শব্দের উৎসে সৃষ্টিকর্তা – এক অনন্ত সন্ধান

শব্দের উৎসে সৃষ্টিকর্তা – এক অনন্ত সন্ধান

সৃষ্টিকর্তা কোনো গেঁথে রাখা গ্রন্থে সীমাবদ্ধ নন। তিনি কোনো একখণ্ড পাণ্ডুলিপির পাতায় আবদ্ধ হয়ে থাকেন না—তাঁর উপস্থিতি প্রবাহমান, চেতনার অতল গভীরে নিবিষ্ট। তিনি কেবল কোরআন, বাইবেল, বেদ, উপনিষদ, তাওরাত কিংবা অন্য কোনো ধর্মগ্রন্থে লুকিয়ে নেই—বরং সমস্ত শব্দ-সত্ত্বার গভীরতম উৎসে তিনি বিরাজ করেন।

যেখানে শব্দ হয়ে ওঠে পরিশুদ্ধ, যেখানে উচ্চারণ হয় হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে—সেইখানে সৃষ্টিকর্তার আবাস। তিনি কবিতার ছায়ায়, সঙ্গীতের রাগে, ধ্যানে ও ত্যাগে আত্মপ্রকাশ করেন। কারণ, শব্দই তাঁর অনন্ত অভিব্যক্তি—শব্দই জগতের প্রথম কম্পন, যা থেকে সৃষ্টি, ধ্বংস ও পুনর্জন্মের চক্র আবর্তিত।

যে মানুষ এই শব্দসমূহের উৎস সন্ধানে নামে, সে-ই আসলে আত্মা থেকে পরমাত্মার দিকে যাত্রা করে। এই পথ বর্ণের নয়, ধর্মের নয়—এই পথ চেতনার, এই পথ ভালোবাসা, ঔদার্য ও নিঃস্বার্থ উপলব্ধির। এ পথেই খোঁজ মেলে সেই এক পরম সত্তার, যিনি বহু নামে পরিচিত, কিন্তু স্বরূপে একজনই—আল্লাহ্, ঈশ্বর, ভগবান, বা অনামা।

তিনি ধরা দেন না কোনো শাস্ত্রে, কোনো গদ্যে, কোনো কাব্যে—তবে নিজেকে চিনিয়ে দেন সেই প্রতিটি মুহূর্তে, যেখানে একজন মানুষ তার অন্তরতম থেকে প্রশ্ন তোলে, “আমি কে?”, এবং শব্দ ছাড়া সেই প্রশ্নে ডুবে যায় আত্ম-অনুসন্ধানে।

এই কারণেই সব ধর্মগ্রন্থ, সব মন্ত্র, সব বাণী—পাণ্ডুলিপি নয়, বরং চিঠি মাত্র—প্রেরকের পরিচয় নয়, তাঁর সন্ধানমাত্র।

সুতরাং, যদি তুমি জানতে চাও সৃষ্টিকর্তাকে, তবে খোঁজ করো পরিশুদ্ধ শব্দের উৎস, নিজ হৃদয়ের নিঃশব্দ উচ্চারণে। কারণ সেইখানেই, তোমার অন্তরের গভীরে, তিনি বসে আছেন—এক চিরন্তন পাঠক হয়ে, জগৎ নামক মহা-পাণ্ডুলিপির একমাত্র পাঠকারী ও রচয়িতা।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ