কাবায় শরিয়ত, হেরাগুহায় মারেফত।
মহানবি জগতবাসীকে আল্লাহর ঘর কাবাটির পরিচয় করিয়ে দিলেন। কাবার মরতবা জানিয়ে দিলেন। অথচ মহানবি কাবা শরিফে ধ্যান-সাধনার মোরাকাবাটি করলেন না। ধ্যান-সাধনার মোরাকাবাটি জাবালুন পর্বতের আড়াই হাজার ফিট উঁচুতে এক অন্ধকার মহানির্জন হেরাগুহায় করতে গেলেন। মহানবির এই পনের বছরের ধ্যান-সাধনাটি কি প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ না সুন্নত? এই কথাটি আমরা আলেমদের মুখে শুনতে পাই না? কেন আলেমেরা বলেন না যে, মহানবির মতো একবার কম করে হলেও কিছুদিন ধ্যান-সাধনাটি করা উচিত? আরও মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর ঘর কাবা শরিফে কোরান নাজেল হয়নি।
কোরান সর্বপ্রথম নাজেল হয়েছে মহানির্জন একটি অন্ধকার গুহায়, যাহা ভূপৃষ্ঠ হতে আড়াই হাজার ফুঁট উঁচুতে। আবার সেই পবিত্র কোরানটি নাজেল হয় রমজান মাসে। এসব ঘটনা মহানবির জাহেরি নবুয়ত পাবার আগের ঘটনা। এটা সবাই কমবেশি জানে। রমজানের রোজা রাখার ব্যবস্থাপত্রটি তো নবুয়ত পাবার পর দেওয়া হলো। তাহলে রমজান মাসে কোরান নাজেল হবার রহস্যটি কোথায়? তারপর আরও একধাপ এগিয়ে বলা হয়, কদর রাত্রিতে কোরান নাজেল হয়েছে।
অবশ্যই কোরান কদর রাত্রিতে নাজেল হয়েছে। তাহলে কদর রাত্রি বলতে কী বুঝায়? কদর অর্থ যদি শক্তিশালী রাত্রি হয় তাহলে শক্তিশালী বলতে কী বুঝায়? সব রাত্রিই তো সমান, কিন্তু শক্তিশালী রাত্রিতে কোরান নাজেল হবার গোপন রহস্যটি বলতে কী বুঝায়? বলা হয়েছে শক্তিশালী কদর রাত্রিতে কোরান নাজেল হয় তথা বর্তমান কালের তথা প্রেজেন্ট ইনডেফিনিট টেন্সে কেন বলা হলো? কেন বলা হলো না যে, কদর রাত্রিতে কোরান নাজেল হয়েছিল তথা অতীত কালটি তথা পাস্ট ইনডেফিনিট টেন্সটি কেন ব্যবহার করা হলো না?
এই শক্তিশালী তথা কদর রাত্রিটি কি কোনো আধ্যাত্মিক শক্তিশালী রাত্রি? নৈসর্গিক রাত্রি কেমন করে শক্তিশালী হয়? নৈসর্গিক রাত্রিতে ঝড়-তুফান, সুনামি, হারিকেন, টর্নেডো আর ভূমিকম্প হলেও তো সেই বিশেষ রাত্রিটিকে আজ পর্যন্ত কেউ শক্তিশালী রাত্রি বলে না বা বলার কোনো রেওয়াজ দেখতে পাই না? তাহলে এই কদর তথা শাক্তিশালী রাত বলতে কী বুঝাতে চেয়েছে? গবেষণা করুন, নিরপেক্ষ হয়ে গবেষণা করুন।
ফেরকাবাজির সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে গবেষণা করুন, এই কদর রাত্রি বলতে কী বুঝানো হয়েছে। গোঁজা মিলের উত্তরটি আর চাই না। বহু গোঁজামিলের বাহারি কথা শুনেছি। তবে একটি কথা পাঠক বাবাদের জানিয়ে দেওয়া কর্তব্য মনে করলাম আর সেটা হলো, শাহ্ সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতীর সুরা কদরের ব্যাখ্যাটুকু পড়ে দেখতে পারেন। হয়ত কদর রাত্রির রহস্যটি কী তা কিছুটা হলেও জানতে এবং বুঝতে পারবেন বলে আশা করি।
সূত্র: মারেফতের গোপন দর্শন,
চেরাগে জান শরীফ বাবা জাহাঙ্গীর






