বর্তমান বাউলশিল্পিদের সম্পর্কে কিছু কথা।
অনেক বাউল শিল্পি আছে যারা বেশিরভাগই কন্ঠ আর রসিক কথার জন্য বাউলশিল্পি হতে পেরেছে। বেশিরভাগ বাউলশিল্পি তাসাউফের মুখস্থ জ্ঞানী, যার কারনে গায়ের জোশে জায়গায় বে-যায়গায় বেফাঁস মুখস্ত কথাবার্তা বলে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে থাকে। তবে বাউলরা গুরুবাদীও হয়, কিন্তু বড় দুঃখের বিষয়- একসময় তাদের ভক্ত বেড়ে গেলে নিজেরাই গুরু হয়ে যায়।
তবে তাদের বিশেষ ভালো একটি দিক হচ্ছে— তারা ওলি-সুফিদের পক্ষে কথা বলে এবং ওলি সুফিদের শান-মান গানের ভাষায় ব্যক্ত করে, এজন্য অনেক গুরুবাদী ও সুফিপন্থিরা বাউল শিল্পিদের পছন্দও করে থাকে। আমি কখনওই পেশাগত বাউল শিল্পীদের সুফি মনে করিনা। কেননা সবাই কবি রাজ্জাক দেওয়ান, রশিদ সরকার, শাহ আব্দুল করিম, আব্দুল আলীম, রমেশ শীল প্রমুখদের মতো ভাবজগতের কবিয়াল বাউল কেউ হতে পারেনি।
তারা আগে গুরুবাদী হয়েছে তারপর বাউল হিসেবে পরিচিত হয়েছে, সূরের ভাষায় সত্যবানীকে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করিয়েছে। এবং বাউলশিল্পি পেশার মাধ্যমে টুকটাক জীবিকা নির্বাহ করেছেন। আর লালনের ধারা মূলত বাউল থেকে আসেনি, বা বাউল লালন থেকে আসেনি, লালন ফিলোসোফি সম্পূর্ন গুরুবাদী ও আধ্যাত্বিক। বাউলশিল্প পেশাকে আমি একটি কিংবদন্তি পেশা হিসেবে মনেকরি, তাছাড়া বাউলশিল্প কোনো ধর্ম, পথ বা মতও নয়।
“কর্মই ধর্ম, অশান্তিই অধর্ম।
সত্যই পরম, জীবের কল্যানই ইবাদত।”
– Nishat Wahid






