রুমি ও তার হতাশাগ্রস্ত শিষ্যের শিক্ষনীয় ঘটনা

রুমি ও তার হতাশাগ্রস্ত শিষ্যের শিক্ষনীয় ঘটনা

একদিন এক শিষ্য মনখারাপ করে মাওলানা রুমির সামনে এসে বসলো। চোখে জল, মুখে হতাশার ছায়া। তারপর শিষ্য বললো,- “হুজুর, আমার ভিতরটা একেবারে ভেঙে গেছে। কেউ আমার কষ্ট বোঝে না। আর ভালো লাগছে না কিছু, মনে হচ্ছে আর পারছি না।, এই যন্ত্রনা সইবার মতো আর শক্তি নেই।”

এবার মাওলানা রুমি গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে কোমল স্বরে বললেন, – “তুমি কি জানো, একটা বাঁশি সুর তুলতে শেখে কীভাবে?”

শিষ্য কিছু না বলে মাথা নেড়ে জানতে চাইলো।

রুমি বললেন, – “বাঁশটিকে প্রথমে কেটে আনা হয়। তারপর তার ভেতরটা ফাঁকা করে দেওয়া হয় সব গিঁট এবং সব জঞ্জাল ফেলে দেওয়া হয়। এই ফাঁকা করাটা কোনো সহজ কাজ নয়, এটা ব্যথার ও কষ্টের। কিন্তু জানো? ঠিক এই ফাঁকা হওয়ার কারণেই সে বাঁশি হয়ে ওঠে, আর তখনই সে সুর তুলতে পারে।”

এবার রুমি একটু থেমে আরও কোমল সূরে বললেন,
– “ঠিক একইভাবে, যে হৃদয়ে ব্যথা জমে, যে হৃদয় শূন্য হয় একমাত্র সেই হৃদয়ের ডাকেই প্রভু সাড়া দিতে পারে। প্রভু যখন কাউকে নিজের দিকে ডাকেন, তার আগে তাঁর হৃদয়কে একটু ভেঙে, ফাঁকা করে দেন – যাতে তাঁর ডাক ভেতরে পৌঁছায়। তাই মন খারাপ কোরো না। তুমি যে ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছো, সেটাই তোমার আত্মার সুর হয়ে উঠছে।”

এই কথাগুলো শুনে শিষ্যের হতাশা দূর হয়ে গেলো, আনন্দে চোখে জল নেমে এলো, একটা নতুন আশা জেগে উঠল তার মনে- সে বুঝতে পারলো ভেতরের এই কষ্ট, শূন্যতা ও হাহাকারই একদিন বাঁশির মতো সুর তুলবে।

আরো পড়ুনঃ