সমাজে মানুষের খোলসে পশু ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সমাজে মানুষের খোলসে পশু ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আমি বহু মন্দির ঘুরে দেখেছি কিন্তু সেখানে হিন্দু কাওকে খুঁজে পাই নি। আমি বহু মসজিদ ঘুরেছি। শহরের নাম করা বড় বড় মসজিদগুলোতে ও কোনো মুসলমান কে খুঁজে পাই নি। আমি বহু গির্জায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খ্রিষ্টান কে খুঁজে পেলাম না। আমি কোনো প্যাগোডায় গিয়েও বৌদ্ধ কাও কে খুঁজে পাই নি।

আমি মন্দির গিয়ে দেখলাম এক বানর হলুদ রঙের পোশাক পরে হাতে জপনমালা নিয়ে মানুষকে ঈশ্বরের নাম করে বিভ্রান্ত করছে। তবে আমি মন্দিরের বাইরে পাগল ভেসে ঘুরা এক হিন্দুকে দেখেছিলাম।

আমি মসজিদে গিয়ে দেখলাম এক শিয়াল মাথায় টুপি দিয়ে মানুষের কাছে আল্লাহর নামে মিথ্যাচার করছে। তবে আমি রাস্তার পাশে উলংগ অবস্থায় বসে থাকা এক মুসলমানকে দেখেছিলাম।

আমি গির্জায় গিয়ে দেখলাম একটি ষাঁড় বাইবেল হাতে যীশুর মূর্তির সামনে কি যেনো পড়ছে। তবে আমি গির্জার সামনে এক মুচির কাছে জুতা সেলাই করতে গিয়ে অবাক চোখে এক খ্রিষ্টানকে দেখেছিলাম যে পেশায় মুচি।

আমি প্যাগোডায় ও এরকম কিছুই দেখিছিলাম। সেখানে এক প্রাণীকে দেখলাম মানুষের কাছে কি কি বলছে। অফসোস এই প্রাণীটিকে আমি আগে কখনো দেখেনি। তাই নাম বলতে পারছি না। তবে আমি পাহাড়ের ঢালে মেশ চরানো এক বৌদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম।

আমার এ কথা যে শুনেছে সেই আমার মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের কথা যদি সত্যি হয় থাকে তবে বড়ো কোনো এক মানসিক রোগে ভুগছি।

এ সমাজে আমি কোনো মানুষ খুঁজে পাই না। পেলেও হাজারে একজন। আর বাকি সব পশু ঘুরে বেড়াচ্ছে। সমাজে এতো ধর্ম কিন্তু ধার্মিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতো উপাসনালয় অথচ চরিত্রবান মানুষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আজ এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বড় কঠিন যে না হিন্দু না মুসলিম না বৌদ্ধ না খ্রিষ্টান না শিখ না জৈন। সবাই কোনো না কোনো ধর্মের জালে আবদ্ধ। মুক্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধর্মগুলো মানুষের ভেতরের পশুত্বকে দুর করতে পারছে না। ধর্মগুলো মানুষকে চরিত্রবান বানাতে পারছে না।

কিন্তু কেনো?
কারণ ইটের তৈরি বড়ো বড়ো স্থাপনা যেগুলোকে ঈশ্বরের ঘর বলে মনে করা হয় সে ঘর তো পশুদের দখলে। মানুষতো সেখানে পশুর কাছে যায়। পশুর কাছে গেলে মানুষ পশু হবে না তো কি হবে?

সেই উলংগ, সেই পাগল, সেই মুচি, সেই মেশ চরানো লোক কিভাবে মানুষ হতে পেরেছে জানতে চাও? তবে শোনো তাঁরা মানুষের কাছে গিয়েছেন মানুষ হওয়ার জন্য। আর তোমরা পশুর কাছে যাও মানুষ হওয়ার জন্য! ধিক্কার জানাই তোমাদের জ্ঞানের উপর।

তোমাদের খোলস টা ব্যতীত মানুষ এর আর কোনো বৈশিষ্ট্য তোমাদের মাঝে নেই। এই খোলসের যেদিন মৃত্যু হবে সেদিন থেকে তোমরা পশু, তোমাদের পশুর খোলস সেদিন উন্মোচন হবে। আর তোমরা চাক্ষুষ পশুতে ও সেদিনই পরিনত হবে।

যতদিন পর্যন্ত তোমরা আত্মসমর্পণ করতে না পারবে ততদিন তোমরা মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী হতে পারবে না। আর যতদিন তোমরা নিজের মাঝে বুদ্ধ, যীশু আর কৃষ্ণের চরিত্রকে ধারণ করতে না পারবে ততদিন তোমরা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা হিন্দু হতে পারবে না।

মনে রেখো সময় গেলে সাধন হবে না। মানব জনম আর পাবে না। নিজের মুক্তির ব্যবস্থা করো। আজকেই শুরু করো কাল কখনোই আসে না আর কালকে কিছুই করা হয় না।

– AR Junaid Hasan Shuvo

আরো পড়ুনঃ