মনের হালকে সেজদার নিকটবর্তী রাখিয়া নীরবে কান পাতিয়া রাখ

মনের হালকে সেজদার নিকটবর্তী রাখিয়া নীরবে কান পাতিয়া রাখ

মনের হালকে সেজদার নিকটবর্তী রাখিয়া নীরবে কান পাতিয়া রাখ—সেই ক্ষণের অপেক্ষায়—কখন ঘোষণাকারী আপন নিকটবর্তী স্থান হইতে ঘোষণা করেন। অর্থাৎ বস্তুর বেড়া ডিঙ্গাইয়া রহস্যলোকে ডাকিয়া লইয়া যান। ইহাই হইল সাধকের জীবনের বিশেষ সময় যাহার জন্য এত এবাদত বন্দেগী এবং ডাকাডাকি করিতে হয়। বস্তু বন্ধন ডিঙ্গাইয়া নিজ হইতে রহস্যজগতে যাওয়া যায় না। অন্তরে নিহিত রবের ডাকের অপেক্ষায় থাকিতে হয়।

সত্যের এই ফুৎকাররূপী ঘোষণা প্রকৃতই যখন শোনা যাইবে উহাই হইবে সৃষ্টির বন্ধন হইতে ‘খারেজ’ অর্থাৎ বাহির হইয়া যাওয়ার মুহূর্ত। মনের উপযুক্ত হাল সৃষ্টি করিয়া অতি আগ্রহের সহিত এই শুভক্ষণের অপেক্ষায়
থাকিতে হয়—কখন দয়াল রবের মুক্তির ডাক আসিবে আপন অন্তরের মধ্য হইতে। ইহা বাহিরের কোন ব্যাপার নয়, আত্মশুদ্ধির সাধনার ব্যাপার; রবের সন্তোষ বিধানের ব্যাপার; আধ্যাত্মিক জগতে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে; সৃষ্টিজগতের মোহ-বন্ধনী হইতে ছুটিয়া যাইয়া ‘আসমানে’ অর্থাৎ রহস্যজগতে প্রবেশাধিকারের ব্যাপার। ইহা সাধক জীবনের এমন একটি ঘটনা যাহার জন্য সাধু-ফকির সবাই ওৎ পাতিয়া থাকেন। (দ্র. সূরা ক্বাফ: ৪১+৪২)

কোরান দর্শন- সদর উদ্দিন আহ্‌মদ চিশতী

আরো পড়ুনঃ