সংস্কার বা বাসনা

সংস্কার বা বাসনা

সংস্কার এর অন্য রুপ হল বাসনা। জন্ম জন্মান্তরের কর্মভোগ বা কর্মফল মাফিক ভোগকেই সংস্কার বলে।
আসক্তি হল-একটা বস্তু আশা করে সে বস্তু পেয়েও সেই বস্তু ভোগ করতে না পারায় তার প্রতি একটা মোহটান থাকাকেই আসক্তি বলে।

আর আশা করেও সেই বস্তু পায় নাই আর ভোগও করতে পারে নাই এটাই সংস্কার। মরনশীল জীব মায়াদ্বারা অবশ হয়ে কর্ম করে। তাই তাদের জন্ম মৃত্যু ইচ্ছাধীন নয়। তাদের জন্ম মৃত্যু প্রকৃতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। জন্ম-মৃত্যু শুধু একটা অবশ অজ্ঞান ভাব।

পবিত্র আল্ কোরান বলছে:- কেয়ামতের কাযর্ চক্ষুর নিমেষ বৈ নহে-অথবা তাহা হতে আরো নিকটতম। (সুরা নহল-৭৭-র-১১)

মনমোহিনী রুপ দেখে যখন কোন পুরুষের নারীর প্রতি এক মহা আর্কষণে দেহের প্রতিটা কোষ জেগে উঠে- (বিচার কাযর্ ঘটানোর লক্ষে) বা ছিটকানোর জন্য এক সন্মোহিতো টানে রত হল বা তৈরি হল ঠিক তখনই সংযোগ সৃষ্টি হল সেই ভাবময়ী সত্তার সাথে এবং তক্ষণে আর্কষণরত পুরুষ দেহে তার কামময় সত্তায় এক ঘনীভূত বীজদানা অবস্থার ক্ষেত্র তৈরি হতে থাকলো। আর ঠিক তখনই ঐ যে সত্তা বা আত্মা তার পূবর্ের সংস্কার,বাসনা,আসক্তি নিয়ে ভাবভুমিতে অবস্থান করতেছিল (মরন কবরে) সন্মোহিতো অবস্থায়।

তাকে আবার আকারে সৃজন করার লক্ষে ঐ আর্কষণরত ঘনীভূত ভাব ধারায় হল তার পুনউত্থান বা সৃষ্টি হওয়ার বিকাশময় মধ্যেপথ।

সাঁইজি ফকির লালন বলেন-

নিরাকারে তুমি নুরী ছিলে ডিম্ব অবতারি
সাকারে সৃজন গঠলেন ত্রিভুবন
আকারে চমৎকার ভাব দেখালে…

এই যে সৃষ্টির সৃজন প্রক্রিয়ার কি চমৎকার ভাব তিনি বলেছেন, আমি আদমের রহস্য আদম আমার রহস্য। আদম তনের ভিতর দিয়ে জন্ম মৃত ও তার বিচারকার্যের সব কিছুর নিগুড় হিসাব কিতাব করা হচ্ছে- জীবের বুঝার সাধ্য নাই। আর ঐ মধ্যপথ অবলম্বন করার সাথে সাথেই যার যার কর্মফল মাফিক সে যে সংস্কার নিয়ে মহা মরন কবরে বা আলোর ভাবভুমিতে সে আবিষ্ট হয়ে ছিল তখন তাকে তার কর্মফলের রায় (মিজানের পাল্লা) স্রষ্টার নির্দেশে প্রদান করা হবে এবং ঐ ভাব সন্মোহিতো অংকুরে তাকে পুনরায় কায়েম বা সৃষ্টি হতে হুকুম করা হবে।

আরো পড়ুনঃ