মজ্জুব অলি হযরত ছরমদ মজ্জুব (রহঃ)
উনার আসল নাম হচ্ছে হযরত ছরমদ মজ্জুব (রহঃ) তিনি জনাব উপাধিতে ভূষিত, তিনি ছিলেন উপভারতের বাসিন্দা এবং মজ্জুব অলি, তিনি কখন কোন সময় জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, সেই বিষয় তেমন কিছু জানা যায় নাই। তিনি কোরআন তেলওয়াত করতেন, তিনি রোজা রাখতেন, হজ্ব করতেন, যাকাত দিতেন এবং ফকিরি হালতে আল্লাহ্ ত্বায়ালার ইবাদত করতেন, শুধু তিনি নামাজ পড়তেন না।
একদিন কয়েকজন মুসল্লী জোড় করে উনাকে মসজিদে নিয়ে যায় নামাজ পড়ার জন্য, তখন ইমাম সাহেব এবং বাকি মুসল্লীরা নামাজ পড়ছিল, কিন্তুু ছরমদ মজ্জুব নামাজ না পড়ে এক কিনারে বসে উনার ডান পা দিয়ে মেঝেতে লাথি মারতে লাগল আর বলতে লাগল- “তোদের খোদা আমার পায়ের নিচে, তোদের খোদা আমার পায়ের নিচে, তোদের আমার পায়ের নিচে।”
এরকম করে তিনবার বললো মুসল্লীরা তখন তারা গরম হয়ে গেলো, তারপরে ছরমদ মজ্জুব কে নিয়ে তারা তৎকালীন কাজী সাহেব (বিচারক) এর কাছে গিয়ে তার মৃত্যুডণ্ডের আদেশ নিয়ে তাকে শরীয়ত মোতাবেক শিরোচ্ছেদ করে হত্যা করলো।
হত্যার এক পর্যায়ে গিয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন – ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, তারপরে মুসল্লীরা সেই ইমাম সাহেবের কাছে গেলেন তারপর জিজ্ঞেস করলেন, যেই সময় এই পাগল আল্লাহ ত্বায়ালা কে গালি দিলো তখন আপনার মনে আসলো যে আপনি প্রতিবাদ করেন নাই, তারপর ইমাম সাহেব বললেন তখন আমার মনে আসলো যে- “আমার পাঁচজন মেয়ে আছে কি করে আমি বিয়ে দিবো আমার তেমন পয়সা কড়িও নাই।” এটাই আমার মনে আসছে আর কিছু না, তখন মুসল্লীরা ভাবলো যে পাগল টা সেই মেঝেতে কেনো লাথি দিয়েছিলো এখানে কিছু একটা আছে, তারপরে সেই মেঝে টা খুঁড়তে খুঁড়তে দেখলো যে কি সেই খানে কোটি কোটি স্বর্ণ মুদ্রা চান্দী সহ আরো গুপ্তধন, তখন তারা বুঝতে পেলো যে কি পাগল টার থেকে ক্ষমা চেতে হবে, কিন্তু ততক্ষণে তো দেরি হয়ে গিয়েছিল।
ফকির লালন শাহ্ বলেছেন-
“যেহি তো মুর্শিদ সেই তো রাসূল”
অথচ না বুঝে অলি আউলিয়াদের ব্যাপারে কটু কথা বলা সবচেয়ে বড় বিয়াদব, সে কারণে অলিদের বিশ্বাস রাখার দরকার আছে
মৌলানা বজলুল করিম মন্দাকিনী উনার শান তুলে বলেছেন-
“জনাব ছরমদ রসিক ছিল,
রসেরি চলা তিনি চলিল,
কানারা তাতে ফতোয়া দিল,
বেবুঝারা মারিলো গর্দান”
আল্লাহ ত্বায়ালা যেন পৃথিবীতে অলি আউলিয়াদের কে যেন আজও একই ভাবে এই দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখুন, ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ, আসসালামু আলাইকুম। (তামাম শুদ)
– ছৈয়দ হাসনাইন মুত্তাকি






