যিনি সর্বত্র, যিনি অন্তর্যামী
“কোথায় নেই তুমি?”—এই প্রশ্ন নয়, এক চেতনার স্ফুলিঙ্গ। এই প্রশ্নেই জেগে ওঠে উপলব্ধি, যে তিনি আছেন সর্বত্র, প্রতিটি কণায়, প্রতিটি প্রাণে, প্রতিটি নিঃশ্বাসে। এই অনুভব কোনো ধর্মীয় গাণিতিক সত্য নয়, এটি এক আত্মিক অভিজ্ঞতা। যে অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করে “তুমি”—তাকে খোঁজে না বাহিরে, বরং খুঁজে ফেরে নিজের মধ্যেই।
ঈশ্বর বা চেতনার সর্বব্যাপ্ততা
তোমার ছায়া লেগে আছে সব কিছুতেই—এই বাক্যে ধরা পড়ে ঈশ্বরের এক অনন্ত রূপ: তিনি দৃশ্যমান ও অদৃশ্য, তিনি চেতন ও অচেতন, তিনি রূপ ও অরূপ। চৈতন্যবাদ, উপনিষদ, সুফিবাদ, ও রুমির চিন্তায় এক গভীর বার্তা পাওয়া যায়—ঈশ্বর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নন, তিনি সর্বত্র।
যিনি “পাথরেও” রয়েছেন, তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে বিজ্ঞান নয়, দরকার এক জাগ্রত হৃদয়। প্রতিটি গ্রহে, উপগ্রহে, এমনকি “খোদার আরশ”—এই সব রূপকে বুঝায় যে চেতনার অস্তিত্ব স্থান ও কালের গণ্ডির বাইরে।
আয়না ও আত্মদর্শন:
আয়নায় তুমি নিজেকে দেখো—এখানে আয়না রূপক, এটি অন্তর। যে অন্তর পরিষ্কার, সে আয়নার মতোই প্রতিফলিত করে ঈশ্বরকে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের আয়না ধূলিমলিন, সেখানে শুধুই প্রতিবিম্ব নয়, মায়া। এজন্য বলা হয়—”সকলেই সকলের মাঝে আছে, শুধু দেখিবার আঁখি নাই।”
দেখিবার আঁখি: আত্মদর্শনের সাধনা
ঈশ্বরকে দেখার জন্য চোখ নয়, প্রয়োজন “দেখিবার আঁখি”—আত্মচেতনার দৃষ্টি। এ দৃষ্টি আসে সাধনা দিয়ে, আসে আত্মজিজ্ঞাসার অনুশীলনে। এবং এ সাধনা সহজ হয় সত্যমানুষের সান্নিধ্যে। তারা হচ্ছে জাগ্রত আত্মারা, যারা নিজের মধ্যে ঈশ্বরকে ধারণ করে, এবং অন্যদের মাঝেও তা জাগ্রত করতে চায়।
উপসংহার
ঈশ্বরকে খুঁজতে গেলে তাঁকে খুঁজো না মন্দিরে, গির্জায়, কিংবা আকাশে; তাঁকে খুঁজো নিজের মধ্যে, অপরের চোখে, পাথরের নিঃশব্দতায়, শিশুর নিঃশ্বাসে, বা নিঃসঙ্গ সন্ধ্যায়। তিনি আছেন, সর্বত্র, সবসময়, শুধু প্রয়োজন সেই দৃষ্টি, যা দেখে হৃদয়ের আলোয়।
অতএব, খোঁজো না কোথায় আছেন তিনি—জেনো, তিনি আছেন সবখানে।
শুধু জাগাও সেই অন্তর্দৃষ্টি, যে দেখে ‘তুমি’র ভিতরেই ‘তিনি’।
-ফরহাদ ইবনে রেহান






