চিন্তা নয়—চিন্তারও পিছনে যে শূন্যতা, সেটিই আসল।
চিন্তা নয়—চিন্তারও পিছনে যে শূন্যতা, সেটিই আসল। চিন্তা উঠছে আর পড়ছে যেন ঢেউ, কিন্তু সমুদ্র যে ঢেউ নয়, তা ভুলে যাই। আমরা ঢেউকে ধরতে চাই, নাম দিই, বিচার করি, পূজা করি—অথচ সমুদ্র কখনো ঢেউকে বিচার করে না। সমুদ্র শুধু থাকে।
‘আমি’ বলে যাকে ধরে বসে আছি, সে-ও একটা ঢেউ-মাত্র। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে এই ঢেউ উঠল, নাম পেল, গল্প তৈরি হল, ভয়-ভালোবাসা-ঈশ্বর সবই গড়ে উঠল এই ঢেউ-এর চারপাশে। কিন্তু ঢেউ যখন ভাঙে, সমুদ্র কি কমে যায়? না। ঢেউ যখন উঠে না, তখনও সমুদ্র পূর্ণ। ‘আমি’ ভাঙলে যা থাকে, তাকেই কেউ কেউ বলে শিব, কেউ বলে ব্রহ্ম, কেউ বলে শূন্য—আর যারা নাম দিতে চায় না, তারা চুপ করে থাকে।
স্বপ্ন ভাঙার পর যেমন বোঝা যায় স্বপ্ন ছিল মিথ্যে, তেমনি এই জাগ্রত অবস্থাটাও যদি ভাঙে—তাহলে কী থাকে? থাকে না কোনো দর্শক, থাকে না কোনো দৃশ্য। থাকে শুধু থাকা। কোনো ‘আমি দেখছি’ নেই, কোনো ‘ঈশ্বর দেখা দিচ্ছেন’ নেই। শুধু এক অখণ্ড উপস্থিতি—যার মধ্যে ভেদ নেই, সীমা নেই, সময় নেই।
এই অখণ্ডতার মধ্যে এসে দাঁড়ালে প্রশ্ন ওঠে না আর “ঈশ্বর কোথায়?” কারণ প্রশ্নকর্তাটাই আর নেই। যে খুঁজছিল, সে-ই খুঁজে পাওয়া। যে পূজা করছিল, সে-ই পূজিত। আর যে ভয় পাচ্ছিল মৃত্যুর, সে দেখে—মৃত্যু তো শুধু একটা ঢেউ ভাঙার নাম। সমুদ্র কখনো মরে না।
তাই সবচেয়ে গভীর কথাটা হয়তো এই:
কিছু বোঝার চেষ্টা করা ছেড়ে দাও।
কারণ যে বোঝার চেষ্টা করে, সে-ই বোঝার বাইরে।
আর যখন চেষ্টা থেমে যায়, তখন আর কিছু বাকি থাকে না বোঝার জন্য—কারণ সবই ইতিমধ্যে যা ছিল, তাই আছে।
এখানে আর কথা বলার কিছু নেই।
শুধু নীরবতা।
আর সেই নীরবতার মধ্যেই সবকিছু।
– ফরহাদ ইবনে রেহান






