আমার পোশাকেই আমার ফকিরি।
ফকির সেজে থাকাকে’ই আমি সর্বদা মূল্যায়ন করে এসেছি, নিজেকে ফকির সাজে সজ্জিত রাখা’ই ছিলো আমার বিলাসিতা। কিন্তু আমি দেখতে পেলাম যে, আমার প্রিয় জহুরী জন্য’ই আমাকে অপছন্দ করেছেন।
জহুরী আমাকে ডাক জিজ্ঞাসা করলেন:- এই ভণ্ড ফকির! তোমার পরনে থাকা তোমার এই লেংটি আর ছলনা কি কাজে আসবে?
আমি বললাম:- অনেক কাজে’ই এসেছে এবং আসবেও, আমাকে দেখে মানুষ এখন বুঝতে পারে যে আমি একজন ফকির৷
জহুরী বললেন:- এই ভাবনাতে’ই তোমার ফকিরি আজ ভণ্ডামিতে পরিনত হয়েছে৷ এখন তোমার মন্ত্রতন্ত্র জপ-তাওয়াফ, তসবিহ-তাহলীল সহ আরও যাহা কিছু আছে তাহা তোমাকে আর কখনো’ই প্রকৃত ফকির বানাতে পারবেনা।
আমি বললাম:- জহুরী! আমার ফকিরি যদি মানুষ চোখে দেখতে না পায়, তাহলে আমি কি করে নিজেকে ফকির পরিচয় দিবো?
জহুরী বললেন:- তোমার পোশাকে কিসের ফকিরি? পশমী চাদর আর চোখধাঁধানো টুপি দেখিয়ে তোমার এ কেমন ফকিরি? ফকিরি’কে পোশাকে তুলে ধরে তুমি কি কখনো নিজেকে একজন লোক দেখানো ব্যাক্তি হিসেবে মনে করছোনা? তোমার কি লজ্জা হয়না ফকিরি গুণে গুণান্বিত না হয়ে ফকির সাজার জন্য?
আমি বললাম:- আমি ফকিরি গুণে গুণান্বিত হওয়ার জন্য যখন অনেক চেষ্টা চালিয়েছি তখন কেহ আমাকে ফকির মনে করেনি, তবে এই পোশাকে’ই আমাকে ফকির হিসেবে তুলে ধরেছে।
জহুরী বললেন:- যারা প্রজ্ঞাবান হয়েছেন তাঁরা কখনো পোশাকের দিকে লক্ষ্য রাখার সময় পায় না৷
তাদেরকে ধুলা-বালি মাখা দেহ আর ছেঁড়া নেকড়া পরিধান করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
আমি বললাম:- আমি মনে করি প্রজ্ঞাবান মানুষের প্রকাশ’ই হলো তার পরহেজগারী পোশাক, কারণ উপযুক্ত লেবাস ছাড়া আমার কদর কখনো’ই মেলেনি, এই পোশাকে’ই আমার ফকিরি কদর মিলেছে।
জহুরী বললেন:- ফকির হয়ে ফকিরি করো, আমি তোমাকে ঐ অর্থে ফকির হতে বলেছি, যেই অর্থে একটা হস্তীর পাশে পিপীলিকার অবস্থান কতটা উচ্চতর দেখা যায়, তার চেয়েও নিচু ভাববে তোমার আমল ইবাদত ও নাম যশ খ্যাতি। সিনায় বিদ্যা রাখো, দুনিয়ার আকাঙ্খা ও নাম যশ পাবার লোভ-লালসা ত্যাগ করো৷
আমি বললাম:- জহুরী চাইলে আমি পরিবর্তন হয়ে যাবো, যদি সে আমাকে সঠিক ইবাদত করার নিশানা দেখায়৷
জহুরী বললেন:- ইবাদত করে ভালো হতে চাওয়ার কি দরকার? আগে পাপের জন্য মুক্তি চাও,
পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য আশ্রয় চাও।
– বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






