আমার সচেতনতায় কারো উপর যদি জুলুম নেমে আসে!
আমার সচেতনতায় যদি কারো উপর জুলুম নেমে আসে তবে ঘুমন্ত’ই থাকতে চাই, কারণ এ ঘুম আমাকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিবে। আর যদি আমাকে অভিশাপ মুক্ত থাকার জন্য ঘুমন্ত’ই থাকতে হয়, তবে আমি উহার চেয়ে আমার মৃত্যুকে’ই কামনা করবো, আমি শুধু এটুকু’ই জানি যে অপরের জীবন বিষময় করে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করার চেয়ে মৃত্যু’ই উত্তম।
পৃথিবীর কাছে নতুন করে আর আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, আমি আমার প্রিয় জীবনের জন্য আফসোস ঠিক ততদিন পর্যন্ত’ই করেছি, যতদিন পর্যন্ত আমার অন্তরের কথা গুলো আমি অবধি সীমাবদ্ধ ছিলো। এখন আমার আশা পূর্ণ হয়েছে, কারণ আমার অন্তরের কথা গুলো এবার আমাকে অতিক্রম করে পরমেশ্বর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, এজন্য আমি আমার প্রিয় জীবনকে মুক্ত করে দিয়েছি৷
তবে অন্তরের কথা গুলো পরমেশ্বর পর্যন্ত পৌঁছে যাবার পরে বুঝতে পারলাম যে এতে মূলত আমার কোন লাভ হয়নি, কারণ আমি আমার জীবনকে রাখার জন্য আর কখনো’ই তো আকুতি করবোনা! তোমরা অতৃপ্ত ব্যাক্তিকে গঙ্গার তীরে দাঁড় করিয়ে দেখবে সে এটাকে মুত্তাকীদের স্বর্গীয় ঝর্ণা ধারা মনে করবে, পক্ষান্তরে তৃপ্ত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে দেখো তার নিকট আবে হায়াতের পানিও গুরুত্বহীন হয়ে আছে, স্বর্গবাসীদের তোমরা দুনিয়াতে এনে দেখো তাঁরা দুনিয়াকে নরক মনে করবে, আর নরকবাসীদের তোমরা দুনিয়াতে এনে দেখো তাঁরা দুনিয়াকে’ই স্বর্গ মনে করবে৷
আমি কখনো দেখিনি বজ্জাতের বীজ বপন করে কেহ মঙ্গলময় হয়েছে, আমি দেখেছি যারা দুনিয়াকে পরিহার করে নির্জনে চলে গিয়েছে তাঁরা হিংস্র পশুদের দাঁত ও মানুষের মুখ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, এবং নিজেদের হাত মুখ ও চোখ সংযত করে অপরের দোষ ত্রুটি বর্ণনা করা থেকে মুক্তি পেয়েছে৷
আমি আমার চক্ষুদ্বয়ে বহুবার কাপড়াবৃত করে রেখেছিলাম এবং কর্ণদ্বয়েও তুলা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলাম৷ কিন্তু যখন’ই আমি অনাথ ও হতভাগা মানুষের কথা মনে করেছি ঠিক তখন’ই আমি আমার চোখ ও কর্ণদ্বয় আবার উন্মুক্ত করে দিয়েছি তাদের প্রার্থনা দেখার জন্য এবং আর্তনাদ শোনার জন্য।
চোখের সামনে’ই আমি অনেক বীরপুরুষকে কাপুরুষ হতে দেখেছি, উহারা স্বার্থপরের মতন স্ত্রী সন্তানদেরকে বিপদে রেখে একাই দুনিয়া ত্যাগ করেছেন, নিশ্চয়’ই এ বিষয়ে তোমরাও অবগত আছো। যদি কেহ কাপুরষ হতে না চায় তবে তার উচিত সংসারে আবদ্ধ না হয়ে অন্য যেকোনো কাজে নিজেকে নিযুক্ত করা, তাতে অন্তত সে স্ত্রী সন্তানদের বিপদের কারণ হবে না৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






