কাজী নজরুল ইসলামের দর্শনে “আমি” ও জাতির আত্মজাগরণ

কাজী নজরুল ইসলামের দর্শনে “আমি” ও জাতির আত্মজাগরণ

কবি কাজী নজরুল ইসলামের কণ্ঠে যে রূহুল আমিন কথা বলে গেছে, তার প্রকৃত খবর আমরা কয়জন রেখেছি? নজরুলের কাব্যসাধনায় বারবার ফিরে এসেছে এক অনন্য উচ্চারণ— “আমি”। তবে এ “আমি” সাধারণ মানুষের কাঁচা আত্মপরিচয় নয়, বরং এক পরিণত, জাগ্রত, বিস্তৃত “আমি”, যা ব্যক্তিসীমা অতিক্রম করে পরমের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

আমাদের আমিটা প্রায়শই কাঁচা—সঙ্কীর্ণ স্বার্থ, ভোগবিলাস আর সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ। কিন্তু নজরুল শ্রেণির কবিরা এই কাঁচা আমিকে পাকিয়ে তোলেন আত্মজাগরণ ও সত্য-সন্ধানের আগুনে। যুগে যুগে তাঁদের বিপ্লবী আহ্বান মানুষকে মুক্তির পথে, মানবতার পথে, ন্যায়ের পথে নিয়ে আসে।

নজরুল নিজেকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে প্রকাশ করেননি; তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন পরমরূপে। আর পরমকে উপলব্ধি করতে গিয়ে তাঁকে বিসর্জন দিতে হয়েছে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, স্বার্থ ও স্বাচ্ছন্দ্য। এই বিসর্জনের ফসল জাতি ভোগ করেছে—কখনো গান হয়ে, কখনো কবিতা হয়ে, কখনো বিপ্লবের মন্ত্র হয়ে।

এভাবেই নজরুলের বিসর্জন হয়ে উঠেছে আমাদের জাতির শক্তি, তাঁর আত্মপ্রকাশ, আমাদের আত্মচেতনা । যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমরা তাঁকে উৎসবমুখর হয়ে উদযাপন করি, যদিও সচেতনভাবে উপলব্ধি করি না সর্বদা। তবু তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত রূহুল আমিনের ডাক আমাদের ইতিহাসের অন্তঃস্থলে চিরকাল প্রতিধ্বনিত হয়ে থাকবে।

নিবেদক :
আর এফ রাসেল আহমেদ ওয়া

আরো পড়ুনঃ