আধ্যাত্মিকতা বনাম বাণিজ্যিকতা

আধ্যাত্মিকতা বনাম বাণিজ্যিকতা

আধুনিক বিশ্বে ঈশ্বরের ধারণা যেন এক বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঈশ্বরের নামে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, যেন তিনি কোনো পণ্যের ব্র্যান্ড। এই প্রচার কার্যক্রমে ঈশ্বরের আধ্যাত্মিকতা নয়, বরং তার নামের বাণিজ্যিক ব্যবহারই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

ঈশ্বরের বাণিজ্যিকীকরণ আজকের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এক ধরণের বাজারনীতি। ঈশ্বরের নামে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন ঈশ্বর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পণ্য—বিশ্বাস করো, দান করো, অংশ নাও—সওয়াব বাড়বে, স্বর্গ পাবে! এই ব্যবসায় ঈশ্বর হয়ে গেছেন এক অদৃশ্য লাভজনক ব্র্যান্ড, যার মূল স্লোগান—“আমাদের সেবায় বিশ্বাস রাখুন, আপনার আখিরাত নিশ্চিত।”

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ঈশ্বরের বিপণন

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঈশ্বরের নামে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রভাব ও সম্পদ বৃদ্ধি করা। এই প্রক্রিয়ায় ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে মানুষকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, যা মূলত এক ধরনের বিপণন কৌশল।

আধ্যাত্মিকতা হলো অন্তরের বিষয়, যা ব্যক্তির আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে অর্জিত হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঈশ্বরের নামে যে প্রচার চলছে, তা আধ্যাত্মিকতার বিপরীত। এই প্রচার কার্যক্রমে ঈশ্বরের প্রকৃত রূপ হারিয়ে যাচ্ছে, এবং তিনি শুধুমাত্র একটি প্রচারিত নামে পরিণত হচ্ছেন।

ঈশ্বরের প্রকৃত উপলব্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসা, চিন্তা ও ধ্যান। এটি কোনো প্রচার বা বিপণনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে হলে আমাদের নিজেদের অন্তরে তাকাতে হবে, এবং তার অস্তিত্ব অনুভব করতে হবে।

আজ আমাদের প্রয়োজন ঈশ্বরের নামে কম প্রচার, বেশি উপলব্ধি। ধর্মের নামে পণ্যায়ন বন্ধ করে হৃদয়ের গভীরতাকে সম্মান জানাতে হবে। ঈশ্বর যদি থেকে থাকেন, তবে তিনি মানুষের ভিতরেই লুকিয়ে আছেন—প্রেমে, দয়ায়, নিরব অনুভবের গভীরে।

লেখা- ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ