নিজের মধ্যেই জ্বালাও সেই আলোকবর্তিকা

নিজের মধ্যেই জ্বালাও সেই আলোকবর্তিকা

নিজের মধ্যেই জ্বালাও সেই আলোকবর্তিকা, যা অন্ধকারের গভীরে পথ দেখায়। তুমি অন্ধকারে আছ বলেই আলোর প্রতীক্ষা করো। কিন্তু যে আলোকে তুমি আলো মনে করো, তাও অন্ধকারের ছায়া। সত্যিকারের আলো পেলে অন্বেষণের তৃষ্ণা থামে। তুমি যদি এখনও খুঁজে চলো, তবে সেই আলো এখনও তোমার হাতে আসেনি। যেমন উপনিষদে বলা হয়েছে, “তত্ত্বমসি”—তুমিই সেই সত্য, তুমিই সেই আলো।

সত্য ও তোমার মধ্যে কোনো দেয়াল নেই। মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। যে সত্য ও তোমার মধ্যে দাঁড়ায়, সে সহযোগী নয়, বরং বাধা। বাধাকে অতিক্রম করো—সরাও, ডিঙ্গাও, বা এড়িয়ে চলো। যেমন জেন দর্শনে বলা হয়, “যদি পথে বুদ্ধের দেখা পাও, তাকে হত্যা করো”—কারণ সত্য তোমার মধ্যেই, বাইরে নয়।

গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ক প্রায়শই বন্ধন হয়ে ওঠে। গুরু শিষ্যকে আবদ্ধ করে, শিষ্য গুরুকে। নির্ভরতা মুক্তির পথে শৃঙ্খল। যখন বোঝো কোনো অবলম্বন নেই, তখনই হৃদয়ে জাগে আমূল রূপান্তর। নিজেই তোমার গুরু, নিজেই তোমার শিষ্য। তখন রীতিনীতি, প্রচলিত ধারণা প্রশ্ন করতে শিখবে। সত্যের পথ উন্মুক্ত হবে, যেমন সুফি কবি রুমি বলেছেন, “তোমার ভিতরেই সত্যের সমুদ্র, তীরে দাঁড়িয়ে কেন কাঁদো?”

নিজের আলোয় পথ চলো। বাইরের আলো মায়া, বাইরের গুরু মোহ। সত্য তোমার স্বরূপ। প্রশ্ন করো, অনুসন্ধান করো, আর নিজের মধ্যে ডুব দাও। যেমন অদ্বৈত বেদান্তে বলা হয়, “আত্মানং বিদ্ধি”—নিজেকে জানো। এই জানাই মুক্তি, এই জানাই আলো।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ