কে মুসলিম?
মুসলিম তাঁরাই- “যারা বিশ্বাস করে এবং ভালো কাজ করে” (৪:৫৭, ১২২); “যারা প্রকাশ্যে ও গোপনে সৎকর্ম করে এবং অপরাধ ক্ষমা করে” (৪:১৪৯); “যারা পরস্পরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়” (১০৩:৩); “যারা পরস্পরের বন্ধু ও সাহায্যকারী” (৯:৭১); “যারা আমানত, ওয়াদা, চুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ করে” (২৩:৮); “যারা ন্যায়ের নির্দেশদানকারী, অন্যায়ের বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রক্ষাকারী” (৯:১১২); “যারা আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকে এবং সৎকাজ করে” (৪১:৩৩)।
মুসলিমদের প্রতি আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশ- “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে (কোরান) শক্ত করে ধরো ও বিভক্ত হয়ো না” (৩:১০৩); “যারা ধর্ম সম্বন্ধে নানা মতের সৃষ্টি করেছে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে সেসব অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না” (৩০:৩২); “তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ আসার পরও বিভক্ত হয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি করেছে” (৩:১০৫); “তোমরা ধর্মে দলাদলি ও মতভেদ সৃষ্টি করো না” (৪২:১৩)।
অথচ মসলিম নামধারী কিছুলোক “জেনেশুনেই কেবল পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যে দলাদলি ও মতভেদ ঘটাচ্ছে/ঘটাবে” (৪২:১৪)। জর্জ বার্নাড শ’ যথার্থই বলেছিলেন যে, মুসলিমদের অধঃপতনের কারণ হচ্ছে- তারা নিজেরাই কোরান মানে না। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ২২ বছরের একনিষ্ঠ সাধনায় যে মুসলিম জাতি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর ওফাতের পর থেকেই এঁরা বিলুপ্ত হতে থাকে। কোরান উপেক্ষা করে মুসলিমগণ এখন নানা দল-উপদলে বিভক্ত। রাফেজি, মোতাজেলি, শিয়া, সুন্নি, সুন্নি হানাফি, সুন্নি হাম্বলি, সুন্নি ওহাবি, কাদিয়ানি, শিয়া যায়েদি, শিয়া ওলা, শিয়া দুরুজ, শিয়া ইসনে আশারিয়া ইত্যাদি নানা দলে বিভক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদের ফেতনা-ফ্যাসাদে লিপ্ত।
নিজেদের মধ্যে দলাদলি ও মতভেদে লিপ্ত হয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, লিবিয়া, সিরিয়া, লেবানন, সোমালিয়া, ইয়েমেন, ইরান, ইরাক সর্বত্র মুসলিমগণ ইসলাম বা শান্তি থেকে দূরবর্তী হয়ে অশান্তির বিস্তার ঘটাচ্ছে। কোরানের একটি আয়াতও নেই যা শিয়া মুসলিম, সুন্নি মুসলিম, কাদিয়ানি কিংবা ওহাবিদের উদ্দেশে অবতীর্ণ হয়েছে। এসব শব্দই কোরানে নেই।
যাদের কথা কোরানে নেই, কোরান তাদের জন্য নয়। মহানবি (সা.) ইসলাম প্রচার করেছেন ৬১০ খ্রিস্টাব্দে আর ওহাবি মতভেদের উৎপত্তি ঘটেছে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮ শতকের শেষ দিকে মির্জা গোলাম আহাম্মদ প্রচার করেছেন কাদিয়ানি মতবাদ। মুহাম্মদ (সা.)- শিয়া, সুন্নি, ওহাবি, কাদিয়ানি মতবাদ প্রচার করেননি। তিনি নিজে ছিলেন শুধুই মুসলিম। সুতরাং তাঁর অনুসারীগণ শুধু ‘মুসলিম’ হবেন, শিয়া- সুন্নি-ওহাবি-কাদিয়ানি হবেন না, এটাই যুক্তিসংগত।
– ফরহাদ ইবনে রেহান






