যে শক্তি সর্বাবস্থায় বিদ্যমান
মহাশূন্যে থেকে শুরু করে, স্থল ও জল, সূক্ষ্ম ও অসূক্ষ বস্তুতে যে শক্তি সর্বাবস্থায় বিদ্যমান, আমি সেই শক্তিকে সহস্রবার প্রণাম জানাই। তোমাদের যে ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান এ সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে অবস্থান করেন, আমি তোমাদের সেই ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবানকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাই।
তোমাদের ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান যদি ব্রহ্মাণ্ডে সর্বাবস্থায় বিদ্যমান না থাকতেন তবে আমি কখনো’ই তোমাদের ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবানকে বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতাম না, কারণ এই যে শক্তি’টি সর্বাবস্থায় বিদ্যমান, সেই শক্তি বিষয়ে অবশ্যই আমি নিশ্চিত রয়েছি, যদি এটি নিশ্চিত শক্তি না হতো, তা হলে আমি এর পশ্চাৎ পরে থাকতাম না৷
তোমাদের মনে রাখা উচিত, কখনো নিশ্চিতকে ছেড়ে দিয়ে অনিশ্চয়তার পিছনে ছুটে সময় নষ্ট করা ঠিক নয়, বোকারা স্বর্গ লোভী হয়ে দূরাগত কাল্পনিক কোনো স্বর্গ-জান্নাত নামক জিনিষকে আয়ত্ত করতে চাইছে, অথচ এই সংগ্রামে যারা মেতেছে তাঁরা আর কখনো’ই স্বরূপে ফিরে আসতে পারেনি, তাই তোমাদের উচিত সমস্ত বস্তু মোহকে বিসর্জন দেওয়া, হোক তা একালের বা পরকালের।
ধার্মিকজনারা তোমরা শ্রেষ্ঠ কুলে জন্ম গ্রহণ করেও যদি দাসত্বের প্রাচীর ছেদ করে নিজেকে বিকশিত করতে না পারো তবে এ শ্রেষ্ঠ জন্মের ফল কি? তোমার বিকাশ ঘটাতে যদি তোমার ধর্ম তোমাকে বাধা দেয় তা হলে সে ধর্মপূজা কার জন্য? জহরে যদি অমৃত থাকে তবে সেই জহর পান করে নিও, আর ভক্ষন দ্রব্যাদিতে যদি অশুদ্ধ নিঃশ্বাসও লাগে তবে সে ভক্ষন দ্রব্যাদিকে অবশ্যই ত্যাগ করিও৷
লেখা- বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ






