তুমি কী আজও তোমার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছো?

তুমি কী আজও তোমার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছো?

এ দুনিয়াতে তুমি এসেছো কত বছর পার হয়ে গেলো, তুমি কী আজও তোমার জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছো? নাহ, আমার মনে হয় তুমি কখনো তোমার জীবনের মানে অনুসন্ধান করতেও যাওনি এবং বুঝতেও চাওনি কেন তোমার এখানে আসা!

কি দায়িত্ব রয়েছে তোমার উপরে। আমি তোমাকে বহু অবান্তর ভাবনায় থাকতে দেখেছি, দেখেছি অপরের বিষয় নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকতে। তুমি এমন হাজারো ভাবনা করে যাও যে বিষয়ের সাথে তোমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অপরের বিষয় নিয়ে ভাবনা, অপরের বলা কথা তোমার মাথায় নিয়ে তুমি নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছো, যা তোমার জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করে দিচ্ছে।

আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, তুমি তোমার ভাবনাগুলোকে বাস্তবতার নিরিখে বিচার বিশ্লেষণ করে দেখার চেষ্টা করো, যদি নিজেরা নিজেদের ভাবনাগুলোর বিচার বিশ্লেষণ করে দেখতে সক্ষম হও তাহলে দেখবে যে তোমাদের অধিকাংশ ভাবনা’ই থাকে উদ্দেশ্যহীন ও অর্থহীন।

তোমাদের উচিৎ কোনো কিছু নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হওয়ার আগে সে বিষয়ের উপর প্রাথমিক ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নিজেকে একাধিক প্রশ্ন করা। যেমন- আমি যা করতে যাচ্ছি, আমি যে বিষয় নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হতে চাচ্ছি সে বিষয়ের সাথে আমার জীবনের সম্পর্ক কী? এই ভাবনার বিষয় গুলো আমাকে আমার জীবনের মানে খুঁজতে কতটুকু সাহায্য করতে পারে? আমার জীবনের সাথে এ বিষয়ের কতটুকু নিগূঢ় তাৎপর্য রয়েছে?

নিজেকে এসব প্রশ্নসমূহ করা অবস্থায় তুমি অবশ্য’ই খেয়াল রাখবে যে তোমার চিন্তায় মগ্ন হওয়ার কারণ জানার জন্য যেন এই প্রশ্ন নিয়ে’ই আবার অবান্তর চিন্তায় মগ্ন হয়ে না যাও। এজন্য’ই চিন্তায় মগ্ন হওয়ার কারণ খুঁজবে আর খুব সহজ সরলভাবে উত্তর নেয়ার চেষ্টা করবে।

সব সময় চিন্তার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় কে এড়িয়ে যাবে, এক- তোমার চিন্তাগুলো যেন আপন সুখের জন্য না হয় অপরের ক্ষতি করে। দুই-তোমার চিন্তা যেন যৌনতাকেন্দ্রিক না হয়। যা কিছু তোমার জীবনের সাথে নিগুঢ় ভাবে জড়িয়ে আছে তা নিয়ে’ই তুমি চিন্তায় মগ্ন থাকতে পারো। জীবনের মানে খুঁজে পেলে সকল কর্মের জবাব নিজে’ই নিজের কাছে পরিস্কার ভাবে পেয়ে যাবে।

লেখা: বুদ্ধ মুহাম্মদ কৃষ্ণ

আরো পড়ুনঃ