মানুষ বেশিদিন একা থাকতে পারেনা।
মানুষ বেশিদিন একা থাকতে পারেনা, এবং এটা কোনো ভাবে’ই সম্ভব নয়। আমি আমার বাস্তব অবিজ্ঞতা থেকে’ই বলছি। জগতের কেহ’ই একা থেকে যায়নি, যত বড় প্রজ্ঞাবান ব্যাক্তি’ই হোক সে লোকালয়ে না এসে পারেনি। যোগী মহাযোগী সবাই একা থেকে সাধনা করেছেন কিন্তু কারো পক্ষে’ই একা থাকা সম্ভব হয়নি, তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন কিন্তু প্রজ্ঞা ফুল নিয়ে আবার লোকালয়ে এসে ভ্রমরের অপেক্ষা করেছেন।
একা থাকা যদি সম্ভব হতো তা হলে কেহ’ই বানরের দল দেখার জন্য উপস্থিত হতেন না। আমি নিজেও বহুবার লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরে চলে গেছি আবার ফিরে এসেছি, আঘাত পেয়েছি আবার চলে গেছি। কখনো একেবারে’ই চলে যাওয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু প্রতিবারে’ই যাওয়ার কালে বলে গেছি আর কোনো দিন আসবোনা, তবুও আসতে হয়েছে। মানুষ একা থাকতে গেলে একাকিত্ব এসে মানুষকে অস্বাভাবিক করে তোলে, মানুষ দিন দিন মারাত্মক ভাবে অসুস্থতার মুখোমুখি হতে থাকে, তোমরা আমাকে অনেক উদাহরণ দিতে’ই পারো অমুকে তমুকে সারাজীবন একা থেকেছে বিবাহ করেনি, দেখো একাকিত্বটা বিবাহ করা না করার উপর নির্ভর করেনা।
বিবাহ না করলে’ই কেহ একা থাকে বিষয়টি মোটে’ই তেমন নয়। হতে পারে পাহাড় জঙ্গলে কাটিয়ে দেয়া সাধকের অভাব নেই। প্রজ্ঞাবানেরা একাই থেকেছেন কিন্তু এর মানে এই নয় তাঁরা লোকালয়ে আসেনি, বরং এরা লোকালয়ে এসেছেন আবার চলে গেছেন। লোকেরা ভালো হোক বা মন্দ হোক মানুষকে লোকালয়ে আসতে’ই হয়। মানুষের একাকিত্বকে হজম করা অনেক কঠিন, এ যন্ত্রণাকে গ্রহণ করার চেয়ে লোকালয়ে এসে শত যন্ত্রণা মেনে নেয়া সহজ। এমনকি তোমাদের যদি কারো স্বামী বা স্ত্রী কর্কশ ভাষীও হয়, তবুও একাকিত্বকে গ্রহণ করার চেয়ে কর্কশ ভাষী স্বামী-স্ত্রীর নিকটে থাকা’ই রক্ষণাত্মক।
তোমরা সবাই মোটামুটি মহা দার্শনিক সক্রেটিস নামটির সাথে পরিচিত আছো? জ্যান্থিপ্পে ছিলেন তার স্ত্রী, এবং তিনি ছিলেন খুব বদমেজাজী একজন নারী। জ্যান্থিপ্পের ভাষা ছিলো বিষের মত আর তার চোখের তাকানি ছিলো আগুনের মতন, জ্যান্থিপ্পে সব সময় সক্রেটিসের সাথে ঝগড়াঝাটি করতেন।
এক রাতে সক্রেটিস জ্যান্থিপ্পের বকাঝকা শুনে ঘর থেকে বের হয়ে চাঁদের আলোতে বসে ছিলেন, আর তা দেখে তার স্ত্রী রাগ করে এসে সক্রেটিসের উপর পানি ঢেলে দিয়ে ছিলেন। সক্রেটিস তখন হেসে বলেছিলেন, মেঘের গর্জনের পরে বৃষ্টি না হলে কি মেঘের গর্জন শোভা পায়? এতো বদমেজাজী নারীকে নিয়ে সংসার করা মহা দার্শনিক সক্রেটিস তবুও সেই স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন, বলতেন আমার স্ত্রী যদি এমন না হতো তাহলে হয়তো আমি কখনো বিরক্তি হয়ে রাতবেরাতে ঘরের বাইরে যেতাম না,আর কোনো কিছু নিয়ে আমার এতো ভাবাও হতোনা।
আমার দর্শনের মূল মন্ত্র সূত্র’ই দিয়েছে আমার স্ত্রী। আমি এটা বলছিনা যে পুরুষ কেবল সক্রেটিসের মতন বদমেজাজী স্ত্রীকে নিয়ে’ই সক্রেটিস হয়ে যাবে, মূলত আমি বুঝাতে চেয়েছি একাকিত্ব ভোগ করার চেয়ে বদমেজাজী স্ত্রীকে নিয়ে থেকেও অনেক কিছু করা সম্ভব হবে যা একাকিত্বে থেকে করা সম্ভব নয়। আর স্বামী কিংবা স্ত্রীর স্বভাব যদি সক্রেটিসের স্ত্রী জ্যান্থিপ্পের মতন হয়ে থাকে, তবে যদি একজন নিরব ভূমিকা পালন করে থাকেন তাহলে সে নিরব থাকা ব্যাক্তি মহা দার্শনিক হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






