হজরত সোলায়মান শাহ লেংটা ওরশে যাওয়ার একটি ঘটনা।

হজরত সোলায়মান শাহ লেংটা ওরশে যাওয়ার একটি ঘটনা।

সম্ভবত ১৯৭৮ সালের একটি ঘটনা। আমি এবং আমার কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা বন্ধু মিলে চাঁদপুর জেলার মতলব খানার বেলতলিতে হজরত সোলায়মান শাহ লেংটার ওরশে যাচ্ছিলাম নারায়ণগঞ্জের লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে। দেখতে পেলাম বহু ভক্ত বেলতলি যাচ্ছেন।

টার্মিনালে প্রবেশ করার কাছেই ১০-১২ জন মাননীয় মোল্লা মাইক দিয়ে নসিহত করছেন এই বলে যে, সোলায়মান শাহ্ লেংটার শরিয়ত তো দূরের কথা সারা শরীরে একটা সুতাও ছিল না। তার মাজারে ভুলেও যাবেন না। যারা যায় তারা মাজার পূজা করে, আল্লাহর পূজা করেনা। তাই এরা সারিসারি জাহান্নামে চলে যাবে।

আমি একটু দাঁড়িয়ে শুনছিলাম। আমার বাল্যবন্ধু জহিরুল হক একজন সি.এস.পি অফিসার ছিলেন, সে আমাকে ধমক দিয়ে বলল, মোল্লাদের কথা মোল্লারা বলে যাক, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা যাবার তারা যাবেই। মনে মনে ভাবলাম এই পরম শ্রদ্ধেয় মোল্লারা হেদায়েত করছে আর যারা যাবার তারা বেলতলির দিকে যাচ্ছে।

লঞ্চে উঠলাম আর চিন্তা করলাম যে বাংলার অদ্বিতীয় বাউল পীরে কামেল শাহ্ সুফি বাবা আলফু দেওয়ান একটি গান রচনা করেছিলেন। সেই গানটি তুলে ধরলাম:-

এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া
এত যত্নে গড়াইয়াছে সাঁই।
ছায়াবাজী পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি পুতুলের কি দোষ?
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি
তুমি খাওয়ালে আমি খাই।

তুমি বেহেস্ত তুমি দোজখ
তুমি ভালো-মন্দ
তুমি ফুল তুমি ফল
তুমি তাতে গন্ধ।
আমার মনে এই আনন্দ
কেবল আল্লাহ তোমায় চাই।

তুমি হাকিম হইয়া হুকুম কর
পুলিশ হইয়া ধর সর্প হইয়া দংশন কর,
ওঝা হইয়া ছাড়।
তুমি বাঁচাও তুমি মার
তুমি বিনে কেহ নাই।

শয়তান আর আদমের যে লীলাখেলা চলছে উহাই আমরা জ্ঞানী গাধার মতো বহন করে চলছি। ইহারি নাম জার্মান দার্শনিক হেগেলের দ্বান্দ্বিক দর্শন। একটু বাড়িয়ে বলতে চাই থিসিস মোল্লারা, এন্টিথিসিস: মাজার পূজারিরা, সিনথিসিস হলো ভাল আর মন্দের লীলাখেলা।

চেরাগ এ জান শরীফ,
ডা: বাবা জাহাঙ্গীর বা ঈমান আল সুরেশ্বরী

আরো পড়ুনঃ