তাহাদের জন্যই এই কোরান যাহারা ধর্ম বিষয়ে জাগ্রত।
তাহাদের জন্যই এই কোরান যাহারা ধর্ম বিষয়ে জাগ্রত। তাই তাহারা সত্যিকার জীবনলাভ করিয়া মৃতের দেশ এই দুনিয়ার বন্ধন হইতে মুক্ত হইয়া জীবন্ত হইয়া উঠিতে চায়। ফানার জগৎ হইতে বাকার জগতে যাইতে চায়। ‘যে ব্যক্তি জীবিত’—ইহাতে দেহের জীবনীশক্তির কথা বলা হয় নাই।
আধ্যাত্ম জীবনের কার্যকারণের বিষয়ে যাহারা সজাগ এবং কর্মতৎপর তাহাদিগকেই ‘জীবিত’ বা ‘জীবন্ত’ বলা হইয়াছে নতুবা দৈহিক জীবন কাহার না আছে। যাহারা সেইপথে কর্মতৎপর নয় তাহারা জীবিত হইয়াও আসলে মৃত অর্থাৎ জীবন্বত। আল্লাহর বাণী প্রাণবন্ত লোকের মধ্যেই কেবল কার্যকর হইয়া থাকে। অলস-অকর্মণ্য ব্যক্তি উহার নীতি স্বীকার করিয়া লইলেও আমলের দ্বারা উহাকে নিজের মধ্যে জীবন্ত করিয়া তুলে না। কর্মযোগের আমল ব্যতীত কোনও সত্যই মানুষের মধ্যে মূর্ত হইয়া উঠে না।
সত্যকে জানিয়াও যাহার নীতিত্যাগ করে তাহাদিগকে কোরানের ভাষায় কাফের বলে। ধর্মের উপদেশ সত্যিকারভাবে বুঝিয়া লইবার পর যদি কেহ সত্য ও ধর্মকে সজ্ঞানে ত্যাগ করে তাহা হইলে সে ধর্মদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী প্রমাণিত হয়। সৎপথ অবলম্বী প্রাণবন্ত লোকের জন্য সাবধানতা অবলম্বনের বিষয়ে যেমন কোরান সার্থক, তেমনই কাফেরদের উপর ব্যক্ত সকল কথা সত্য বলিয়া প্রমাণিত হওয়ার জন্যই আল্লাহ ইহা পাঠাইয়াছেন, যাহাতে কাফেরদের জন্য ঘোষিত শান্তির সকল কথা সত্যে পরিণত হয়। (দ্র. ৩৬ঃ ৭০)
সূত্র- কোরান দর্শন, সূফী সদর উদ্দিন আহ্মদ চিশ্তী






