তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাও যারা তোমার নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে তুলে ধরে।

তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাও যারা তোমার নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে তুলে ধরে।

আমি চাই তুমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাও যারা তোমার নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে তুলে ধরে তোমাকে সর্বাবস্থায় ছোট করে দেয়। আমি চাই তুমি তাদেরকে ধন্যবাদ দিয়ে স্বাগত জানাও এবং যদি সম্ভব হয় টাকা দিয়ে হলেও তাদেরকে পুষে রাখো শুধুমাত্র তোমাকে ছোট করার জন্য।

এটা খুব কম মানুষেরা’ই পারে যারা কিনা নিজেদের নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে অপরের মুখে শুনে ধন্য হয়, আমার চাওয়া তুমিও সেই কম মানুষদের একজন হও যে কিনা নিজের সম্বন্ধে খারাপ কিছু শোনার সাহস রাখে। সবাই বুঝতে পারেনা যে নিন্দুকেরা বিনা লাভে তাদের কতবড় উপকার করে চলছে।

অহংকার একটি মহা শক্তিশালী পাপ, আর সেই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য লোকেরা কত কি করে থাকে, এমনকি প্রতিটি ধর্মতেও ইবাদতের মূলে রয়েছে অহংকার থেকে মুক্তির বার্তা। তবুও এ অহংকার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

কিন্তু আমি আশ্চর্য হই যে, লোকেরা কেন নিন্দুকদের নিন্দা মেনে নিতে চায় না! প্রকৃত পক্ষে তোমার অহংকার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই একটা’ই কার্যকরী পন্থা রয়েছে যা দিয়ে তোমার অহংকারকে চূর্ণ করা যায়। যে তোমার নিন্দনীয় কর্মকে মনে করিয়ে দেয়, সে তোমার শত্রু নয় বরং সে তোমার কঠিন কাজকে সহজ করে দেয়া দরদের বন্ধু হয়।

যখন তুমি নাম যশ খ্যাতিতে ভরপুর হয়ে যায়ও অথবা যখন’ই তুমি নিজেকে সম্পূর্ণ মনে করো, ঠিক তখন’ই তোমার উপর অহংকার চেপে বসে,আর সে-সময় তুমি যদি তোমার নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে সামনে এনে নিজ কর্ণে শ্রবণ করতে পারো তাহলে দেখবে মুহূর্তে’ই তোমার অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং তুমি লজ্জিত বোধ করতে শুরু করে দাও।

তোমার নিন্দনীয় বিষয়সমূহকে শোনার জন্য তোমাকে কষ্ট করতে হবেনা, লোকেরা এমনিতে’ই বেকার বসে আছেন তোমাকে ছোট করার জন্য, তুমি শুধুমাত্র এ সুযোগটা কাজে লাগাও, এবং শুনতে থাকো তোমার নিন্দা, আর দেখতে থাকো তোমার অহংকারের পরিত্যক্ত চূর্ণাংশ।

_বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ