ইবনুল আরাবী (রহঃ) অস্তিত্বের আকাশে এক শাইখুল আকবর।
স্পেনের আকাশে জন্ম নিল এক শিশু, যে শিশুর হৃদয়ে লুকানো ছিল মহাবিশ্বের গোপন রহস্য। নাম তাঁর মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী। পরে ইতিহাস তাঁকে ডাকল শাইখুল আকবর, “মহান শাইখ” নামে।
তাঁর চোখে মানুষ আর জগৎ ছিল না কেবল মাটি পাথরের খেলা। তিনি দেখতেন প্রতিটি ধূলিকণা, প্রতিটি ফুল, প্রতিটি হৃদস্পন্দন আসলে আল্লাহরই নীরব প্রকাশ। যেন পুরো সৃষ্টি এক বিশাল আয়না, আর সেই আয়নায় প্রতিফলিত হচ্ছে একমাত্র সত্তা আল্লাহ।
ইবনুল আরাবীর কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল এক অদ্ভুত ডাক- “আল্লাহ ছাড়া কিছুই নেই, আমরা সবাই তাঁর ছায়া মাত্র।”
তাঁর এই ডাক কারও কাছে ছিল তাওহীদের গভীরতম সঙ্গীত, আবার কারও কাছে বিভ্রান্তির ঝড়। কেউ তাঁকে বলল মহান সাধক, কেউ আবার অভিযুক্ত করল ভ্রান্ত দার্শনিক হিসেবে। তবুও ইতিহাস সাক্ষী, তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই আধ্যাত্মিকতার আলো ঝলসে ওঠে।
তিনি লিখলেন ফুসুসুল হিকাম, যেখানে প্রতিটি নবীর জীবনে খুঁজে পেলেন আল্লাহর একেকটি গোপন হিকমত। তিনি লিখলেন আল ফুতুহাতুল মাক্কিয়া, যেখানে মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করলেন ভালোবাসা আর রহস্যের ভাষায়। তাঁর কলমে কোরআনের আয়াত যেন নতুন আলোয় ঝলসে উঠেছিল।
ইবনুল আরাবী বলতেন- “যার হৃদয়ে ভালোবাসা নেই, তার ঈমান অসম্পূর্ণ।”
তাঁর চোখে ভালোবাসা মানে শুধু মানুষে মানুষে নয়, বরং প্রতিটি সত্তার ভেতর দিয়ে আল্লাহকে খুঁজে নেওয়া।
১২৪০ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে তাঁর দেহ মাটির কোলে ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু তাঁর চিন্তা, দর্শন এখনো বেঁচে আছে আকাশের নক্ষত্রের মতো। তিনি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেন, মানুষকে ছোট করে দেখিস না। পাহাড়, নদী, আকাশ, কিছুই তুচ্ছ নয়। প্রতিটি জিনিসেই আল্লাহর রহস্য লুকানো।
লেখা- তানভীর আহমেদ






