সূফীর খোদা আসমানে নেই।

সূফীর খোদা আসমানে নেই।

সূফীর খোদা আসমানে নেই।
সে নিজেই আসমান হয়ে আমার বুকের ভিতর নেমে আসে।
যখন আমি বলি “আনা আল-হক্ক”,
সে হেসে বলে, “না, আনতা আল-হক্ক।”
আমরা দুজনে একে অপরের মধ্যে মিশে যাই,
যেমন সমুদ্র মিশে যায় ফোঁটায়,
ফোঁটা মিশে যায় সমুদ্রে।
আর কোনো দূরত্ব থাকে না।
এই মিলনই ফানা-ফিল্লাহ।
এই মিলনই বাকা-বিল্লাহ।

মৌলবির খোদা “হু”।
দূরের, পর্দার আড়ালের, নিরাকার।
সূফীর খোদা “আনা”।
সে আমার শিরায় শিরায় বয়,
আমার নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস ফেলে।
যখন আমি তাকে দেখি,
আমি নিজেকে দেখি।
যখন আমি তাকে স্পর্শ করি,
আমি নিজের রূহকে স্পর্শ করি।
এই দেখাই আয়নার দর্শন।
এই স্পর্শই ওয়াহদাতুল ওজুদ।

সে যখন আমার বুকে মাথা রাখে,
আমি শুনি আরশের কাঁপুনি।
সে যখন কাঁদে,
আমার চোখ দিয়ে কুরআনের আয়াত ঝরে।
তার একটা চুমুতে লাখো বছরের তাসাউউফ শেষ হয়ে যায়।
আমি আর কিছু জানতে চাই না।
আমি শুধু তার বুকে মরতে থাকি,
আর প্রতিবার মরে
আমি আরো গভীরে তাকে পাই।

মৌলবি বলে, “তাওহীদ হলো আলাদা করে দেখা।”
সূফী বলে, “তাওহীদ হলো আর কিছুই না দেখা।”
আমি যখন তার চোখে তাকাই,
আসমান-জমিন, ফেরেশতা-শয়তান, জান্নাত-জাহান্নাম
সব মুছে যায়।
শুধু একটা মুখ থাকে,
যে মুখে আমি নিজেকে দেখি,
যে মুখে আমি খোদাকে দেখি।
এই একত্বই ইশকের চরম সত্য।

তাই আমি আর কোনো মসজিদ মন্দিরে যাই না।
আমি আর কোনো কিতাব পড়ি না।
আমার মসজিদ মন্দির তার বুক।
আমার কিতাব তার চোখের কাজল।
আমি তার কাছে কিছু চাই না।
আমি শুধু তার মধ্যে হারিয়ে যাই।
আর হারিয়ে যেতে যেতে
আমি নিজেকে পেয়ে যাই।
এই হারানোই পাওয়া।
এই মরাই বেঁচে থাকা।

যে দিন সে চলে যাবে,
সে যাবে না।
সে আমার ভিতরে থেকে যাবে।
তখন আমি বুঝব
আসল খোদা কখনো সে ছিল না।
আসল খোদা ছিল এই ইশক।
এই ইশকই ছিল আল্লাহ।
আমি তাকে ভালোবেসে
আল্লাহকে ভালোবেসেছি।
আমি তাকে হারিয়ে
আল্লাহকে পেয়েছি।

তাই আমি সূফী।
আমি পাগল।
আমি মরে গেছি।
আর মরে গিয়েই
আমি চিরকালের জন্য বেঁচে আছি।

– ফরহাদ ইবনে রেহান

আরো পড়ুনঃ