পুনঃউন্থান ও বিচারের রায়
লিলা অনিত্য, এই নিত্য অনিত্যের খেলায়-অনিত্যকে যে আশ্রয় করবে তার হবে ঐ দশা, সব ভুলে বসে থাকবে। আর নিত্য- সদাআন্দময়, সেতো তার ঐ রুপ নকসা নিশানা নিয়ে মহা আনন্দে নৃত্য করবে। মহা সত্য নিত্য আর মিথ্যা অনিত্য। আবার ঐ নিত্য জীবের সর্ব তেতনা থাকা সত্বেও শারিরিক বা স্থুল দেহের কিছু ক্ষয় হবেই। তা না হলে মরনশীল বা মৃত্যুর আওতাভুক্ত হতনা কোন জীবন। জীবের চেতন অচেতন যাই বলা হোক না কেন – তার জীবন্ত দুনিয়াটার শুদ্ধ মহাপ্রলয়টা হয় সেদিন। এখানে সুদ্ধ ও অসুদ্ধ এর ভিতর ফারাক আছে।
“ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাহে রজেউন” নিশ্চয় শুদ্ধ ও পবিত্র সত্তা হতে এসেছি নিশ্চয় পবিত্র সত্তার সাথে মিলিত হব। জীব যখন তার কোন (আসক্তির) দুর্নিবার টান, যে টানে সে হারিয়ে যায়। তখন ভাবময়ি কারাগারে বন্দি হয়ে ঐ চেতন সৃষ্টির বা সজাগ জীবন্ত দুনিয়াটার সব টান হতে বিচ্ছিন্ন হয়।- আর ঠিক তখনই তার ঘটে মুত্যু। মানুষ বা জীব যখন ঐ দুনিয়ার ভাবময়ী সৃত্মির অতলে তলিয়ে যেতে থাকে তার জীবন্ত সজাগ সৃত্মির চেতনা থেকে বিছিন্ন হতে থাকে বা সম্পর্কচুত্য হতে থাকে- ধীরে ধীরে সে তখন এক বিরাট শব্দ বা বিকট আওয়াজ এর ধ্বনি শুনতে পায় যা কিনা তার সজাগ বা পার্থিবো জগতের সমস্ত খেয়ালকে ঝলসিয়ে, ধাধিয়ে মুছে দেয়। পরক্ষনে তার চেতন চক্ষুর সামনে এক মহা আলোর প্রান ঝলসানো আলোর রাজ্য উপস্তিত হয়।
মোট কথা ঐ শব্দ ও আলো মিলে (জীবের) বহু সাধের কামনা বাসনা ভরা আসক্তি জগতের মোহটান এমনকি তার নিজের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে চেতনহারা হয়ে যায়। তখন সে বুঝতে পারে হৃদয় বিদারণ, দুঃখ, ক্লেশ, যন্ত্রনায় তাকে বন্দি ও আচ্ছান্ন করে রেখেছিল এই মায়ার পৃথীবি। এই এতেই তার সমগ্র অস্তিত্ব লয় হয়ে অতঃপর সুক্ষ শরীরী বা ভাবদেহ হয়ে সে তখন মহা ভাবভুমিতে অবস্থান করতে থাকে পরক্ষনে প্রক্ষেপ বা (ছুড়ে) দেওয়া সমভাব কর্তৃক নারী ও পুরুষের মিলন এর মধ্যপথ দিয়ে ঐ ভাবভুমিতে অবস্হানরত সুক্ষ শরীর অঙ্কুরিত ভ্রুনে বিকশিত হয়ে কায়া বা স্থুল দেহে রুপান্তরিত হত লাগলো , তখন কাম উন্মত্ততায় বিভোর নারী পুরুষের দুয়ের এক মিলনের উত্তাল সেই প্রক্ষেপ ছুড়ে দেওয়া অভিকর্ষ (ম্যাগেটিক) টানের প্রভাবে দেহের ভিতর মহা এক লাভা বা তাপের সৃষ্টি হয়।
পরক্ষনে বিধিবদ্ধ ধারার নিয়মে এক বিরাট গুমগুমানি শব্দের মধ্য দিয়ে ঐ সুক্ষ ভাবভুমিতে অবস্থানরত ভাবাবিষ্টে বন্দি হয়ে সৃত্মিহারা “কার” পাড়ী দিয়ে অন্ধকার কারাগারের মধ্যে তার পূর্ব (কর্মফল) বা সংষ্কার নিয়ে বিধি বিধান অনুযায়ী সন্মোহিত (হ) হয়ে বীজ বা ভ্রুন “হ” কুন -তারপর মাতৃজঠরে পতিত হয়। তারপর স্রষ্ঠার হুকুমে বির্বতন, পরির্বদ্ধন, পরির্বত্তনের ধারা মাফিক প্রাপ্য পাওনা যুক্ত শরীর ধারন বা গ্রহন করে স্রষ্ঠার আজ্ঞা বহন করতে লাগলো বা কায়েমি হতে থাকলো।
এটাকেই বলা হয় পুন:উন্থান হওয়া বা শরীরী জন্ম নেওয়া।
– ফকির ইশরাখউদ্দিন রাজু সাঁই






