মানুষই সম্ভবত ঈশ্বরের নিকট সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করেন।

মানুষই সম্ভবত ঈশ্বরের নিকট সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করেন।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মাঝে একমাত্র মানুষই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করেন ঈশ্বরের নিকট।
কারণ মানুষের কামনা-বাসনার শেষ নেই।

কিছু একটা হলে’ই, হে ঈশ্বর আমাকে এটা দাও, হে ঈশ্বর আমাকে ওটা দাও, আমাকে বিপদ থেকে মুক্ত করো, আমাকে শান্তি দাও, আমাকে রোগ থেকে মুক্তি দাও। প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের নিকট এসব কিছু চেয়ে খুব একটা কার্যকরী ফল পাওয়া যায় না, কারণ নিরাকার ঈশ্বর তোমাদের এই চাওয়া পাওয়া পূর্ণ করার জন্য বসে নেই, সে নিরাকার থাকা অবস্থায় এসব সাহায্য করেন না।

তোমরা প্রার্থনা করে ঈশ্বরের নিকট কি চাইবে সে ধারণাও তোমাদের মাঝে নেই। তোমরা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করে যাহা চাইতেছো তাহার সকল কিছুর সমাধান মানুষেরা’ই করে থাকেন, কোনো ঈশ্বর নয়। আর যদি মানুষ’ই তোমাদের এসকল সমস্যার সমাধান করে থাকেন তা হলে আর ঈশ্বরের নিকট অবান্তর প্রার্থনা করার দরকারটা কি?

নিরাকার ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করে কিছু না চেয়ে বরং তোমরা মানুষের নিকট চাও, কারণ এসব সমস্যার সমাধান মানুষেরা’ই দিয়ে থাকেন। তোমাদের জাগতিক বস্তু জাগতিক সুখ বিষয়ের সকল চাওয়াকে ঈশ্বরের তুলনায় বিশুদ্ধ মনের মানুষেরা’ই বেশি পূর্ণ করে থাকেন।

ঈশ্বরের নিকট এসব জাগতিক বস্তু জাগতিক সুখ চাওয়া অযৌক্তিক ব্যাপার। মূলত নিরাকার ঈশ্বরের নিকট তোমাদেরকে আরও উচ্চতর জিনিষ চাইতে হইবে। নিরাকার ঈশ্বরের নিকট তোমরা তোমাদের প্রজ্ঞার জন্য প্রার্থনা করো যেন তোমরা নিরাকার ঈশ্বরকে বুঝতে পারো, তোমরা নিরাকার ঈশ্বরের নিকট প্রেমের জন্য প্রার্থনা করো যেন সর্বময় ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজে পাও, তোমরা ঈশ্বর ভক্তির জন্য প্রার্থনা করো যেন তার মহিমায় মহিমান্বিত হতে পারো।

আর যখন তোমরা আধ্যাত্মিকতার চুড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছে যাবে, তখন আর তোমরা কোনো কিছু পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করতে চাইবেনা।

– বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ