কেহ একজন আছে যে তোমাকে সর্বক্ষণ দেখে চলছে।

কেহ একজন আছে যে তোমাকে সর্বক্ষণ দেখে চলছে।

কেহ একজন আছে যে তোমাকে সর্বক্ষণ দেখে চলছে এবং সে তোমার সমস্ত কিছুকে সর্বাবস্থায় পর্যবেক্ষণ করে চলছে। এখন তুমি হয়তো ভাবতেছো আমি কোনো ঈশ্বরের কথা বলতেছি যিনি তোমাকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করে চলছেন। নাহ বিষয়টি মোটে’ই তেমন নয়, আমি তোমাকে সেসব ঈশ্বরের কথা বলছিনা যারা দূর থেকে তোমাকে দেখে চলছেন।

মূলত আমি যার কথা বলছি সেও তুমি, কিন্তু এ তোমাকে সর্বক্ষণ নীরবে দেখে চলছে। ধরো তুমি অন্ধকার রাতে কিছু একটা দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়েছো এবং তুমি চিৎকার দিয়ে সেখান থেকে চলে গেছো। এবার সকালে কিছু লোক নিয়ে তুমি সেই ভয়ের স্থানে আসবে এবং সে ভয়ের ব্যাপারে লোকেদেরকে হুবহু বর্ণনা দিবে।

এখন একটু লক্ষ্য করে দেখলে বুঝতে পারবে যে, তুমি যখন ভয় পেয়েছিলে তখন কিন্তু তুমি শুধুমাত্র ভয়কে’ই সঙ্গে রেখেছিলে, কারণ ঐ সময় তুমি কি থেকে কি করেছিলে তা কিন্তু তুমি কিছু’ই টের পাওনি একমাত্র ভয় পাওয়া ছাড়া।

তবুও তুমি সকালে লোকেদের কাছে ঘটনার হুবহু বর্ণনা কি করে দিলে! কে উনি? যে এখন লোকেদের কাছে ভয়াবহ ঘটনার হুবহু বর্ণনা দিলো? আর রাতে’ই বা কে ছিলো যে ভয় পেয়েছে? কিছু কি অনুমান করতে পারো এই দুইয়ের অবস্থান দেখে? রাতে যখন তুমি ভয় পেয়েছিলে তখন এই ঘটনার বর্ণনাকারী কই ছিলো! তোমার থেকে দূরে? যদি দূরে’ই থাকে তাহলে এখন কার মুখ দিয়ে সে বর্ণনা করে?

মূলত এই বর্ণনাকারী’ই তুমি, মনে রাখবে তুমি যখন ভয়কে চিনতে না তখনও তুমি জীবিত ছিলে, তখন তুমি পাপ মুক্ত একটি শিশু ছিলে। এখন ভয় এসেছে এর মানে এই নয় যে এই ভয়ের অনুভূতিকারী তুমি, নাহ সে একটি মেকি সত্তা সে তুমি নয়, সে একটি পরগাছা যে তোমার উপর আশ্রয় নিয়েছে। আর ভয়ের বর্ণনাকারী হলো আসল তুমি যে এখন অনেক গভীরে চলে গেছে আর তোমার পরগাছাদের কার্যকারণ নীরবে দেখে চলছে এবং সময় মতন সব কিছুর’ই সাক্ষী দিচ্ছে।

আমি শুনেছি তুমি নাকি দুঃখী মানুষের সাথে কথা বললে প্রচুর ইমোশনাল হয়ে যাও? ঐদিন তুমি তোমার সাথীদের সাথে বলেছিলে, আমি দুঃখী মানুষের সাথে কথা বললে প্রচুর ইমোশনাল ফিল করি। এই যে ইমোশনাল ফিল করলে, এই ইমোশনাল কিন্তু তুমি নয়! এখন যিনি ‘আমি ইমোশনাল ফিল করি’ বলে সাক্ষী দিচ্ছে সে’ই মূলত তুমি যে তোমার সব রকমের ঘটনা দেখে চলেন এবং তোমাকে সর্বক্ষণ বিশ্লেষণ করে চলেছেন।

আমার বলা কথাগুলোকে তুমি শুধুমাত্র ধারণা হিসেবে নিওনা, তুমিও নিজের মাঝে এগুলো ঘটাতে চেষ্টা করো, তুমিও বাস্তবতার সাক্ষী হও। আমি তোমাকে তোমার বাস্তবতার উপর রাখতে চাই। তুমি যদি তোমাকে খুঁজে পেতে চাও এবং সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে চাও, তবে তোমাকে অবশ্যই নির্জনে কিছুটা সময় হলেও বসতে হবে।

আমি এখানে গোপন বলে কিছু রাখছিনা, তোমাকে তন্ত্রমন্ত্র পড়ার কথাও বলছিনা, তোমাকে এই করা লাগবে, সেই করা লাগবে এসব অযুহাতও দিচ্ছিনা,যা তোমাকে দিয়ে করা সম্ভব তাকে অসম্ভব ভাবে উপস্থাপন করে বিষয়কে খুব জটিল বানাতে আমার ইচ্ছা নেই। আমি তোমার কাছে প্রতিদিন রাতের একটা ফ্রী টাইম চাই, আর সে টাইম’টা হলো তুমি যখন তোমার সকল ব্যাস্ততাকে শেষ করে রিল্যাক্স হও, এবং পেটের ক্ষুধা ও অন্যান্য চাহিদা শেষ করে তুমি যে সময়টাতে মুক্ত হয়ে বিশ্রামে যাবে ঠিক সেই সময়ে’ই আমি তোমার কাছে মাত্র বিশ মিনিট সময় চাই।

তুমি শুধু একা হও, নির্জনতাকে বেছে নাও, যেখানে ইচ্ছা সেখানে’ই বসো এবং নির্জনতাকে উপলব্ধি করো, এবার তুমি তোমার সারাদিনের কর্মকে রিপ্লে করে দেখতে থাকো তার মাধ্যমে যে তোমার সকল কিছুর সাক্ষী হয়ে থাকে। একদম ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত এর মাঝে যা যা ঘটেছে তার সকল কিছু সে তোমাকে দেখিয়ে দিবে।

তুমি ভালো কাজ করো বা মন্দ কাজ করো তা নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করিওনা, দেখার মাঝে তুমি বিচারক হইওনা, তোমার বিচারমুখী হওয়ার সময় এখন নয়, এখন শুধু দেখে চলবে, আমি তোমাকে শুধু তার কাছ থেকে রিপ্লে করে দেখতে বলেছি বিচার বিশ্লেষণ করতে বলিনি। দেখার মুহুর্তে দোষ গুণ বিচার করতে গেলে’ই তুমি তাকে হারিয়ে ফেলবে যার দ্বারা তুমি এসব দেখতে ছিলে। তাই তোমাকে শুধু এসব দেখে যেতে হবে বিচার বিশ্লেষণ করা চলবেনা।

তুমি এভাবে কিছুদিন শুধু দর্শক হয়ে তোমাকে দেখতে থাকো। এর পরে তুমি কি করবে এবং তোমার মাঝে কি ঘটবে এসবের উত্তর তুমি নিজে’ই পাবে। প্রথম দুই চারদিন ‘হ্যাঁ-না’ নামক দুই মেকি সত্তা তোমাকে দ্বিধাদ্বন্দের মাঝে ফেলে দিবে। তুমি বসবে কি বসবেনা তা নিয়ে এই ‘হ্যাঁ-না’ দুইজনে তুমুল ঝগড়াঝাটি করবে, তবুও তুমি এই ‘হ্যাঁ-না’ দুই সত্তার দ্বন্দ্বকে পাত্তা না দিয়ে নির্জনে বসে যাবে।

বসা মাত্র’ই তোমাকে এরা অস্থির করে দিবে এবং তুমিও অস্থিরতা বোধ করবে, আমি তোমাকে বললাম ‘হ্যাঁ-না’ এই দুই সত্তা মেকি এবং এর একটিও তুমি নয়, কথা’টি মাথায় নিয়ে তুমি বসে যাও, আর তাদেরকে বলে দাও ‘তোমরা আমি নই’ আমি তোমাদের ইচ্ছায় কিছু’ই করতে চাইবোনা, আমি আমার সাক্ষী নিতে বসছি এবং আমি তা নিবো’ই।

তুমি যদি এটা করতে পারো তবে নিজেকে নিজের চোখে’ই দেখতে পাবে, হয়তো দেরি হবে আবার দেরি নাও হতে পারে কিন্তু দেখবে’ই, সারাদিন ফাঁপা বুলি শুনে লাভ হবেনা যতক্ষণ না তুমি তোমাকে দেখে চলছো। এটা করা এত সহজ হবেনা তবুও সহজ করে’ই দেখাতে চাই, এক গাট্টি ভয় নিয়ে এটা করতে যাওয়া যায় না। এখন তোমার সিদ্ধান্ত’ই চুড়ান্ত, তুমি বসবে কি বসবেনা তা একান্ত তোমার ব্যাপার।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ