শৈল্পিক চোখে পাপ থাকেনা

শৈল্পিক চোখে পাপ থাকেনা

চোখের অবস্থান সর্বদা শৈল্পিক থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি, কারণ শৈল্পিক চোখে পাপ থাকেনা। পাপের প্রধান উৎস হলো চোখ, তোমার এই চোখ সর্বপ্রথম কোনো কিছুকে দেখে, এর পরে সে ওটাকে নিয়ে তোমার মস্তিষ্কের কাছে হস্তান্তর করে, ফলে পাপের স্থায়িত্ব তৈরি হয়ে যায় তাই চোখের পাপ থেকে রক্ষা পাওয়া অতিব জরুরী। চোখের পাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চোখ’কে শৈল্পিক চোখ হিসেবে গড়ে তোলা উচিৎ, কারণ শৈল্পিক চোখ তোমাদের চিন্তা কাঠামোর পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

আর চোখ সাধনার অর্থ’ই হলো চোখ’কে শৈল্পিক করা। চোখ সাধনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে দৃষ্টির উপরে আমরা কয়েকটি কোড তৈরি করেছি। এবং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছি যে, সর্বচ্চ পাপ মুক্ত চোখ হলো শৈল্পিক চোখ। আমরা দেখতে পেয়েছি যে, যেই সকল চোখ শৈল্পিক হয় সেই সকল চোখ সর্বপ্রথম প্রকৃতির মূল খুঁজে পায়। আমরা দেখেছি- যে সকল বিষয়ে অন্যান্য চোখ যন্ত্রণা অনুভব করে, কিন্তু শৈল্পিক চোখ সেখানে ভিন্ন অবস্থানে গিয়ে সে সকল বিষয় সমূহকে উপভোগের মাধ্যমে তীক্ষ্ণ অনুসন্ধান করে চলে।

উদাহরণস্বরূপ; পাপ মুক্ত চোখ অনুসন্ধান কালে আমরা যতগুলো থিওরি ব্যাবহার করেছি, এবং সেই থিওরি থেকে আমরা যেই অবিজ্ঞতা নিয়েছি সেই অবিজ্ঞতা থেকে আমরা আমাদের একটি বাস্তব ঘটনার প্রকাশ করতে চলছি;- পাপ মুক্ত চোখ বিশ্লেষণের জন্য আমরা অনেক থিওরি ব্যাবহার করেছি, তার মাঝে একটি থিওরি গঠন করেছিলাম নারীর অন্তর্বাস নিয়ে। নারীর সেই অন্তর্বাসটি ছিলো ছয় ডিজাইন পূর্ণ এবং পিংক কালারের।

আমরা নারীর সেই অন্তর্বাসটি বিভিন্ন শ্রেণি পেশায় থাকা সাত রকম বয়সী পুষদের চোখ দিয়ে দেখাতে সক্ষম হয়েছিলাম। সাত রকম বয়সী পুরুষদের মন্তব্য স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আমরা তাদের মন্তব্যও নিয়েছিলাম এবং তাদের মতামত আমরা রেকর্ড করেছিলাম পরবর্তীতে আমাদের বিশ্লেষণ সহজ করার জন্য। আমরা তাদেরকে স্পষ্ট মন্তব্য করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করলে তাঁরা তাদের মন্তব্য উপস্থাপন করতে থাকেন, এতে আমরা লক্ষ্য করেছিলাম যে প্রতি জনের মন্তব্য’ই ছিলো ভিন্ন ভিন্ন।

কেহ কেহ আবার নারীর অন্তর্বাসটি দেখে সেই নারীর বয়স এবং নারীর বডি ফিটনেসের বর্ণনাও দিয়েছিলেন নির্দ্বিধায়। এছাড়াও বর্ণনা কালে মন্তব্যকারীদের চোখে কামনা-বাসনার ভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছিলো। কিন্ত একজন পুরুষ আমাদেরকে বলেছিলেন এই অন্তর্বাসটিতে ছয় রকমের ডিজাইন করা হয়েছে এবং এর মাঝে যে প্রজাপতির ডিজাইনটি দেখা যাচ্ছে এটি অত্যন্ত চমৎকার ও উন্নতমানের ডিজাইন বলে মনে হচ্ছে, আর এই প্রজাপতির ডিজাইনটি’ই আমার বেশ ভালো লেগেছে।

ভদ্রলোকের এমন ব্যাতিক্রমী মন্তব্য দেখে আমি বিমোহিত হয়েছিলাম এবং তাকে আমি আমাদের সাথে নাস্তা করার প্রস্তাব দিলে, সাথে সাথে তিনি নাস্তা করতে রাজি হয়ে গেলেন, পরে আমরা তাকে নিয়ে নাস্তা করতে বসে গেলাম। এবং সে পরোটা খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ডিম ভাজি আর পরোটা দেয়া হয়েছিলো। আমি চা খাচ্ছিলাম আর সবার সাথে গল্প করছিলাম, তাকিয়ে দেখলাম ভদ্রলোক একটি পরোটা হাতে নিয়ে বলতেছেন, দেখেন দেখেন এই পরোটায় কত সুন্দর করে কারুকার্য দেখা যাচ্ছে, যেমন মনে হয় এটি একটি মেঘের চিত্র অঙ্কন হয়েছে।

আমি ভাবতে লাগলাম যেখানে মানুষ খাবারের জন্য অস্থির হয়ে আছে এবং নাস্তা সামনে আসা মাত্র’ই লোকেরা ভক্ষণ করতে শুরু করে দিচ্ছে, আর সেখানে এই মানুষটি এখনো খাবার না খেয়ে পরোটায় মেঘের চিত্র অঙ্কন দেখতে ব্যাস্ত হয়ে আছে! অতএব শৈল্পিক চোখ এখানেও ভিন্ন কিছু করে যাচ্ছে যা সম্পূর্ণ খাই খাই মুক্ত। পাপ মুক্ত চোখের বিশ্লেষণ কালে আমরা এরকম অসংখ্য থিওরি ব্যাবহার করেছি, দীর্ঘদিন বিচার বিশ্লেষণ করে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছিলাম যে একমাত্র শৈল্পিক চোখ’ই পাপ মুক্ত চোখ।

যেখানে অন্যান্য চোখ নারীর অন্তর্বাস দেখে লালসায় ডুবে যায় এবং পরোটা ভক্ষণের জন্য পাগল হয়ে যায় শৈল্পিক চোখ সেখানে প্রজাপতি আর মেঘের চিত্র খুঁজে পায়। পাপ মুক্ত চোখ গঠন করতে সাধনার একমাত্র পথ হলো চোখে সম্পূর্ণ শৈল্পিকতা ফুটিয়ে তোলা। প্রকৃতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু-পরমাণুর গুণাবলী দেখতে পাওনা ও সর্বত্র ঈশ্বরের উপস্থিত অনুভব করতে হলে শৈল্পিক চোখের বিকল্প কোনো চোখ নেই। তোমাদের চোখ যদি শৈল্পিক না হয়, তাহলে তোমরা পাপ মুক্তির কোনো সম্ভবনা দেখছিনা।

একজন নারী ও একজন পুরুষ একত্রে থেকেও যৌনতায় লিপ্ত হবে না যদি উভয়ের চোখ শৈল্পিক হয়, এরা একে অপরের দেহ ভোগে লিপ্ত হবেনা বরং তাঁরা দেহের উপর তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে চিত্রাঙ্কন করবে। এমন অনেক স্পষ্ট ছাপ রয়েছে যা দিয়ে অন্যান্য চোখ পাপে লিপ্ত হবে কিন্তু শৈল্পিক চোখ দক্ষতার সাথে সেই পাপ থেকে’ই প্রকৃত সুখের সন্ধান করে নিবে। চোখের সাধনা বলতে চোখকে শৈল্পিক করা, আর এটা করতে পারলে’ই কেবল চোখের পাপ মুক্ত হওয়া সম্ভব।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ