কোরবানির হাকিকত উন্মোচন।
১.
কোরবানি দিবে আমানু। আল কোরান নাস, ইনসানকে কোরবানি দিতে বলে নাই। নাস, ইনসানকে বলেছে ঈমান আনার জন্য। ইনসানের বহুবচন হলো নাস। এখন কোরাবানি দিবে কে? এখন আমানু দিবে কোরবানি। আমানু কে? আমানুর কি পরিচয়? যে রাসুলের নিকট বায়াত নিয়েছে, তাকে বলে আমানু। এখন আমানু বাংলা হলো বিশ্বাসী, আবার মুমিনেরও বাংলা হলো বিশ্বাসী। আমানু কেমন বিশ্বাসী? এই রাসুলের প্রতি বিশ্বাস আছে, আবার এই রাসুলের প্রতি বিশ্বাস নাই। আল্লাহ তাকেই বলেছে আমানু।
২.
যে বিশ্বাস তাথা ঈমান এনে ফেলছে সে মুমিন। মুমিনের কোনো এবাদত নাই। নাসের কোনো এবাদত নাই। শুধু এবাদাত করবে আমানু। এখন এই আমানুকেই বলেছে কোরবানি দিতে । এখন ইনসান যদি কোরবানি দেয়, নাস যদি কোরবানি দেয়, তাহলে তাদের কোরবানি হবে? আল্লাহ তো তাদেরকে কোরবানি করতে বলে নাই। নাস, ইনসানকে বলে নাই তোমরা কোরবানি করো। শুধু কোরবানি করতে বলেছে আমানুকে। আমানু কারা? যারা মুর্শিদের নিকট বায়াত নিয়েছে। যারা পীরের কাছে বায়াত নিয়েছে। যারা গুরুর কাছে বায়াত নিয়েছে। যারা রসুলের কাছে বায়াত নিয়েছে। তাদেরকে ঈমান আনতে বলেছে। বিষয়টা বুঝেন। আল্লাহ তাদেরকে বলেছে ঈমান আনার জন্য। এখানে কিন্তু নাস, ইনসানদের জন্য নামাজ, রোজা, কোরবানি, হজ্ব ও যাকাত, কিচ্ছু নাই। কিন্তু তোমরা দেখো, সমাজের মধ্যে যারা কোরবানি দিচ্ছে, তাদের দেখবে সব নাস, ইনসান। একটাও আমানুর কাতারে না। যদি তারা আমানু বুঝে, তাহলে তারা জীবনেও সে দিকে যাবে না। এখানেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বলেছেন ” কোরবানি দেওয়ার জন্য “।
৩.
এখন আপনাদের নিকট আমার জানার খুব শখ! আপনারা কে আমানু? আর কে ইনসান? এখন ইনসানরা যদি কোরবানি দেয়, তাদের কোরবানি কবুল হবে না, তাদের রোজাও কবুল হবে না । তাদের জাকাতও কবুল হবে না, তাদের হজও কবুল হবে না, তাদের নামাজও কবুল হবে না। কেননা এগুলো ফরজ করা হয়েছে আমানুদের জন্য।
এখন আমাদের কোরবানি দিতে বলেছে আল্লাহ। আল্লাহ কিন্তু একবারও বলে নাই। নাস, ইনসান ও মুমিন কোরবানি দাও। একবারও বলে নাই। যদি এক জায়গায় দেখাতে পারেন, তাহলে সারা জীবন আমি আপনাদের গোলামি করবো। যদি একবার দেখাতে পারেন। আমরা কি আমানু হতে পারছি। বায়াতটা তো প্রয়োজন। কিন্তু বায়াতের চেয়ে বড় প্রয়োজন ঈমান।
মানুষকে সবচেয়ে বেশি ধোঁকা দেয় কি জানো? শয়তান সবচেয়ে বেশি মানুষকে ধোঁকা দেয় আমল দিয়ে। শয়তান সবচেয়ে বড় ধোঁকা দেয় আমল দিয়ে। কিন্তু শয়তান তোমাদের ধোঁকা দিতে পারবে না ঈমান দ্বারা। তোমাদের ধোঁকা দিতে পারবে না বিশ্বাসের দ্বারা। মানুষ যখন আমলের দিকে চলে যায়, তখন তাদের ঈমানের আর হুশ থাকে না। আল্লাহ বলেছেন ঈমান এনে তারপরে আমল করার জন্য। এখন জিজ্ঞেস করেন তো, প্রত্যেকের হাতে কোরান দিয়ে, কয়জনের ঈমান আছে? সবাই তো আমল নিয়ে ব্যস্ত। দেখেন সবাই আমল নিয়ে ব্যস্ত। আমল তো দেখা যায়। যার মধ্যে ঈমান আছে তাকে দেখা যায়? ঈমান যে এনেছে , সেটা কিন্তু দেখা যায় না। আমাদের আমলের যে ভাব, এটা সবাই দেখতে পারে। এর জন্য, আমল যখন মানুষের মধ্যে এসে যায়, তখন মানুষ ঈমান আনতে পারে না। এই জন্য বাবা জাহাঙ্গীর বলেছে ” শয়তান সবচেয়ে বড় ধোঁকা দেয় মানুষকে আমল দিয়ে। ” কেননা সবাই আমলে ব্যস্ত। ঈমান ফেলে দিয়ে, আমলে কি হবে?
এই লালন ফকির একটা গানে বলছে-
“ঈমান-ধন আখেরের পুঁজি
সে ঘরে দিলে না কুঁজি
লালন বলে হারলে বাজি
(শেষে আর) কাঁদলে সারবেনা।।”
এই বাজিতে যদি তোমরা হেরে যাও, শেষে কাঁদলেও সারবে না। আমরা সবাই আমল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছি।
৪.
আমি আবারো বলি, আমি এমনভাবে একটা সাজগোজ দিয়ে আছি, যাতে তোমরা আমাকে দেখে ভাবতে না পারো, আমি একটা বাটপার, একটা ফাক্কর, একটা চিটার। আমার ভিতরে লোভ আছে, আমার ভিতরে মোহ আছে, আমার ভিতরে হিংসা আছে, আমার ভিতরে অহংকার আছে। আমি মানুষকে ঠকাই। তাহলে এটার জন্য কেউ বুঝতে না পারে। এটা ফকিরি না।
ফকিরি কি? ফকিরি হলো যা পাবি একের মধ্যে পাবি। দুইয়ের মধ্যে কিচ্ছু পাবি না। তুই আর গুরু কিচ্ছু পাবি না। যদি কিছু পেতে চাস, তাহলে একের মধ্যে আয়। তোমরা যা পাবে, একের মধ্যেই পাবে। দুইয়ের মধ্যে কিচ্ছু নাই। যা পাওয়ার তা একের মধ্যে। আর এই একের মধ্যে আসাটাই হলো ধ্যানসাধনা।
কোরানের সূরা সাবা আর ৪৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলতেছে, আমার জন্য এবাদতে দাঁড়াও জোড়ায় জোড়ায়, তারপর একা একা। এবাদত করতে বলেছে আল্লাহই জোড়ায় জোড়ায়। তিনজন না, চারজন না, পাঁচজন না, জামাত না। এই জামাত কোথায় পেলেন? যদি জিজ্ঞাসা করি? আমাকে ভুল বুঝবেন না। হয় তো আমি পাই নাই। আপনারা পেলে আমাকে দেখাবেন। আল্লাহ তো বলতেছে আমার জন্য দাঁড়াও জোড়ায় জোড়ায়। জোড়ায় জোড়ায় বলতে কি বুঝায়? গুরু আর ভক্ত, মাস্টার আর স্টুডেন্ট , শিক্ষক আর ছাত্র।
এবাদত সবাই একসাথে করা যায় না। এক সাথে হয় সমাবেশ। একটা মিটিং হতে পারে। কিন্তু সেটা এবাদত না। ইবাদত করতে বলছে, জোড়ায় জোড়ায়। জোড়া জোড়া মানে, তোমার মুর্শিদ আর তুমি। এই মুর্শিদ তোমাকে শিখাবে, এই দুইয়ের মধ্যে থেকে, একের মধ্যে কেমন করে তুমি আসবে। দুই যে দুই। এক, দুই। এই দুই থেকে একের মধ্যে আসবে? এই একের মধ্যে আসার জন্যই তো এত প্রস্তুতি। এই নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত ও কোরবানি।
এই নামাজ পড়ি কিসের জন্য, একের মধ্যে আসার জন্য। এই রোজা রাখি কিসের জন্য, একের মধ্যে আসার জন্য। এই হজে যায় কিসের জন্য, একের মধ্যে আসার জন্য। এই যাকাত দেয় কিসের জন্য, একের মধ্যে আসার জন্য, এই কোরবানি করে কিসের জন্য, একের মধ্যে আসার জন্য। এই একের মধ্যে আমরা যখন বাস করবো, তখন আমরা মুর্শিদের প্রতি ঈমান আনতে পারবো। তাঁর মধ্যে যখন আমরা পরিপূর্ণ ঈমান আনতে পারবো। বিশ্বাস আনতে পারবো।
৫.
আমাদের তো এই বিশ্বাস আছে, এই বিশ্বাস নাই। আল্লাহকে পর্যন্ত সন্দেহ করে ফেলে, আল্লাহ তোমার কাছে চাইলাম, তুমি দিলে না। আল্লাহর উপর সন্দেহ হয়ে গেল না? আল্লাহর কাছে এত শখ করে চাইছি, এ তাহাজ্জুদ নামাজটা পড়ে চাইছি। কাকে বলবে যে, আল্লাহর কাছে চাইলাম, আল্লাহ তা দেয় নাই। আল্লাহ কাউকে ফিরায় না। (কাউকে নিরাশ করে না)। আল্লাহ ওইভাবে চাইছে, আমাকে একা ডাকো, আমি সাথে সাথে জবাব দিবো। এখনই একা হওয়ার শিক্ষা তো মোল্লায় শিখায় না। এই যে একা হও। একা হওয়ার বিষয়টা মোল্লা মুন্সি শিখায় না। তারা কোথায় থেকে শিখাবে? তারা জানে নি? তারা জানে না।
কোরান বলছে রোজা রাখো, ৩০ টা বলেছে? কোরানে ৩০টা রোজা দেখাতে পারবেন ? রোজা রাখতে বলেছে, এই ৩০ টা কোথায় থেকে পেলেন ? হাদিসে? বুখারী শরীফে? বুখারীর জন্ম তো রসূল পাক (সা.) – এর জন্মের ২৫০ বছরের পার্থক্য । তার আগে কেমনে রোজা রাখছে? আপনারা ২০২৫ সালে যারা ৩০ টা রোযা রেখে মুমিন হয়ে গেছেন। আবার ২০২৬ সালে আপনাদের রোজা রাখতে হবে? এখন তোমরাই বলো তোমরা কি করতেছ? ২০২৪ সালে কোরবানি দিয়েছ না, তাহলে কি ২০২৫ সালে কোরবানি দিতে হবে? তাহলে তোমরা কেমন? আমানু বুঝছো? এই বিশ্বাস আছে, এই বিশ্বাস নাই। এতে জীবন ও লাভ হবে না। কিচ্ছু হবে না।
শুধু পরশুই জবাই করে যাবে। তৌহিদের পশু জবাই করে গেলা। কে জবাই করলো? শয়তানে তৌহিদের পশু জবাই করে গেলো। একজন মুমিন কখনোই পারে না। যে ঈমান আনছে, সে এটা অসহায় প্রাণীর গলায় কখনো ছুরি চালাতে পারে না। এটা মোহাম্মদি ইসলাম না। এটা হলো আব্বাসিয়াদের (তৈরি রাজতন্ত্রের) ইসলাম। এটা মোহাম্মদ ইসলাম না। এটা আব্বাসিয়াদের ইসলাম। কিছু মনে করো না, তোমরা যা কর, তোমার নামাজ পড় আব্বাসিয়াদের, এই রোজা রাখ আব্বাসিয়াদের, এই যে কোরবানি করো আব্বাসিয়াদের। এ যে হাজ করো এটাও আব্বাসিয়াদের, এই যে যাকাত দাও এটাও আব্বাসিয়াদের। মোহাম্মদি ইসলাম তো প্রতিষ্ঠিত হতে দেয় নাই। এখন যেটা সমাজে দেখছো, এটা হলো আব্বাসিয়াদের তৈরি ইসলাম। তারা যেভাবে মনে করছে, ইসলামকে সেই ভাবেই সাজিয়েছে। কিন্তু এটা যে মুহাম্মদের স্বীকৃতি প্রাপ্ত না। আমি পাগল মানুষ।
নিবেদক :
আর এফ রাসেল আহমেদ ওয়ার্সী






