আমার অভিযোগ তোমাদের নিয়ে।
তোমাদের ধর্ম কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয় নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমার অভিযোগ তোমাদের নিয়ে। তোমরা এতটাই নির্বোধ হয়ে গিয়েছো যে তোমরা তোমাদের সেই প্রতারক ধর্ম ব্যবসায়ীদের কথা অন্ধের মতো বিশ্বাস করছো। তোমাদের এই অন্ধ বিশ্বাস কে কাজে লাগিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে তোমাদের সর্বস্ব।
আর এদিকে যারা বার বার তোমাদের দরোজায় সত্য নিয়ে এসে কড়া নাড়ছে তোমরা তাদের গ্রহণ করছো না। তাঁরা তো তাদের জন্য আসেন নি। তারা এসেছেন তোমাকে তোমারই পরিচয় দিতে। তুমি যে নির্বোধ তুমি তা বুজতেই পারছো না।
এখানে দোষ আমি তোমাকে দিচ্ছি না, আবার তোমাকেই দিচ্ছি। তুমি যে মোল্লা, পুরোহিত, আর পাদ্রীর কথা একের পর এক শুনে যাচ্ছো এটা তোমার মস্তিষ্ককে বিকৃত করে ফেলছে। তুমি তাদের বর্ণনাকৃত পরকালীন ভোগ বিলাসের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছো
এটা কি পথভ্রষ্ট হওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ নয় যে, তুমি এখন কম পাপ করে পরে আরো বেশি করতে পারবে বলে চুপ হয়ে আছো? ইহা কি তোমার পরকালীন নারী, হুর কিংবা অপ্সরা ভোগ করার বিষয়টি নয়। পরে বেশি ভোগ করবে বলে তুমি এখন চুপ থাকছো।
তুমি কোন ধর্মের সেটা নিয়ে আমার তো কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমি তো তোমাকে সেটা জিজ্ঞেস করি নি। তবে তুমি যে ধর্মকেই বিশ্বাস করো না কেনো তোমার ধর্ম তো তোমাকে ভোগ করার শিক্ষা দেয় নি। এ শিক্ষা দিয়েছে তোমাদের মন্দিরের, মসজিদের, গির্জার সেই নির্বোধ ধার্মিকরা।
তোমরা তোমাদের অন্ধ বিশ্বাসের কারণে দূরে সরে যাচ্ছো। আমি বলছি না তোমরা তোমাদের স্রষ্টা থেকে দূরে সরে যাচ্ছো। প্রকৃত অর্থে তোমরা তোমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছো। আর যেদিন তুমি এটা বুঝতে পারবে সেদিন তুমি তোমার ঈশ্বরকে হারানোর বেদনায় না বরং নিজেকে হারানোর বেদনায় মাতাল হয়ে যাবে।
তোমরা দেরি করে ফেলছো। এখনো তো সময় আছে। তোমার দুয়ার খুলে দেখো সত্যের বার্তা নিয়ে সে এখনো দাঁড়িয়ে আছে তুমি গ্রহণ করবে বলে। সত্যের সাগরে অবগাহন করো আর মিশে যাও তোমার স্রষ্টার মাঝে।
একবার দেখো আসলে তোমার স্রষ্টা কে। একবার দেখো তুমি আর তোমার স্রষ্টার মাঝের দেয়াল কে ভেঙে। তুমি বিস্মিত হবে। তুমি এতটাই অবাক হবে তুমি আর তা করো কাছে প্রকাশ করতে পারবে না।
এমনই অবাক হয়েছিলেন জালালউদ্দিন রুমি, জুনায়েদ বোগদাদী, মনসুর হাল্লাজ, শ্রী লোকনাথ, শঙ্করাচার্য, বায়েজিদ বোস্তামী।
– Junayed Hasan Shuvo






