বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ভালো কিছু থাকিলে অবশ্য’ই মন্দ কিছুও রহিয়াছে।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ভালো কিছু থাকিলে অবশ্য’ই মন্দ কিছুও রহিয়াছে।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ভালো কিছু থাকিলে অবশ্য’ই মন্দ কিছুও রহিয়াছে। মন্দ যদি ভালোর মুখোমুখি হইয়া না দাঁড়াইতো তাহা হইলে কখনো’ই ‘ভালো’ শব্দটি প্রকাশ্যে আসিবার ক্ষমতা পাইতোনা। আবার মন্দ যদি ভালোর উপর কলঙ্ক না দিয়া থাকিতো তাহা হইলে ভালো কখনো’ই মন্দকে এড়াইয়া চলিতনা৷ উল্লেখ্য সূত্র ধরিয়া’ই আমি বলিতে চাইছি যে, বন্ধন না থাকিলে কখনো’ই মুক্তির চিন্তা করা হইতোনা, মূলত বন্ধনের মাঝে’ই মুক্তির পথটি লুকাইয়া থাকে।

এমন’টা কখনো’ই হইবেনা যে, বন্ধন থাকিবে কিন্তু মুক্তি থাকিবেনা বা মুক্তি থাকিবে কিন্তু বন্ধন থাকিবেনা৷ বন্ধন থাকিলে অবশ্য’ই মুক্তিও থাকিবে,যদি মুক্তি নাহি থাকে তাহা হইলে বন্ধ শব্দটির অস্তিত্ব’ই থাকিবেনা৷ তোমাদিগকে মনে রাখিতে হইবে, যদি কোনো প্রকার বন্ধন থাকিয়া থাকে, তাহা হইলে উহার গভীরে মুক্তিও লুকাইয়া থাকিবে, বন্ধন যেমন রহিয়াছে সত্য, তদ্রূপ সত্য যে, বন্ধনের মাঝে মুক্তি’টিও লুকাইয়া রহিয়াছে।

তোমাদের চারিপাশে একটু লক্ষ্য করিলে’ই দেখিতে পাইবে যে, রুগ্ন ব্যাক্তিগণ তাহাদিগের মৃত্যুর পরপর’ই সকল প্রকার রোগ হইতে মুক্তি পাইয়া থাকে৷ যখন হইতে রুগ্ন ব্যাক্তিগণেরা মরিয়া যায়, তখন হইতে তাহাদিগকে আর কোনো রোগে’ই যন্ত্রণা দিতে সক্ষম হইয়া ওঠেনা। এমতাবস্থায় বলা যাইতে পারে যে, রোগী মরিয়া’ই বাঁচিয়া গিয়াছে। তদ্রূপ তোমাদেরকেও বন্ধন রোগ হইতে মুক্তি পাইবার জন্য মরিয়া ইন্দ্রিয়াদির উর্ধ্বে যাইতে হইবে।

এরম করিয়া মরিতে পারলে’ই তোমরাও বাঁচিয়া থাকিবে৷ বন্ধন রোগ হইতে মুক্তি পাইবার জন্য তোমাদিগকে বন্ধনের দ্বার হইতে মৃত্যুবরণ করিতে হইবে, উহাকে’ই বলে ‘মৃত্যু’ই মুক্তি’ বা মরার আগে মরিয়া যাওয়া৷

লেখা- বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ