সত্ব, রজঃ, তমঃ তিনটি গুণ ও বৈশিষ্ট্য
মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুকে গুণত্রয় বা তিনটি গুণ সর্বাবস্থায় প্রভাবিত করেন তথা- সত্ব, রজঃ, তমঃ।
যথাক্রমে: সত্ব- বিশুদ্ধতা, রজঃ- আকাঙ্ক্ষা, তমঃ-জড়তা বা অজ্ঞতা।
সত্ব, রজঃ, তমঃ গুণত্রয়ের মূলে, ব্রহ্মা,বিষ্ণু,শিব, এই তিনে মিলে যখন কার্য করেন, তথা যখন কোনো কিছু প্রকাশের উৎস হন, তখন তারাঁ স্ত্রী সূচক রূপ ধরেন, আর যখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব কার্যে স্ত্রীবাচক হন, তখন তাহা ব্রহ্মা অর্থে- ব্রহ্মাণী, বিষ্ণু অর্থে-বৈষ্ণবী আর শিব অর্থে-রুদ্রানী নামে প্রকাশিত হয়।
এই তিন স্ত্রীবাচক ব্রহ্মাণী, বৈষ্ণবী, রুদ্রানী এরা তিন শক্তির কর্ণধার হয়ে প্রকাশিত তথা… ব্রহ্মাণী- বামা শক্তি, রুদ্রানী-রৌদ্রী শক্তি ও বৈষ্ণবী-জ্যেষ্ঠা শক্তি, সমস্ত কিছুতে’ই এই তিনে একত্রে আদ্যাশক্তি।
যখন গুণত্রয় একত্র হয়ে ত্রিকোণাকৃতি প্রতীকী রূপ ধরে নিজের মাঝে লয় প্রাপ্ত ঘটান তখন উহাকে মহাশূন্যে, অক্ষয় বা ব্রহ্ম বলে৷
এবার গুণত্রয় মিলনে যখন অক্ষয় বা ব্রহ্ম হয় তখন জ্যোতি বিস্তৃত ঘটে,এ জ্যোতি আজ্ঞা চক্র এবং সহস্রার চক্রের মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে প্রকাশিত হয়। আর যখন জ্যোতির বিস্তৃত ঘটে তখন উহা দেবদেবীর পর্যায়ে থাকেন, আর এখানে’ই তেত্রিশ কোটি দেবতার মূল রহস্য বিদ্যমান।
যেহেতু ঐ গুণত্রয়ের জ্যোতি আজ্ঞা চক্র এবং সহস্রার চক্রের মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে প্রকাশিত হয়, এবং তা স্ত্রীবাচক রূপ, সেহেতু এই রূপকে কুলবধূরূপেও দেখা হয়, কুলবধূ তথা সৎকুলের পুত্রবধূকে বুঝানো হয়। আর এজন্য কুলবধূর কপালে জ্যোতির প্রতীকী স্বরূপ লাল টিপ পরানো হয়, এবং সেই এক’ই সূত্রে সিঁদুর শুভ যজ্ঞ টীকা, চন্দন টিপ যোগীরাও পরে থাকেন।
লেখা- বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






