ধর্ম মূলত দায়বদ্ধতা ও মানসিক তাড়না থেকে’ই গড়ে উঠেছিলো।

ধর্ম মূলত দায়বদ্ধতা ও মানসিক তাড়না থেকে’ই গড়ে উঠেছিলো।

ধর্ম মূলত দায়বদ্ধতা ও মানসিক তাড়না থেকে’ই গড়ে উঠেছিলো বলে আমি মনে করছি, তোমাদেরকে অবশ্য’ই ধর্ম ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসরণ করা উচিৎ যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা সচেতন হতে পেরেছো। আর তোমাদেরকে সচেতন করতে হলে সর্বপ্রথম একজন সচেতন মা ও একজন সচেতন বাবার প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান যুগ এখনো সেরকম হয়ে ওঠেনি যেরকম হলে সচেতন অবিভাবক সচারাচর পাওয়া যেতে পারে৷

কাজে’ই এখন তোমাদেরকে ছোট থেকে’ই একটি ধর্ম রীতি মেনে বেড়ে উঠতে হয়, এজন্য’ই আমি বলতে চাইছি যে, ধর্ম রীতি ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত মেনে চলো যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি সচেতন হয়েছো। বর্তমান সমাজ এখনো এটা স্বীকার করে যে, তুমি যদি প্রচলিত ধর্ম রীতি মেনে চলো তা হলে তোমাকে ধার্মিক বলে আখ্যায়িত করা আর তুমি যদি প্রচলিত ধর্ম রীতি মেনে না চলো তা হলে তোমাকে অধার্মিক বলে আখ্যায়িত করা উচিত, তাদের কাছে ধার্মিক ও অধার্মিকের ব্যাখ্যা সীমা এপর্যন্তই।

আমি শুরুতে’ই বলেছি ধর্ম মূলত দায়বদ্ধতা ও মানসিক তাড়না থেকে জন্ম হয়েছে, যেমন ইহুদি জাতির নবী ‘যোহন ব্যাপ্টিস্ট’, তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম সেই পয়গম্বর যেই পয়গম্বর ঈশ্বরের বিষয়ে সকল চূড়ান্ত বিচারের প্রকাশ্যে প্রচারক ছিলেন। রহস্যময় ব্যাপার হলো এই যে যোহন ব্যাপ্টিস্ট এত এত কিছু থাকতে কেন তিনি ঈশ্বরের বিচার সমূহের ভয়াবহতা প্রচার করেছিলেন? কারণ তার যুগে মনুষ্য জাতির অবস্থা ছিলো খুব’ই জঘন্য। আমি যদি এযুগের চোখ দিয়েও তাকা’ই তাহলেও আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, উশৃঙ্খলতা থেকে মুক্তি পেতে অবশ্য’ই তখন ঈশ্বরের বিচার ভয় প্রকাশ্যে প্রচার করা দরকার ছিলো।

ধর্ম যদি দায়বদ্ধতা আর মানসিক তাড়না থেকে না আসতো তা হলে আদম আঃ অথবা যোহন ব্যাপ্টিস্ট পর্যন্তই ধর্মের সীমাবদ্ধতা পেয়ে যেত, তখন আর পয়গম্বর যীশু ও মুহাম্মাদের প্রকাশ হতোনা৷ যেহেতু ধর্ম দায়বদ্ধতা ও মানসিক তাড়না থেকে জন্ম নিয়েছে, সেহেতু অধার্মিক বলার ক্ষেত্রে তোমরা একে অপরের মতের বিরধিতা করা’ই যথেষ্ট, মানে তোমার মতের সাথে অপরের মত না মিললে’ই তুমি তাকে অধার্মিক বলে দিতে’ই পারো৷

মুলত অধার্মিকতা বলতে কি বুঝায়? অধার্মিকতা বলতে বুঝায় যে তোমার দ্বারা অপরের ক্ষতি ও প্রকৃতির ক্ষতি হওয়া এবং তোমার দ্বারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দূষিত হওয়াকে’ই অধার্মিকতা বুঝায়৷ মানুষের দ্বারা অপরের ক্ষতি ও বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দূষিত হওয়া কখনো’ই মানুষের ধর্ম নয়, প্রকৃত ধার্মিকদের দ্বারা এটা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই৷

কিন্তু প্রচলিত ধর্মে দেখা যায় যে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করেও তাঁরা নিজেদেরকে ধার্মিক দাবি করেন, কারণ ঐ যে অপরের দায়বদ্ধতার আইন ও মানসিক ভাবনাকে ঈশ্বরের আইন হিসেবে কবুল করে নিয়েছে৷ যেহেতু মানসিক তাড়না থেকে ধর্ম গড়ে উঠেছে সেহেতু তোমার মতের সাথে অপরের মত না মিললে’ই তুমি তাকে অধার্মিক বলে দিতে পারো, তাই তোমরা পূর্ব যুগের মানসিক তাড়নাকে যখন পূজা করতে যাও ঠিক তখন’ই অন্য কোনো ধর্মের মানুষ এসে উপস্থিত হলে তাকে তোমরা অধার্মিক বলে দিতে পারছো৷

আর যখন তোমরা মতবিরোধীদের পাও তখন তোমরা তাদেরকে অধার্মিক বলে প্রতিশোধমূলক আচরণ দেখিয়ে শাস্তি প্রদান করে নিজেদেরকে মহা ধার্মিক বলে পরিচয় দিয়ে থাকো, এর’ই ধারাবাহিকতায় অবুজ সহজ মানুষেরাও ধার্মিক হতে গিয়ে অপরের মানসিক তাড়নাকে পুজা করে তাঁরাও হয়ে ওঠে ভয়ংকর নিষ্ঠুর। তোমরা যখন দেখতেপাও যে ধর্ম তোমাদেরকে হত্যামূলক মনস্তাত্ত্বিক তৈরি করে দিচ্ছে তখনও তোমরা তাকে ধর্ম বলে স্বীকার করে নেয়াটাও এক অধার্মিকতার পরিচয় বহন করে, কাজে’ই ধর্মকে এখন অধার্মিক ও নিষ্ঠুরতার ধারক বাহক বলা উচিৎ।

দেখো ধর্ম যদি শুধু মাত্র এক ঈশ্বরের রুচিসম্মত আইন হতো তাহলে আর কোনো ধর্মকে অন্য ধর্ম ছোট করে দেখতোনা, প্রতিতিটি মহানরা’ই এসে নিজ নিজ ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থকে একমাত্র সঠিক মত-পথ দাবি করেছেন৷ ধর্ম ঈশ্বরের হলে তার আবার ঠিক বেঠিক কি থাকে? আমার দেখা আরও একটি আশ্চর্য ব্যাপার হলো যে, ঈশ্বরের উপাসনা করা ঘরগুলোতে বসে’ই ঈশ্বরের অন্য উপাসনা ঘরগুলো ধ্বংস করার আদেশ প্রকাশিত হয়, যারা মসজিদে যায় তাঁরা মসজিদে বসে’ই গীর্জার বিরুদ্ধে কথা বলে! আবার যারা গীর্জায় যায় তাঁরা গীর্জায় বসে’ই মন্দিরে বিরুদ্ধে কথা বলে।

অবাক লাগে যে এক’ই ঈশ্বরের উপাসনা ঘরে, এক’ই ঈশ্বরের ইবাদত করা হয়, কিন্তু কীভাবে ঈশ্বরের ঘরে বসে’ ঈশ্বরের ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার কৌশল তৈরি করে? সবাইতো ঈশ্বরের উপাসনা করে আর উপাসনা ঘরগুলোও নাকি ঈশ্বরের, তবে কেন ঈশ্বরের এক ঘরে বসে ঈশ্বর অন্য ঘরে আগুন লাগাতে চায়? বুঝা যাচ্ছে যে এখানেও ঈশ্বরের নামে চলা এক ভূতুড়ে কেন্দ্র, মূলত ধার্মিকদের ধারণার দ্বারা উপাসনালয়ে বসে ক্ষতিকারক কার্য নকশা’ই করে থাকে৷

তোমরা পূর্বের মতামত ধ্যানধারণাকে বাদ দাও এবং বর্তমানে আসো৷ মনে রেখো ঈশ্বর পূর্বে জীবিত থাকলে এখনো জীবিত আছেন, কারো মাধ্যমে ঈশ্বর আইন সমাপ্তি ঘটান’নি। ঈশ্বর শুধু পূর্বে’ই দুনিয়ায় মঙ্গল চান’নি বরং ঈশ্বর এখনো মঙ্গল চান৷

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ