আমি যখন ধর্মান্ধদের কথার প্রাধান্য দিয়েছিলাম।

আমি যখন ধর্মান্ধদের কথার প্রাধান্য দিয়েছিলাম।

আমি যখন ধর্মান্ধদের কথার প্রাধান্য দিয়েছিলাম, তখন আমি মেনে’ই নিয়েছিলাম যে স্রষ্টা এই জগতের সকল কিছুকে’ই নির্ভুল ভাবে সৃষ্টি করেছেন, এবং নিশ্চয়’ই তিনি ন্যায় বিচারক। কিন্তু যখন আমি অন্ধ, বোবা, খোঁড়া, ধনী, গরিব ও নানা রমক ব্যাধি-পিড়ায় ভুগতে থাকা মানুষদেরকে দেখতে লাগলাম, তখন আমি যুক্তির দ্বারস্থ হয়ে আপনা আপনি’ই বলে দিলাম যে ঈশ্বর কখনো’ই সব কিছু’কে নির্ভুলভাবে সৃষ্টি করেন’নি এবং তিনি মোটে’ই ন্যায় বিচারক হতে পারেন না।

তবে যেদিন হইতে ধর্ম পণ্ডিতদের ধর্ম কথা না শোনার জন্য আমি আমার কান বন্ধ করে দিলাম, আর আমার সমস্ত যুক্তির দ্বার উন্মুক্ত করে যখন চোখ বন্ধ করতে শুরু করলাম, তখন’ই আমি আমার অস্তিত্বের সাথে সাক্ষাৎ করতে লাগলাম এবং আস্তে আস্তে দেখতে লাগলাম স্রষ্টার সকল কিছু’ই নির্ভুল ভাবে চলছে।

আর যখন থেকে আমি আমার অস্তিত্বের সাথে সম্পূর্ণ ভাবে মিলিত হয়ে গেলাম, তখন থেকে’ই আমার সকল প্রকার ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, বিশ্বাস-অবিশ্বাস যুক্তি-তর্ক সহ সকল প্রশ্ন ধ্বংস হয়ে গেলো, কারণ তখন আমি সব কিছুতে’ই আমার অস্তিত্বকে দেখতে পেয়েছি।

কাকে যুক্তি দিবো? কাকে ভালো আর কাকে মন্দ বলবো? সকল কিছুতে’ই তো আমি! আমি ছাড়া যে আর দ্বিতীয় কিছু’ই নেই! এমতাবস্থায় আমার ভালো মন্দ দোষ গুণ যুক্তি বিশ্বাস এ সকল কিছু’ই এক ও অদ্বিতীয় হয়ে আছে।

– বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ