যে সকল ভয়ের মুখোমুখি হয়ে তোমাদের কঠিন লড়াই করতে হবে৷
জরা, দুঃখ-দূর্দশা, ব্যাধিপীড়া ও মৃত্যুকে ভয় করিয়া কেহ কখনো’ই এর থেকে মুক্তি নিতে পারেনি৷ বরঞ্চ এসবের উপরে যারা ভয় রেখেছে তাঁরা আরও স্বাধীন ভাবে জীবন উপভোগ করতে ব্যার্থ হয়েছে৷ তোমাদের জীবনে জরা, দুঃখ-দূর্দশা ও ব্যাধিপীড়া মৃত্যু নামক যেসকল ভয় রয়েছে, সে সকল ভয়ের মুখোমুখি হয়ে তোমাদেরকে কঠিন ভাবে লড়াই করতে হবে৷ সকল ভয়ের চোখে চোখ রেখে চলতে হবে। আর তোমরা যদি তা করতে পারো তবে দেখতে পাবে জরা, দুঃখ-দূর্দশা, ব্যাধিপীড়া ও মৃত্যু নামক যেসকল ভয় রয়েছে সেসকল ভয় তোমাদের চতুর্দিক থেকে দূরে সরে যাবে।
তোমরা যদি মরে বাঁচতে চাও তবে তোমাদেরকে সর্বপ্রথম ভয় থেকে মুক্তি নিতে’ই হবে। এর পরে স্বর্গলাভ সুখের স্বপ্ন থেকে মুক্তি নিতে হবে৷ যদি প্রকৃতভাবে বেঁচে থাকতে চাও, তাহলে অবশ্য’ই তোমাদেরকে ভয় এবং সুখের নিরাপত্তা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে, বাঁচার জন্য স্বাধীনতার বিকল্প আর কিছু নেই৷ যদি তোমাদেরকে মুক্তি নিতে হয় তবে স্বাধীনতা অর্জন করে ঐ সকল ভয়ের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে’ই মুক্তি নিতে হবে। জরা, দুঃখ-দূর্দশা,ব্যাধিপীড়া, মৃত্যুকে যারা ভয় পেয়ে পলায়ন করেন তাঁরা হইলো কাপুরুষ।
আর কাপুরুষেরা কখনো স্বাধীনতা পায় না, মুক্তিও না, কারণ কাপুরুষেরা সংগ্রাম করতে’ই যানেনা। হায়! এই বুঝি আমাকে জরা, দুঃখ-দূর্দশা, ব্যাধিপীড়া ও মৃত্যু আক্রমণ করতে যাচ্ছে, ঈশ্বর বুঝি আমাকে পাপের সাজা দিবেন, আমি সম্ভবত নরকে যাবো, এসকল ভেবে তুমি যখন পিছনে হাঁটতে শুরু করো ঠিক তখন’ই এরা তোমাকে অনুসরণ করতে শুরু করে। আর তুমি যখন এদের চোখে চোখ রেখে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করবে ঠিক তখন’ই দেখবে এরা তোমাকে দেখে পিছু হটতে শুরু করে দিয়েছে৷
দেখো সমগ্র জগৎ এক অচেনা সুখের দাসত্ব করে চলছে, সবাই সুখের দাস হয়ে সুখের উপাসনা করে চলছে, যদিও বলা হয়ে থাকে ঈশ্বরের উপাসনা করে তবুও এর মুলে রয়েছে সুখের উপাসনা। অন্যদিকে তাকিয়ে দেখো মুক্তির জন্য দুঃখ-ভয়ের সাথে লড়াই করার সাহস খুব অল্প সংখ্যক লোকেদের রয়েছে৷
যারা স্বাধীন হয়ে সুখ-দুঃখ উভয়কে অতিক্রম করেছেন তাঁরা’ই মুক্তির পথে চলেছেন, তোমরা সুখ-দুঃখের দ্বার অতিক্রম না করতে পারলে কখনো’ই মুক্তি নিতে পারবেনা, কারণ তোমরা স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত বহিরাগত ঈশ্বরের উপাসনা করে মুক্তি চাইতে থাকবে, আর তোমরা যখন স্বাধীন হয়ে যাবে তখন লড়াই করে তোমরা তোমাদের মুক্তি ছিনিয়ে আনবে৷
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






