ঐশী মানব ও নোবেল (মহাকাব্য)

ঐশী মানব ও নোবেল (মহাকাব্য)

ঐশী মানব ও নোবেল
-ফরহাদ ইবনে রেহান

পাণ্ডুলিপি নয়, হৃদয়ই ছিল ঈশ্বরের প্রথম গ্রন্থ।
কালাম নাজিল হয়নি কোনো কাগজে—
সে অবতীর্ণ হয়েছিল জীবন্ত হৃদয়ে,
একজন পূর্ণ মানবের রক্তমাংসে,
যার নিঃশ্বাসেই উচ্চারিত হয়েছিল অনন্ত চেতনার বাণী।

তাঁর মুখের কথা হয়ে উঠেছে ধর্ম,
তাঁর নীরবতা হয়তো মহাকাব্য,
তাঁর চোখের অশ্রুতে রয়েছে বহু জাতির মুক্তি।
তবু, আজ মানুষ খুঁজে ফেরে সত্যের দলিল খণ্ড-খণ্ড পাতায়,
যেখানে হ্রদয়হীন অক্ষর আর প্রথার গোলকধাঁধায়
নতুন করে জন্ম নেয় বিভাজন, ধর্মান্ধতা আর বিদ্বেষ।

তুমি কি ভেবে দেখেছ?
কোনো ঐশী গ্রন্থ কি পেয়েছে নোবেল?
না, কারণ নোবেল দেয় মানুষ,
আর ঐশী কথা আসে সেই মানুষ হয়ে ওঠা আত্মার কাছ থেকে,
যারা নিজেরাই নোবেল—
যাদের জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসে লুকানো ছিল একেকটি শান্তির পদ্য,
প্রেমের মহাকাব্য, চেতনার গণিত।

তারা চায়নি কিছু, দেয়নি ফতোয়া—
শুধু জাগিয়েছে আত্মা, জাগিয়েছে মানবতা।
তাদের মুখে ছিল না “আমার ধর্ম সেরা”—
তাদের কণ্ঠে ছিল, “তুমি মানুষ, আর তাই তুমিই পবিত্র।”

হে সভ্যতা, হে মানবজাতি,
মোড়কে নয়, মননে খোঁজো ঈশ্বরকে।
স্মৃতিশক্তির মুখস্থ ধর্ম নয়,
স্মরণশক্তির হৃদয়ধর্ম গড়ো।

কারণ সব ধর্মগ্রন্থের আগে ছিল মানুষ—
যার উপর নাজিল হয়েছিল বাণী,
যার হৃদয় ছিল আয়াত,
যার কর্ম ছিলই হাদীস,
যার নীরবতা ছিল এক জীবন্ত গীতা,
আর যিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি পূর্ণ ব্রহ্মপাঠ।

ঐশী মানবেরা কখনো তাদের মুখে বলেনি “আমি ঈশ্বর”,
তবু যারা তাঁদের দেখেছে অন্তর দিয়ে,
তারা বুঝেছে—
তাঁরাই ঈশ্বরের প্রকাশ, নামহীন আলো,
চিরন্তন চেতনা, এক অদৃশ্য প্রেম,
যা কাগজে নয়, কেবল হৃদয়ে লেখা যায়।

তুমি যদি সত্য জানতে চাও,
বই নয়, মানুষ খুঁজো।
কারণ ধর্ম নয়,
ধর্মগ্রন্থ নয়,
ঐশী মানুষই একমাত্র
ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ দলিল

আরো পড়ুনঃ