আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি এক্ষুনি যাও!
তুমি আধ্যাত্মিকতা করতে এসেছো ভালো কথা, আধ্যাত্মিক ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হও আমিও চাই। কিন্তু এ পথে এসে কখনো গুরুতুল্য লোকের গৃহ- দেয়ালে ভুলেও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে যাইওনা, কেননা এই ইট পাটকেল ঘুরে এসে আবার তোমার শরীরে’ই আঘাত করবে। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি এক্ষুনি যাও গিয়ে জনশূন্য অঞ্চল গমন করে দেখে আসো একা থাকার অনুভূতি কেমন হয়, তুমি মরুভূমিতেও ঘুরে দেখে আসো তৃষ্ণার্তের বাস্তবতা কতটা ভয়ংকর।
তুমি মিসকিনদের শুকনো মুখে এক ফোঁটা জল দিয়ে দেখিও তার নিস্পাপ হাসির ঝলকানিতে কেমন মুক্তা ঝড়ে, ক্ষুদার্তের ক্ষুধা নিবারন হয় এমন আহার ক্ষুদার্তের মুখে তুলে দিয়ে দেখতে পারো তাঁরা আর স্বর্গ চাইবেনা। অনাহারে থাকা ব্যাক্তিকে একটাবার জিজ্ঞেস করে দেখিও সে কি চাইছে, আমি বলতে পারি সে তোমার কাছে মণিমুক্তা চাইবে না, ক্ষুদার্ত ব্যাক্তি আগে চাইবে তার ক্ষুধা নিবারণ করার জিনিষ।
মনে রেখো, সামান্য কষ্টে মানুষ লোভী হয়ে উঠতে’ই পারে, কিন্তু কষ্ট’টা যখন হয় জীবন বাঁচানোর জন্য তখন আর লোভী থাকেনা, যদিও বিশ্বাস করে হায়াত থাকতে মরবেনা, তবুও ক্ষুদার্ত জীবন বাঁচানো জন্য মণিমুক্তার পরিবর্তে আহার চায়। আমি এমন অনেক বীবপুরুষদের দেখেছি যারা শক্তির দ্বারা অনেক কিছু করেছে, কিন্তু একজন ক্ষুদার্তের মুখে একমুঠো আহার দেয়ার মতন শক্তি তাদের ছিল না, মনে রাখবে ঐ বীরপুরুষদের চেয়ে শক্তিহীন পুরুষরা’ই অতি উত্তম যারা অনাহারের মুখে আহার দিতে সাহস করে।
নিস্তব্ধ রাতে পূর্ণিমার চাঁদ উপভোগ করার মজা বেহেশতী শরাবের মতন’ই, তখন মনের সূর হয়ে আসে অগনিত হুরেদের ছোঁয়া, এমন পরিবেশকে যারা উশৃঙ্খলে পূর্ণ করে দেয় তাদেরকে অপমানিত করা’ই ভালো, কারণ যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে সম্মান করেনা তাকে অসম্মান করা কোনো দোষের কাজ নয়।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






