প্রেমিকের ভাষা সাধারণ মানুষের কাছে ধর্ম বিরোধী মনে হয়।

প্রেমিকের ভাষা সাধারণ মানুষের কাছে ধর্ম বিরোধী মনে হয়।

প্রেমিক সর্বোপরি আল্লাহর সাথে সংযুক্ত থাকেন তাঁর প্রেমের বাঁধনে। সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মবিরোধী মনে হবেই না কেনো! প্রেমিকগণ একেক সময় একেক কথা বলেন যার হাকীকত সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। অতঃপর মানুষ তাদেরকে পাগল কিংবা নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করেন।

একজন সাধক তাঁর ঈশ্বরকে কিভাবে ডাকবে সেটার জন্য তার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। যে যার নিয়ম অনুযায়ী আল্লাহকে ডাকেন। আল্লাহ কি মানুষের ডাকার পদ্ধতি দেখেন? তিনি কি কোনো নিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ? তিনি কি দেখেন? তিনি তো আমাদের অন্তর দেখেন। মুখে সারাদিন আল্লাহ আল্লাহ বলে ডাকা লোকটার মনে যে অন্যের সম্পদ হরণের পরিকল্পনা চলছে তিনি সেটা দেখেন। আবার তাঁর প্রেমে মগ্ন রাস্তার পাশে বসে থাকা পাগলের ভেতরটা ও তিনি দেখতে পান। তাঁর কাছে কে শ্রেষ্ঠ সেটা তিনিই জানেন।

এই যেমন ধরুন,
মুসা (আ) এর সময়কার এক ঘটনা। তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন এক পাগল বলছে ” হে আল্লাহ। তোমাকে পেলে আমি তোমাকে নিজের হাতে ভাত খাইয়ে দেবো। আমি তোমাকে গোসল করিয়ে সাজিয়ে দেবো। আমি তোমাকে প্রতিদিন ঘুম পাড়িয়ে দেবো।” পাগলের এ কথা শুনে মুসা নবী ক্ষেপে গেলেন। তিনি পাগল কে একটা ধমক দিয়ে বললেন “তুমি এসব কি বলছো। তোমার কি মাথা খারাপ?” এরপর মুসা নবী প্রতিদিনকার মতো তুর পাহাড়ে গেলেন আল্লাহর সাথে কথা বলতে। কিন্তু তিনি দেখলেন আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলতে চাইছেন না। তিনি আল্লাহর কাছে কাদতে লাগলেন আর বললেন “আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করো। আমি কি ভুল করেছি আমি তো জানি না।” তখন আল্লাহ উত্তর দিলেন “হে মুসা। তুমি সেই পাগলকে কেনো ধমক দিল? সেই পাগলের এই কথাগুলোই তো আমার ভালো লাগে। তুমি কেনো তাঁকে বারণ করলে “। পরে মুসা নবী ক্ষমা চাইলেন আর সেই পাগলকে বললেন তুমি তোমার মতো আল্লাহ কে ডাকো। তিনি তোমার উপর সন্তুষ্ট।

সেই পাগলের মতোই বহু প্রেমিক এখনো পাওয়া যায়। তাঁরা যুগে যুগে ছিলো এখন ও আছেন।

মূল কথা হলো একেক জনের সাধন ভোজন একেক রকম। একেক জন সাধনার একেক স্তরে থাকেন। আমরা হয়তো সে ধাপে গিয়ে পৌঁছাতে পারি নি বলে তাঁদের কথার অর্থ বুঝতে পারি না। আমরা সাধনার সে ধাপে পৌঁছাতে পারি নি বলে তাঁদের উপলব্ধি করতে পারি না।

এই যেমন,
হজরত জুনাইদ বোগদাদি (রহ) বলতেন আমার এ জুব্বার নিচে আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুই নেই। সবাই বলেছিল শিরক, সে কাফের হয়ে গিয়েছে। এখন যদি আমি বলি যে আমার যুব্বার নিচে ও আল্লাহ ব্যতীত আর কেও নেই, এটা হবে চরম শিরক। কারণ আমি সেই ধাপের কেও নই।

তাহলে বুঝতে হবে ওনার ক্ষেত্রে যেটা সত্য সেটা আমার ক্ষেত্রে শিরক। যেটা প্রেমিকের ক্ষেত্রে প্রেমের প্রকাশ সেটা সাধারণ মানুষের কাছে শিরক মনে হতেই পারে।মূলত কথা হচ্চে একেক জনের মর্যাদা স্রষ্টার দরবারে একেক রকম। একেক জনের প্রেমের মাত্রা একেক রকম। তিনি আনুষ্ঠানিকতার উপর নির্ভরশীল নন। তিনি আমাদের অন্তর দেখেন।

তাই আসুন, স্রষ্টাকে খোজার সর্বশ্রেষ্ঠ পথে যাত্রা করি। কোনটি সেই পথ? সে পথ হলো প্রেম। বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা যাবে স্রষ্টাকে পাওয়া যাবে না। কারণ তিনি জ্ঞানের ও বাইরে সকল যুক্তি তর্কের বাইরে। তাইতে তাঁকে শুধু প্রেম দিয়েই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কারণ প্রেম কোনো যুক্তি মানে না। প্রেম সকল যুক্তি তর্কের বাইরে।

যদি স্রষ্টাকে পেতে চাও তবে প্রেমিক হও। যদি স্রষ্টাকে পেতে চাও তবে অন্তরে প্রেম প্রতিষ্ঠা করো।

– AR Junaid Hasan Shuvo

আরো পড়ুনঃ