দুনিয়ার সকল পুরুষকে নারীর অধিনস্থ করে দাও।

দুনিয়ার সকল পুরুষকে নারীর অধিনস্থ করে দাও।

দুনিয়ার সকল পুরুষকে নারীর অধিনস্থ করে দাও এবং পুরুষদেরকে করে দাও নারীদের ক্রীতদাস।

পুরুষের মুখে শুনেছি নারীকে আমরা সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছি, এ যেন খেকশিয়ালের মুখে মাংস না খাওয়ার বুলি! কিছু দিন আগে এক বেদের ছেলে সাক্ষাৎকারে আমাকে প্রশ্ন করেছিল; বুদ্ধ, আপনি নারীদেরকে কোন চোখে দেখেন? উত্তরে আমি বলেছিলাম; নারীদেরকে আমি সর্বোচ্চ সম্মানী হিসেবে জানি কিন্তু তাদেরকে খুব ছোট চোখে’ই দেখি। আমার জানা এবং দেখা দুটোকে’ই আমি সত্য বলে দাবি করছি।

নারীরা অতি সম্মানী এটা অস্বীকার করার হিম্মত কারোর নেই। আমিও জানি যে, নারীরা অতি সম্মানী, কিন্তু আমি যা দেখি তা আমার জানাকে অস্বীকার করে, কারণ চোখ দিয়ে দেখলে মনে হয় নারীরা’ই সবচেয়ে অপদস্ত প্রাণী।

দেখো দুনিয়ার সকল পুরুষরা’ই বলে থাকে যে তাঁরা নারীদেরকে সম্মান করেন, কিন্তু তুমি যদি চেতন হয়ে তাকিয়ে দেখো তবে তাদের কথার সাথে কাজের অনেক ভিন্নতা উপলব্ধি করতে পারবে, এবং উপলব্ধি করতে পারবে ঈশ্বরের মাঝেও কতটা পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। দেখবে ঈশ্বর স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশ রেখে দিয়েছেন, আবার স্বামী স্ত্রীর যেসব স্থানে নির্যাতন করবেন সেই সব স্থান জান্নাতে যাবে বলেও মৌখিক দলিল করেছে অনেকে’ই।

নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে বলে’ই বোধহয় নারীরা পুরুষদের দাসী হয়েছিল! নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে বলে’ই বুঝি এক পুরুষ শত নারীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে লীলা করতে পারে! তুমি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাস দেখে বলো এ পর্যন্ত কতজন নারী বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শাসক হয়েছিলো? কতজন নারী সর্বোচ্চ সম্মানিত হয়েছে? কতজন নারী মরার আগে’ই বেহেশতের টিকেট নিশ্চিত করেছেন?

ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া সেও তো ফেরাউনের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলো? আসিয়ার দ্বারা তো ফেরাউন নির্যাতিত হয়নি? তোমরা গলাফাটা চিৎকার করে যাচ্ছো নারী অনেক দামি, অনেক সম্মানী, কিন্তু এই নারীকে কেমন সম্মানী আসন দিয়েছে তোমার জাতি? জিগাও তোমার জাতিকে নারীর সম্মানে তাঁরা কোন আসন রেখেছে নারীর জন্য? জিজ্ঞাসা করো ঐ জাতির কাছে, যে জাতি নারীকে দুনিয়া দেখতে দেয়নি সে জাতি নারীকে কেমন সম্মান দিলো? জবাবদিহি চাও সেই জাতির কাছে যারা নারীদের জ্যান্ত পুড়িয়ে দিয়ে ছিলো। যেই জাতি আজও উচ্চস্বরে বলে বেড়ায় নারীর জন্ম হওয়াটা কুলক্ষণা, সেই জাতি’ই আবার গলাবাজি করে নারীকে অতি সম্মানী বলে! এ কেমন হাস্যকর ব্যাপার।

যে নারী একজন আদমের শান্তি দাতা হয়েছিল, যে নারী একজন ঈসাকে গর্ভে রাখতে পারলো, যে নারী একজন ইব্রাহিমকে জন্ম দিতে পারলো, যে নারী একজন কৃষ্ণ, একজন বুদ্ধ, একজন মুহাম্মদকে ভূমিষ্ঠ করতে পারলো, সে নারীকে একটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা করার দায়িত্ব দিতে তোমাদের এত ভয় কিসের? সে নারীর দ্বারা পরিচালিত হতে তোমাদের এত লজ্জা হয় কিসের?

সে নারীর আনুগত্য করতে তোমাদের এত বাধা আসে কিসের? দিয়ে দেখতে একজন রাবেয়ার হাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব? দিয়ে দেখতে একজন মাদার তেরেসা’র হাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা করার দায়িত্ব! কিন্তু তোমরা তা করতে সাহস দেখাওনি, তোমরা নারীদেরকে সম্মান আর মর্যাদার আড়ালে শুধুমাত্র ভোগের বস্তু করে রেখেছো। তোমরা তাদের কর্তা সেজেছো এবং সেজেছো তাদের ভাগ্যবিধাতা।

তোমরা একবার দিয়ে’ই দেখোনা নারীদের হাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডটাকে, কি আর হবে? বেশি হলে জুলেখাদের হাতে ইউসুফদের হয়রানি হবে? কিন্তু জুলেখারা তো আর ইউসুফদের হাতে ধর্ষণ হবেনা?বিলকিস রাণীদের ‘পা’ দেখার জন্য’ই নাহয় সুলাইমানরা লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করবে, কিন্তু বিলকিস রাণীরা তো আর সুলায়মানদের দাস বানিয়ে রাখবেনা? নারীর হাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিরাপদ, তোমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে নারীদের হাতে দিয়ে দাও।

নারীরা নিষ্ঠুর হতে’ই পারেনা, মা কখনো অশান্তির নয়। নারীর হাতে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গেলে ব্রহ্মাণ্ডে অরাজকতা থাকবেনা। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি উচ্চপদে নারীদেরকে বসাও এবং দেখতে থাকো দুনিয়া স্বর্গে পরিণত হচ্ছে। রক্ষা পাবে নারীর মর্যাদা এবং রক্ষা পাবে নারীর দেহ, সাথে বন্ধ হবে যৌন নির্যাতন।

একটা শিক্ষিত মা যদি একটা শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারে, তবে প্রতি শিক্ষিত নারী বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে স্বর্গে পরিণত করতে পারবে’ই পারবে, তুমি আমাকে যাহা কিছু’ই বলো এ সত্য কখনো অস্বীকার করতে পারবেনা যে দিন শেষে প্রতিটি পুরুষ’ই নারীর কাছে শান্তি খুঁজে পায়, হয় মা আর নাহয় সহধর্মিণী পুরুষদের শান্তির বটগাছ হয়ে থাকে। আর যার মা এবং সহধর্মিণী দুটির একটিও নেই সে আমার মতন যাযাবর হয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

লেখা- বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ