সনাতন হলেই কি হিন্দু?

সনাতন হলেই কি হিন্দু?

সনাতন ধর্মের অনুসারী হলেই হিন্দু হবেন তা নয়, সনাতন সংস্কৃত ভাষা যার বাংলা অর্থ নিষ্ঠাবান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আমরা মনে করি হিন্দু, প্রকৃত অর্থে তার হিন্দু নয়? তবে কে হিন্দু ও কারা হিন্দু? তার আগে “সিন্ধু” শব্দের অর্থ জানার প্রয়োজন, সিন্ধু শব্দের অর্থ – সমুদ্র। প্রভূর করুনায় যিনিই কামনার সিন্ধু অতিক্রম করিয়াছেন তিনিই হিন্দু! যায় ভিতরে কামনা বাসনা বহমানা অবিরত, তিনি হিন্দু বহিঃভূত! যার মধ্যে “মোহ মায়া” বহমান, সরল-সহজ ভাষায় তিনি হিন্দু নয়। লোক মুখে সনাতন ধর্মাবলম্বীর কথা শুনলেই মনে হয় হিন্দু!

সনাতন কি? কারা সনাতন?

সনাতন সংস্কৃত শব্দ যার বাংলা অর্থ নিষ্ঠাবান, আপনাকে বলছি! আপনি কতটুকু নিষ্ঠাবান? লোক দেখানো নিষ্ঠাবান সমাজে হাঁড়ি হাঁড়ি দেখা যায়, প্রকৃত নিষ্ঠবান হলেই আপনি সনাতন ধর্মাবলম্বী হবেন। আপনি ই ভাবুন, আপনি হৃদয়ে কতটুকু সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েছেন, আগে সনাতন ধর্মাবলম্বী হোন তারপর নিজেকে হিন্দু ভাবুন।

সনাতন সাধারণত ৩ (তিন) প্রকার।
যথাক্রমেঃ- (১) জন্মগত, (২) দলগত, (৩) অনুগত।

(১) যাদের পিতা মাতা সনাতম, সনাতন পরিবারে জন্মগ্রহণ করছেন, তারা জন্মগত সনাতন।

(২) সনাতন সমাজের নিধারিত রীতি অনুস্মরন করে, সামাজিক যোগাযোগ রীতিমতো মেনে ভিন্ন ধর্ম থেকে এসে সনাতন ধর্ম গ্রহন করে থাকেন, তাদেরকে দলগত সনাতন।

(৩) সনাতন ধর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ঞ্জানের অধিকারি যেমন- মনি ঋষি সাধু (বরপ্রাপ্ত) এমন গুরুর নিকট ধিক্ষা গ্রহন তথ আনুগত্য গ্রহন করেছেন তিনি হলেন “অনুগত” সনাতন । সাধারণত আনুগত্যের ধিক্ষা গ্রহন করতে এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না।

জন্মগত ভাবে সনাতন:

পিতা মাতা দাদা দাদি তথা পিত্রীকুল ও মাতৃকুল উভয় কুল ই সনাতন ধর্মাবলম্বী, তারা জন্মগত ভাবে সনাতন বলে যেনে এসেছি। জন্মগত ভাবে সনাতন পরিচয়ের আধিকারি বলেই তারা জন্মগত সনাতন। পিত্রীকুল ও মাতৃকুল সনাতন ধর্মের লোক হলে জন্মগত সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়।

দলগত ভাবে সনাতন:

দলগত সনাতন ধর্মের অনুসারী তারা, যারা সমাজিক ভাবে সনাতন পদ্ধতিতে পূজা আর্চনা সহ নানাবিধ সৃজিত আচার-আচরণ মেনে চলে এবং ভিন্ন ধর্ম থেকে এসে সনাতন ধর্মের রীতি অনুস্মরন করে বা মেনে চলে তারা ই দলগত সনাতন। দলগত সনাতনদের মধ্যে অবস্থানের পার্থক্য আছে।

যেমন:- তারা বহুবিধ বস্তু বা রূপের পূজা আর্চনায় বিশ্বাস করে। সমাজের গন্ডির মধ্যে যে সকল পরহিত আছেন তাদেরকে দিয়ে পূজা আর্চনা না করালে আপন সমাজ থেকে বহিষ্কার বটে, সনাতন দলের সঙ্গে মিলেমিশে স্বরচিত(পরহিত কতৃক নীতি) রীতি রেওয়ায মেনে থাকা লোকজনকে দলগত সনাতন বলা হয়।

অনুগত ভাবে সনাতন:

অনুগত সনাতন ধর্মাবলম্বী এখন তেমন একটা দেখা যায় না, দলগত ও জন্মগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাপটে অনুগত সনাতন বিলুপ্ত প্রায়, এখন সবাই লোক দেখানো পূজা আর্চনায় মগ্ন। সনাতন ধর্ম সম্পর্কে পরিপূর্ণ ঞ্জানের অধিকারি যেমন- মনি ঋষি সাধু (বরপ্রাপ্ত) এমন গুরুর নিকট ধিক্ষা গ্রহন তথা আনুগত্য গ্রহন করেছেন তিনিও সনাতন। গুরুর নিকট ধিক্ষা নিয়ে ইশ্বর কে হৃদয়ে ধারনের শিক্ষাকে অনুগত শিক্ষা বলে, অনুগত সনাতন ধর্মাবলম্বী না হলে, নিজেকে হিন্দু ভাবা উচিত নয়।

যেমন অনুগতদের হতে হয় এমন:- “The will of God is my will, I have no will, God exists in everything.” অনুগতহীনের অভাবে এখন আর প্রকৃত হিন্দু নেই। তারাই অনুগত যাদের মধ্যে মোহ মায়া লালসা নেই বা কাম সিন্ধু অতিক্রম করিয়াছেন সে ই প্রকৃত হিন্দু।

ইশ্বর সহায় হোক সকলের তরে-
জন্মগত ও দলগত সনাতন ধর্মাবলম্বীগন, প্রতিমা বিসর্জ্জন ও প্রতিমা স্থপন এবং লোক দেখানো পূজা আর্চনা নিয়ে থাকে। ন্যায় ধৈর্য প্রেম সর্বময় গোপনে ই সম্ভব। ইশ্বর মানুষের মধ্যে বিরাজমান। তাই ইশ্বরের প্রেমে মজিতে হইলে অনুগত হওয়া জরুরি।

ইতিকথা:
আমরা কথা গুলো কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে লক্ষ করে নয়, আমি আমার মনের ভেতর থেকে অনুধাবন করেছি, মানব কুল ই সর্বাত্তম। হিংসা বিদ্বেষ নিপাত যাক, মানবতা ও মানুষের জয় হোক।

– নিরন্ন আশ্রম

আরো পড়ুনঃ