অস্তিত্বের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা
প্রকৃত জীবনের রহস্য উন্মোচিত হয় যখন তুমি বাইরের পৃথিবী থেকে সরে এসে নিজের অভ্যন্তরের গভীরে ডুব দাও, এবং একই সঙ্গে চেতনার উচ্চ শিখরে আরোহণ করো। এ দুটি একই পথের দুই দিশা যেন এক মুদ্রার দুই পিঠ। গভীরে যাওয়া মানে উঁচুতে ওঠা, আর উঁচুতে ওঠা মানে গভীরে প্রবেশ করা। এটা অনুভূমিক নয়, এটা উল্লম্ব মাত্রা যেখানে সময়ের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়, এবং চিরন্তনের স্পর্শ লাগে।
সাধারণ মানুষের জীবন অনুভূমিক: অতীত থেকে ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা, ঘটনা থেকে ঘটনায় লাফিয়ে লাফিয়ে যাওয়া। তাদের জীবন যেন একটা সমতল, চুপসে যাওয়া চাকা ঘুরছে তো ঘুরছেই, কিন্তু কোথাও পৌঁছাচ্ছে না, শুধু ক্লান্তি আর অর্থহীনতা জমা হচ্ছে।
কিন্তু যখন তুমি উল্লম্ব হয়ে ওঠো যেমন একজন সাধক, একজন জাগ্রত আত্মা তখন জীবন হয়ে ওঠে এক অপার আশীর্বাদ। এ জীবন আর তোমার অর্জন নয়, এ হয়ে ওঠে সেই অসীমের দান, যাকে আমরা খোদা বলি, অস্তিত্ব বলি। তাকে প্রতিদান দেওয়ার কোনো উপায় নেই, কোনো পথ নেই। শুধু থাকতে পারো অসীম কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয়ের গভীর থেকে উথলে ওঠা এক ধন্যবাদ।
এই কৃতজ্ঞতাই প্রকৃত প্রার্থনা। এই কৃতজ্ঞতাই ধর্ম। না কোনো আচার, না কোনো নিয়ম শুধু এক গভীর অনুভূতি: যা কিছু পেয়েছি, তার জন্য অস্তিত্বের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
যখন এই কৃতজ্ঞতা তোমার প্রতিটি শ্বাসে মিশে যায়, তখন জীবন আর বোঝা নয় হয়ে ওঠে এক অপূর্ব উপহার, যা প্রতি মুহূর্তে নতুন করে উন্মোচিত হয়।
– ফকির জুয়েল সাধু






