আত্মবিশ্বাস- অস্তিত্বের মৌলিক শক্তি
“আত্মবিশ্বাস” শব্দটি যতটা সহজ শোনায়, এর ভেতর নিহিত রয়েছে অস্তিত্বের গভীরতম উপলব্ধি। আত্মবিশ্বাস মানে শুধু নিজের উপর আস্থা নয়—এটি একটি আত্মিক উপলব্ধি, যা ব্যক্তি এবং তার চেতনার মধ্যে সম্পূর্ণ সমন্বয় ঘটায়।
যখন আমরা বলি “আমি বিশ্বাস করি”, আমরা আসলে কাকে বিশ্বাস করি? আমাদের চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা, বা স্মৃতিগুলো কি ‘আমি’? না—এই সব কিছু ‘আমার’, কিন্তু ‘আমি’ নয়। ‘আমি’ হল সেই মৌলিক চেতনা, যার মাধ্যমে এই সব কিছু উদ্ভাসিত হয়।
সেই ‘আমি’-র উপর, সেই চেতনার উপর বিশ্বাসই হলো প্রকৃত আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস মানে নিজের অস্তিত্বের গভীরতায় নেমে, সেই কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছানো, যেখান থেকে সমস্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চালিত হয়। এই আত্মবিশ্বাসই জন্ম দেয় বিশ্বাসের, সাহসের, এবং চূড়ান্তভাবে—ভালোবাসার।
আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি কখনও বাইরের কোন ভয় বা স্বীকৃতির উপর নির্ভর করে না। তার শক্তির উৎস তার ভিতরে, তার নিজের ‘আমি’। এজন্যই আত্মবিশ্বাস ছাড়া ঈশ্বরবিশ্বাসের ভিত্তি নড়বড়ে—যে নিজেকেই চেনে না, তার জন্য ঈশ্বর কেবল একটি কাল্পনিক ধারণা।
আত্মবিশ্বাসী হওয়া মানে, নিজের চেতনার শক্তিতে বিশ্বাস রাখা। এই শক্তি যখন জেগে ওঠে, তখন মানুষ কেবল নিজেকে নয়, অন্যদেরও দেখতে শেখে তাদের আসল রূপে। সে আর বাইরের আড়ালে বিভ্রান্ত হয় না।
এইজন্য বলা হয়—যে আত্মবিশ্বাসী, সে সকলকে বিশ্বাস করতে পারে। সে জানে, অন্যের মাঝেও সেই একই চেতনা কাজ করছে, যা তার মধ্যে আছে। তাই সে বিশ্বাস করে; এবং সেই বিশ্বাসই সমাজে আনে সম্পর্ক, সাম্য এবং শান্তি।
আত্মবিশ্বাস কোনো মানসিক অভ্যাস নয়; এটি এক আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। নিজেকে জানার মধ্য দিয়েই সমস্ত বিশ্বাসের জন্ম হয়। এই জানাই হলো আলোকপ্রাপ্তি, এই জানাই ঈশ্বরের উপলব্ধি।
–ফরহাদ ইবনেরেহান






