ঈশ্বর প্রেমিক ও ধৈর্যশীল ভিক্ষারী

ঈশ্বর প্রেমিক ও ধৈর্যশীল ভিক্ষারী

কথাটা বড়ই মর্মস্পশী ও বেদনাদায়ক। ঈশ্বরকে আমরা ভিখারীই বলতে পারি। তিনি তার সৃষ্টিকুলে বিষেশ করে মানুষের মন পাবার জন্য প্রেম পাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে অধির হয়ে আছেন। যিনি সমগ্র জগতের প্রভু,যার হুকুমে,ইশারায় সমগ্র ভু-বায়ুমন্ডলে সব কিছুই তার আজ্ঞা বহন করে চলে, তার দৃষ্টিপাতে চাঁদ, সূর্য, পাহাড়, গ্রহ, তারা সবই কম্পিত হয় সেই তিনিই মহা শক্তি, মানুষের পিছে ছুটে চলেছেন আর বলছেন, তুমি কি আমাকে একটুও প্রেমের সহিত ডাকবে না, একটুও ভালোবাসবেনা, তুমি কি আমার একটু সন্ধান কখনও নেবে না? আমি তোমাদের জন্য সমগ্র ভুমন্ডোলে যা কিছু সব সৃষ্টি করেছি তোমাদের জন্য, আমি এ সব কিছুরই দাতা।

আমাকে কি তাদের চেয়ে বেশী। ভলোবাসবেনা? তখন আমরা সকলে বলি, আমি এখন খুব ব্যাস্ত। সংসারে আমার ওনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে, তোমার খোঁজ এ আমি এখন সময় দিতে পারবো না। আমার সে সময় নেই। তখন পরম স্রষ্ঠা বলেন বেশতো,আমি অপেক্ষা করে পথ চেয়ে বসে থাকবো। ঠিক এমন ভাবেই জগতে সদ্ গুরুরা অধির অপেক্ষায় বসে আছেন ভক্তকুলকে তরাবেন বলে।

তাইতো সাঁইজি ফকির লালন সাঁই বললেন-

“পারে কে যাবি তোরা আয়না ছুটে।
দয়াল চাঁদ মোর দিচ্ছে
খেওয়া ভবের ঘাটে।
দয়াল বড় দয়াময়
পারের কড়ি নাহি সে লয়
এমন দয়াল মিলবে কোথায়
এই ললাটে।।”

কিন্তু সাইজি এ কথাও বলেছেন, “সেরে শুরু মনের দেড়ী ভার দেনারে” মনে গলদ থাকতে হবে না।

এখন উপায় ? আমরাতো সংসার মায়া জালে চিত্যচান্চল্য ,ভব যাতনা নিয়ে সারাক্ষণ আমার, আমার, নিয়ে ব্যাস্ত থাকি।ঈশ্বরতো আমাদের সংসার দিয়েছেন,পরিবার দিয়েছেন।

হ্যাঁ এটা দিয়েছেন অধিকাংশ সকলেরই। ইহার ভিতরেই মঙ্গল ও সত্ কর্ম লুকায়ে আছে। সৃষ্টিকর্তা পরিবার পরিজন ও সমাজের মধ্যে আমাদের স্থাপন করেন কারণ স্বার্থ পরতা ত্যাগ ও আশেপাশের সবার ভালো মন্দ ভাবার সুযোগ করে দেন। বন্ধুত্বের মাধ্যমে আমাদের সহানুভূতি আরো বিস্তৃত হবার পথ দেখান।তবে এখানেই শেষ না আমাদের প্রেমকে উত্তরোত্তর বর্ধিত করবার চেষ্টা করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তা সর্বত্র, সকল প্রানীকে ঘিরে স্বগীয় হয়ে ওঠে। তানাহলে জগতঈশ্বরের সাথে আমাদের একত্ব স্থাপিত হবে কি ভাবে?
চিত্তচান্চল্য আর মায়া মহো কি করে কাটায়?

চিত্ত চাণ্চল্য, মায়া মোহের বেড়া ধ্যানের দ্বারা অপসারিত হয়। মানুষের চিতশক্তি তখন অনন্তে প্রসারিত হয়ে সর্বব্যাপিত্বে লীন হয়। জীবন একটা স্রষ্ঠার লিখিত মহত নাট্যকলা। বেশী করে ধ্যান করলে, আমাদের বোধি, স্বজ্ঞার অপরূপ পাত্র আরও বড় করে তোলা যাবে আর তাহলেই সেই অনন্ত জ্ঞান সমুদ্রকে ধারন করা যাবে।

– ফকির ইশরাখউদ্দিন রাজু সাঁই

আরো পড়ুনঃ