গভীরে প্রেমের একটি চিরন্তন অভাব—একটি সূক্ষ্ম শূন্যতা যা তোমার নিজের প্রতি দয়া এবং স্বীকৃতির অভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তুমি নিজের ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, মাতাপিতা বা প্রতিবেশীকে সত্যিকারের গভীর ভালোবাসো না; তোমার সম্পর্কগুলো দায়িত্ব, প্রত্যাশা এবং ভয়ের জালে আটকে আছে, যা প্রেমের সত্যিকারের স্রোতকে বাধাগ্রস্ত করে। অথচ, তুমি প্রেমের ডালি নিয়ে দরবারে উপস্থিত হও, যেন বাইরের কোনো দৈবী শক্তি তোমার এই গভীর অভাব পূরণ করবে এবং তোমার আত্মাকে পূর্ণতা দেবে। তুমি নিজেকে ভালোবাসো না, কারণ তোমার সত্তার মূলে একটি আত্ম-অস্বীকারের ছায়া পড়েছে, তাই তুমি জানতে চাও প্রেম কী—কিন্তু প্রেম হলো নিজের সত্তার সাথে একটি গভীর, অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, যা তোমার কাছে অজানা এবং অধরা, যেন একটি হারানো স্মৃতির অনুসন্ধান।

তোমার জীবন আত্মগ্লানির দ্বারা গভীরভাবে ভরে গেছে, একটি নীরব, অসহ্য যন্ত্রণা যা তোমাকে নিজের সত্তার মূল থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, যেন তুমি নিজের ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছ। ভোগ্যবস্তুর অবিরাম, অন্ধ অন্বেষণে তুমি গভীরভাবে ক্লান্ত, কারণ এগুলো ক্ষণিকের ক্ষুদ্র আনন্দ দেয় কিন্তু চিরন্তন শান্তি এবং পূর্ণতার থেকে দূরে সরিয়ে নেয়—একটি বিষাক্ত চক্র যা তোমার আত্মাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে এবং তোমার সত্তাকে শূন্য করে তোলে। এই গভীর ক্লান্তি এবং অস্তিত্বগত যন্ত্রণা থেকেই জাগে সত্যের খোঁজ, কিন্তু এই খোঁজা ব্যর্থ এবং অসম্পূর্ণ থাকবে যতক্ষণ না তুমি অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের দিকে ফিরবে, যা তোমার সত্তার মূলকে স্পর্শ করবে।

নিজেকে ভালোবাসো—একটি সচেতন, গভীর সিদ্ধান্ত যা তোমার অস্তিত্বের প্রতিটি স্তরকে শক্তিশালী করবে এবং আত্মগ্লানির ছায়াকে উজ্জ্বল করে; মানুষকে ভালোবাসো, যা সম্পর্কগুলোকে সত্যিকারের, গভীর যোগাযোগের সেতু বানাবে এবং তোমার বিচ্ছিন্নতাকে পূর্ণ করে; এবং প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করো, যা তোমাকে মহাজাগতিক সত্যের অসীম গভীরতার সাথে মিলিত করবে, যেখানে সবকিছু একটি চিরন্তন সংযোগে বাঁধা। এই তিনটি গভীর পদক্ষেপের মাধ্যমে, সত্য নিয়ে তোমার জল্পনাকল্পনা, অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দ্রুতই পরিসমাপ্ত হবে, এবং তুমি নিজেকে সত্যের চিরন্তন অবস্থায় খুঁজে পাবে—একটি জীবন যা শান্তি, পূর্ণতা এবং অসীম গভীরতায় পরিপূর্ণ, যেন তোমার আত্মা অবশেষে নিজেকে পেয়েছে।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ