তোমাদের আত্মত্যাগ’ই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান।

তোমাদের আত্মত্যাগ’ই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান।

আত্মত্যাগের দান সবাই করতে পারেনা, আর যারা তা করতে পেরেছে তাঁরা ইব্রাহিমদের মতন জাতির পিতা হয়েছে, ইব্রাহিমরা শুধু ধন সম্পদ দান করে’ই ক্ষান্ত ছিলেন বিষয়’টি এমন নয়, বরং তাঁরা তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন, নাহয় ইব্রাহিমের কুরবানি কবুল হইতে এত সময় লাগার কথা ছিলোনা৷

আত্মত্যাগের সামনে ধন সম্পদ দান করা খুব’ই ক্ষুদ্র বিষয়, ধন সম্পদ দানের ক্ষেত্রে তুমি বহুবার নিজ ইচ্ছা মতন কম বেশি করে দান করতে পারো, কিন্তু আত্মত্যাগ একবারে’ই করা হয়৷ আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি যারা তাদের অঢল সম্পদ থেকে সামান্য কিছু দান করেন তবুও উহাদের অন্তরে থাকে আত্মপ্রচারের উদ্দেশ্য। আবার এমন মানুষও দেখেছি যারা তাদের সামান্য কিছু থাকলেও তার সব দান করে দেন কিন্তু বিনিময়ে তাঁরা কিছু আনন্দ ভোগ করেন আর এই আনন্দ’ই হয়ে যায় তাদের জন্য নির্ধারিত পুরস্কার।

যদি মনে হাজারো রকম গোপন বাসনা থাকে বা বিশেষ উদ্দেশ্য রাখা হয় দানের ক্ষেত্রে, তবে এদের দান কি এমন কল্যাণকর হতে পারে? আগামী দিনের প্রয়োজনে যে সকল বস্তু পাহাড়া দিয়ে রাখা হয় তাহা’ই তো তোমাদের ধন সম্পদ! যেমন ইঁদুরেরা বিলের মাঝে মাটির গর্ত করে ধান কেটে নিয়ে রাখে আগামীকালের আশায়, কিন্তু ইঁদুরেরা কি বুঝতে পারে তাদের ভাগ্যে কি আছে? হতেও পারে কালবৈশাখী ঝড় এসে বিল পানিতে পূর্ণ করে দিবে, আর গর্তে রাখা তাদের সম্পদও শেষ হয়ে যাবে! এবং এটা হয়ে’ই থাকে, তবুও দেখবে ইঁদুরেরা আগামীকালের জন্য সম্পদ রেখে’ই চলছে৷

যে ভয়ে তোমরা বস্তগত সম্পদ পাহারা দিয়ে রাখবে সেই ভয় কি নিজেকে নিয়ে নিজের থাকা উচিৎ নয়? আত্মত্যাগ হলো তোমাদের সেই রক্ষাকর্তা যেই রক্ষাকর্তা ইব্রাহিমকে নমরুদের অগ্নিকুন্ড থেকে রক্ষা করে, আর তোমরা তা না করে তোমরা হয়ে গেলে বস্তুগত ধন সম্পদের পাহাড়াদার৷ প্রকৃত আত্মত্যাগী মানুষেরা যখন দান করেন তখন তাঁরা আনন্দিত কিংবা ব্যথিত অথবা দানের মহত্ত্ব এসবের কোনটা’ই মনে রাখে না। আর এ ধরণের আত্মত্যাগীদের হাত দিয়ে’ই ঈশ্বর নিজেকে প্রকাশ করেন এবং তাদের মাধ্যমে’ই জগতে তার কল্যাণ ছড়িয়ে দিতে থাকেন।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ