এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে পঞ্চভূতের মহাশক্তি বিরাজমান।
পঞ্চভূত ব্যাতীত কোনো কিছুর’ই দেহ সৃষ্টি হতে পারে না, ক্ষিতি-(মাটি), অপ-(পানি), তেজ- (অগ্নি), মরুৎ- (বাতাস), ব্যোম্- (আকাশ) এই পঞ্চভূত সৃষ্টির সৃজন এবং ধ্বংসের আগে ও পরেও অবশিষ্ট থাকেন এর বিনাশ নেই৷
তোমরা যদি জড়জগৎ থেকে মুক্তি পেতে চাও তবে তোমাদেরকে কায়াসাধন বা কুণ্ডলিনী সাধন করতে’ই হবে, কুণ্ডলিনী সাধনের মূল ভাবার্থ হলো অপ্রকাশিত অবস্থান থেকে প্রকাশিত হওয়া, বা অস্পষ্টতা থেকে স্পষ্ট হওয়া, এবং এক অচেনাকে চেনার স্বাদ পাওয়া।
তোমাদের সকলের দেহ’ই মেরুদণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে আছে, আর সেই মেরুদণ্ডতে’ই ছয়’টি পদ্ম বা চক্র রয়েছে যাকে আবার ষটচক্র বলে। এই ষটচক্রের একমাত্র চক্র যিনি ভ্রূদ্বয়ের মাঝে অবস্থান করেন তিনি হলেন আজ্ঞা চক্র, কেবল আজ্ঞা চক্র ব্যাতীত বাকি পাঁচটি চক্রই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পঞ্চভূতের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন।
যেমনঃ-
- ক্ষিতি’ এর প্রতিনিধি (মূলাধার চক্র),
- অপ্’ এর প্রতিনিধি (স্বাধিষ্ঠান চক্র),
- তেজ’ এর প্রতিনিধি (মণিপুর চক্র),
- বায়ু’ এর প্রতিনিধি (অনাহত চক্র),
- আকাশ’ এর প্রতিনিধি (বিশুদ্ধ চক্র)।
এই পঞ্চমভূতে পাঁচটি চক্র এবং ভ্রূদ্বয়ে অবস্থানরত আজ্ঞা চক্রকে একত্র করলে হয় ষটচক্র, এ চক্রের উপর যারা সাধন করবে, তাঁরা অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করে। কুণ্ডলিনী মহাশক্তির প্রতীক হলো সর্প (সাপ) আর এই সর্প প্রতীক’টি হিন্দু ধর্মের অনেক দেবদেবীদের মূর্তিতেও দেখা যায়, এর মূলে’ই রয়েছে এ শক্তির অবস্থান।
মানবকায়ার মধ্যবর্তী স্থানে তথা মূলাধার চক্রের নিকটবর্তী স্থানে এই কুণ্ডলিনী অবস্থান করেন৷ কুণ্ডলিনী মহাশক্তিটি অবচেতন অবস্থায় সর্পের মতন পাকিয়ে থাকেন, মুনি ঋষিদের মতে এই মহাশক্তি মূলাধার চক্রে সাড়ে তিন পাক দিয়ে পেঁচিয়ে থাকেন৷
এই অবচেতন কুণ্ডলিনীকে চেতন করে সহস্রার চক্রে বিন্দুরূপে শিবে যোগ করাই কুণ্ডলী যোগ। এই শক্তি যোগকে’ই শিব শক্তি বলে, আবার রাধা-কৃষ্ণ, ব্রহ্ম-বিষ্ণু প্রকৃতি শক্তিও বলা হয়। সর্প সাধন, পরকীয়া সাধন, কুলকুণ্ডলিনী সাধন এবং কায়াসাধন এ সকলের মূলে’ই এই মহাশক্তির সাধন৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






