ভালো পণ্য বাজারে বেঁচে কম

ভালো পণ্য বাজারে বেঁচে কম

“ভালো পণ্য বাজারে বেঁচে কম, ভেজাল পণ্যের দামেই এখন বাজার খুব গরম। ভালার এখন প্রচুর শরম, লজ্জায় হাটে গোমটা পড়ে তোরা কেউ যাইসনে মানুষের বাজারে। ভেজাল খাইয়া হইছি ভেজাল সৎ-সত্য কইলে কেচাল তাইতে দোহাই দেই ভেজালের তোরা কেউ যাইসনে খাঁটি’র বাজারে।”

এই বাণীটির পঙ্ক্তিগুলো সমসাময়িক সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং সত্য, সততা ও খাঁটিপনার অবমূল্যায়ন নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক অথচ গভীর উপলব্ধিমূলক চিত্র তুলে ধরে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. “ভালো পণ্য বাজারে বেঁচে কম, ভেজাল পণ্যের দামেই এখন বাজার খুব গরম।” – এখানে ‘পণ্য’ বলতে বোঝানো হয়েছে শুধু দ্রব্য নয়, মানুষের গুণাবলী, নীতি, এবং আদর্শকেও। সমাজে এখন সৎ, খাঁটি বা ভালো মানুষ বা আদর্শের কদর কমে গেছে। বরং যারা ভেজাল বা মিথ্যা ব্যবহার করে, তারাই এখন বেশি গ্রহণযোগ্য এবং প্রভাবশালী।

২. “ভালার এখন প্রচুর শরম, লজ্জায় হাটে গোমটা পড়ে” – ভালো বা খাঁটি জিনিস (বা মানুষ) এখন সমাজে নিজেকে প্রকাশ করতেও লজ্জা পায়, কারণ এই পরিবেশে তার মূল্যায়ন নেই। তারা যেন মুখ ঢেকে সমাজে ঘোরে, যেন তারা অপরাধী!

৩. “তোরা কেউ যাইসনে মানুষের বাজারে। ভেজাল খাইয়া হইছি ভেজাল সৎ-সত্য কইলে কেচাল” – মানুষের বাজার মানে সমাজ। এখানে বলা হচ্ছে, এই সমাজে ঢুকিস না, কারণ সবাই এতটাই ভেজাল হয়ে গেছে যে খাঁটি কিছু গ্রহণই করতে চায় না। বরং কেউ যদি সত্য কথা বলে, তবে তাকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় ঝামেলা, কেচাল।

৪. “তাইতে দোহাই দেই ভেজালের তোরা কেউ যাইসনে খাঁটি’র বাজারে।” – ভেজাল এখন এমনভাবে প্রভাবশালী যে সে-ই বলে খাঁটির বাজারে যেও না! কারণ খাঁটি হলে সমাজে টিকতে পারবে না, বিপদে পড়বে। এটা একটি তীব্র ব্যঙ্গ – যেখানে সত্যই যেন সমাজের চোখে অপ্রয়োজনীয় ও বিরক্তিকর।

সারাংশ: এই বাণীতে আমাদের সমাজে নৈতিকতা, সততা ও সত্যের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। এটা আমাদেরকে ভাবায়—আমরা কি সত্যিই এমন সমাজ গড়ে তুলেছি, যেখানে ভেজালই মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে?

-সৈয়দ মামুন চিশতী

আরো পড়ুনঃ