আত্মা যখন মুক্তি লাভ করে তখন ঠিক কি ঘটে?

আত্মা যখন মুক্তি লাভ করে তখন ঠিক কি ঘটে?

একজন সাধক যখন সাধনার সকল দার পার করে স্রষ্টাতে বিলীন হয়ে যায় তখন ঠিক কি হয় তার সাথে? আজকে আমরা তা জানার চেষ্টা করবো।

মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি বলেছেন, আমি একটি বীজের মতই মাটিতে মরে গেছি। যাতে আমি একটি গাছ হয়ে জন্মাতে পারি। সাধনা করে মুক্তি লাভ করতে হলেও বীজের মতই নিজেকে বিলীন করতে হয়। ভুলে যেতে হয় আমি নামক সত্তাকে। আমাদের যাবতীয় সকল কর্মকাণ্ড এই আমিকে ঘিরে আমরা যত যাই করি সবকিছুই আমিকে খুশি করার জন্য আর আত্মমুক্তি লাভ করতে হলে এ আমিকে ত্যাগ করতে হবে আমিই আমাদের আমিত্য এ আমি আমাদেরকে প্রভুর মাঝে বিলীন হতে দেয় না সাধনার মাধ্যমে এ আমিকে ত্যাগ করে তুমির মাঝে বিলীন হলেই একটি আত্মা মুক্তি লাভ করে। এক জনমে এ কাজ সম্পন্ন করা বড়ই কঠিন। এখন আসি কি হয়? সাধনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে।

সাধনার এই সর্বোচ্চ পর্যায়কে একেক ধর্মে একেক নামে ডাকা হয়। তবে মূল জিনিস একই। ইসলামী সাধনার সর্বোচ্চ ধাপকে বলা হয় বাকাবিল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে বিলীন হওয়া। বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয় পরিনির্বাণ। হিন্দু ধর্মে মোক্ষ। আবার খ্রিস্টান ধর্মে বলা হয় ইউনিয়ন উইথ গড। ভাষাগত কিংবা ধর্মগত পার্থক্য হতে পারে। কিন্তু মূল জিনিস একই। সেটা হলো স্রষ্টাতে বিলীন হওয়া। যখন সাধক এ পর্যায়ে আসে তখন তার আমি নামক সম্পূর্ণ সত্তা স্রষ্টার মাঝে বিলীন হয়ে যায়। তার হাত পা সবকিছুই পরিণত হয় তার স্রষ্টাতে। এ পর্যায়ে সে স্রষ্টা হতে আলাদা কেউ নয়। আবার স্রষ্টাও সে হতে আলাদা কেউ নয়। পানির মাঝে যেমন চিনি মিশে গেলে তা আর দেখা যায় না ঠিক তেমনি সে স্রষ্টাতে মিশে যায়।

এটি এমন এক সুখকর অনুভূতি যে অনুভব করেছে সেই জানে। এটি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। প্রভুতে বিলীন হয়ে হযরত জুনাইদ বগদাদী রহমতুল্লাহ আলাইহি বলেছেন, আমার এ জুব্বার নিচে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই নেই। মনসুর হাল্লাজ বলেছেন, আমি সত্য। হযরত বাইজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহ আলাইহ বলেছেন, আনা সুবহানী অর্থাৎ সকল প্রশংসা আমার………..।

– AR Junayed Hasan

আরো পড়ুনঃ