জলাধারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এক জিরাফ (শিক্ষনীয় গল্প)

জলাধারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এক জিরাফ (শিক্ষনীয় গল্প)

একটা ছোট্ট জলাধারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এক জিরাফ। পানি তার গলা পর্যন্ত উঠেছে। উপরে দেয়ালের কিনারায় বসে আছে একটি বিড়াল। বিড়াল জিজ্ঞেস করল, “পানি কত?” জিরাফ হেসে বলল, “বেশি না, গলা পর্যন্ত!”

এই উত্তর শুনে আমরা হাসি। কিন্তু হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর সত্য একই পানির গভীরতা, কিন্তু দুই প্রাণীর অনুভব সম্পূর্ণ আলাদা। জিরাফের কাছে যা “গলা পর্যন্ত”, বিড়ালের কাছে তা ডুবে যাওয়ার সমান। জীবনও ঠিক এমনই। আমরা সবাই একই পৃথিবীতে বাস করি, কিন্তু সবার উচ্চতা, সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম আর স্বপ্ন এক নয়। কারও কাছে যে সমস্যাটা সামান্য, অন্য কারও কাছে সেটাই ভীষণ কঠিন। কারও সাফল্য সহজ মনে হয়, কারণ আমরা তার “উচ্চতা” দেখি না তার পরিশ্রম, প্রস্তুতি, বা মানসিক শক্তির গভীরতা বুঝি না।

তুলনা তাই বিপজ্জনক। তুলনা আমাদের অন্ধ করে দেয় নিজের স্বতন্ত্রতা থেকে। বিড়াল যদি জিরাফের কথায় বিশ্বাস করে পানিতে নামে, তবে তার বিপদ নিশ্চিত। আবার জিরাফ যদি বিড়ালের সীমা দিয়ে নিজেকে মাপে, তবে সে নিজের শক্তিকেই অস্বীকার করবে।

প্রতিটি মানুষ তার নিজের অবস্থানে অনন্য। কারও জীবন-সংগ্রাম ছোট নয়, কারও অর্জন অকারণ নয়। আমরা যদি অন্যের মাপকাঠি দিয়ে নিজেকে বিচার করি, তবে নিজের ভেতরের সম্ভাবনাকে অবমূল্যায়ন করি।

তাই প্রয়োজন নিজের উচ্চতা জানা, নিজের গভীরতা বোঝা। পৃথিবীর পানি সবার জন্য সমান নয় কারও কাছে তা হাঁটু পর্যন্ত, কারও কাছে বুক পর্যন্ত, কারও কাছে গলা পর্যন্ত। কিন্তু সেটাই স্বাভাবিক। স্বতন্ত্রতাই সৌন্দর্য। তুলনা নয়, উপলব্ধিই মানুষকে পরিণত করে।

– শ্যামলী আক্তার

আরো পড়ুনঃ