গুরু বা মূর্শিদ কে?
গুরু হলো পথ প্রদর্শক, যিনি অন্তরের অন্ধকার দুর করেন, সর্ব সংশয় দুর করেন, পূর্ব সংষ্কার কাটিয়ে দেন তিনিই গুরু বা মূর্শিদ। গু-মানে অন্ধকার, রু-মানে আলো অন্ধকারে যিনি আলো দেন তিনিই গুরু। সদগুরুকে চেনা বড় কঠিন তবে তিনি যদি ধরা দেন তাহলেই তাকে চেনা যায় সহজে। গুরু পথ দেখিয়ে দেই ঠিক সেই পথে চলতে হবে ভক্তকে নিজ দৃষ্টি দিয়ে। যে ভক্তের স্বাধীন বিচার শক্তি নাই সে ভক্ত গুরুবাক্য ঠিকমতো পালন করতে পারেনা। ভক্তের ভক্তি শ্রদ্ধা, প্রেমময়-স্বভাব, গুরুর শুদ্ধ বাক্যের আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, দৃষ্টান্ত ও ইঙ্গিত সমুহকে বিনা বিচারে ও বিনা যুক্তিতেই বিশ্বাসযোগ্য বলিয়া গ্রহন করতে হয়।
যতদিন ভক্ত উন্নত সংস্কারের অধিকারী না হবে,ততদিন তাকে উন্নত তত্ব দান করা গুরুর সাধ্যাতীত। আবার যতদিন গুরু না হইবে সম্যক প্রকারে নিঃস্বার্থ চেতা, ততক্ষন পর্যন্ত হীন সংস্কারাচ্ছন্ন ভক্তের মনে উন্নত সংস্কারের জাগরন ও অসম্ভব। নিঃস্বার্থচেতা গুরু যদি কোন ভক্তকে জগত কল্যানের সংকল্প দেন,তবে ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তাকে জগত কল্যান করতেই হবে। আর জগত বা সৃষ্টিকুলের কল্যান সেবাই যখন ভক্ত হৃদয়ে প্রেমে আকুল হবে,তখন বিশ্ব প্রকৃতি, মহা শক্তি, আদ্য শক্তি যত দুরেই থাকুক, যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেনো ভক্তের কাছে ধরা দিবে ও তার সেবা গ্রহন করবে।
সদ্ গুরু বা সম্যক গুরু দিক্ষা বা বায়াত দিয়ে গুরুকর্ম বা উপদেশ দিয়েই কি খালাস? সদগুরু জানেন, একই পরমসত্তা সম্যক গুরুর মধ্যে দিয়ে ভক্তকে উপদেশ দেওয়াচ্ছে,আবার সেই পরমসত্তা ভক্তের মধ্যে অবস্থান করে উপদেশ পালন করছে। তাই সদ গুরু তার অন্তরে ভক্তকে আদ্য শক্তি রুপে আরাধনা করে। লোকশিক্ষার জন্য বাহ্যিক ভাবে ভক্তের ভক্তি নিয়ে থাকে, আর অন্তরে তৃপ্তির জন্য ভক্তকে ঈশ্বরীয় জ্ঞানে অর্চনা করে।
বায়াত বা দীক্ষা দিয়ে প্রকৃত সদ্ গুরু কখনো শিষ্যের স্বধীনতা হরণ করে না।প্রকৃত সদ্ গুরু ভক্তকে ধ্যান করে।
ভক্তের জীবনের মুক্তি,ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতা,আলোকময় সত্তায় রুপান্তরিত হওয়ার মধ্যেই সদ্ গুরুর জীবনের সকল সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। ভক্তের আলোকময় প্রভাব বিশ্বমানবতার উপর যখন নিপতিত হয়, তাহাই সদ্ গুরু নিজ জীবনের দীপ্তি বলিয়া জানে।সম্যক গুরু যে অমর তাহা ভক্ত দ্বারা প্রমানিত হয়, গুরু দ্বারা নয়। ভক্তের অমানুষিক পরিশ্রম, কষ্ট, দুঃখ ও তার অলৌকিক জীবনের দিব্য প্রতিভাই প্রত্যক্ষ পরিচয় দিবে যে, সদ্ গুরু মানব জাতির কতখানি সেবা করিতে চলিয়াছিলেন। সদ্ গুরু জগৎ কল্যানর জন্য তাহার হৃদপিন্ডের কতখানি রক্ত ঢালিয়া দিতে প্রস্তুুত, তাহা ভক্তের মানুষ্যত্ব, মানবতা, নিঃস্বার্থ কর্ম ও পবিত্র মনসিকতার মধ্য দিয়া জগতে প্রকাশ হয়। এই জন্য ভক্ত গুরুর নয়নের মনি।
যেমন প্রভু মোহাম্মদ সঃ জগৎ কল্যান ও উম্মতের জন্য এক জলন্ত প্রমান। উম্মতের জন্য তিনি অহরহ কেদে গেলেন আর হায় উম্মত হায় উম্মত করে গেলেন।তিনার ধ্যানে মনে শুধুই উম্মতের চিন্তা ছিলো। দুনিয়াদারীর কোন বাসনাই তার ছিলো না।
সদ্ গুরুরা ঠিক এমনই হয়। নিজের চিন্তা করে না শুধু ভক্তের মঙ্গল চিন্তায় রত থাকে।
– ফকির ইশরাখউদ্দিন রাজু সাঁই






